শহরের নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্যানিটেশন সুযোগ অপ্রতুল

আসাদ মনি
সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ, শহর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও লবজান চৌধুরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ওয়াশরুমের অপ্রতুলতা রয়েছে। ওয়াশরুমের সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। এছাড়াও রয়েছে ফ্ল্যাশ বক্স’র সংকট। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলেছেন ওয়াশরুমের সংখ্যা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ, শহর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও লবজান চৌধুরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতি বছর হাজারও শিক্ষার্থী ভর্তি হন। লোকমুখে এই প্রতিষ্ঠানের সুনামের জন্য প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষায় মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করান অভিভাবকরা।
জেলায় মেয়েদের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের প্রতিষ্ঠান সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ। এই কলেজে বিভিন্ন উপজেলা থেকে পড়তে আসে মেয়েরা। বর্তমানে প্রায় ২৫০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত এই প্রতিষ্ঠানে। শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য ৪ টি ব্লকে মোট ৭ টি ওয়াশরুম আছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় ওয়াশরুম যথেষ্ট নয় বলছেন কর্তৃপক্ষ। ওয়াশরুমের সংকটের কারণে ছাত্রীরা একধরনের মানসিক চাপের মধ্যে থাকে। এতে করে ব্যাহত হচ্ছে তাদের শ্রেণিতে মনোযোগ ধরে রাখা।
মঙ্গলবার এসব প্রতিষ্ঠানে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে মোট ৭ টি ওয়াশরুম আছে। একাডেমিক ভবনের ৩ তলার ওয়াশরুম ব্লকটিতে টাইলসযুক্ত থাকলেও নেই ফ্ল্যাশের ব্যবস্থা। দীর্ঘদিন ধরে ফø্যাশবক্স অকেজো হয়ে আছে। ১ তলা ও ২ তলার ওয়াশব্লকগুলোতে টাইলস করা নেই। ফ্ল্যাশবক্সগুলো নষ্ট হয়ে কাগজে ভরপুর হয়ে আছে। এছাড়াও প্রশাসনিক ভবনের নিচ তলায় শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে একটি ওয়াশরুম। এটিতেও নেই টাইলস ও ফ্ল্যাশবক্স।
এবিষয়ে অধ্যক্ষ পরাগ কান্তি দে বলেন, ওয়াশরুমের সংখ্যা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এছাড়া কলেজে প্রায় সবসময়ই ডিগ্রি ও অনার্সের পরীক্ষা থাকে। পরীক্ষার্থীরা ফ্ল্যাশবক্সে কাগজ রাখে। আমাদের বর্ধিত ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত স্যানিটেশনের ব্যবস্থা আছে। তবে আমরা ওয়াশরুম পরিষ্কার রাখি না।
এদিকে, শহর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়েও রয়েছে ওয়াশরুমের সংকট। মোট ১৮০০ শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র ৫ টি ওয়াশরুম। তাও দুটি’র দরজা ভাঙা রয়েছে। এখন শিক্ষার্থীদের ৩ টি ওয়াশরুম দিয়ে কাজ চালাচ্ছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে শহর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাছিমা রহমান বলেন, আমাদের মেয়েদের ব্যবহারের জন্য ৫ টি ওয়াশরুম আছে। এগুলোর মধ্যে ২ টির দরজা ভেঙে গেছে। দ্রুত আমরা এগুলোর মেরামত করবো। তবে ৫ টি ওয়াশরুম যথেষ্ট নয়। মেয়েদের উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থার জন্য আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
লবজান চৌধুরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মোট ৫৩৯ জন শিক্ষার্থী আছে। শিক্ষার্থীদের জন্য মাত্র ৩ টি ওয়াশরুম রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওয়াশরুমগুলো অপরিষ্কার। ৩ টি ওয়াশরুমের ২ টির ফø্যাশবক্স অকেজো।
এবিষয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুল ছত্তার বলেন, আমাদের ওয়াশরুমের সংকট আছে। তবে একাডেমিক ভবনের উপরে আরো ২ তলা নির্মাণ কাজ চলছে। নির্মাণ কাজ শেষ হলে ২ টি ওয়াশব্লকে আরো ৬টি ওয়াশরুম হবে।
তিনি আরো বলেন, তবে আমরা প্রতিদিন ওয়াশরুম পরিষ্কার করি। ফ্ল্যাশবক্স ভালো ছিলো কিছুদিন পূর্বে ২ টি অকেজো হয়েছে। ২ টিতে নতুন ফ্ল্যাশবক্স লাগাবো।