শহরে কোটিপতি নারী নিখোঁজ, আটক আসামীর কাছে ২৫০ পিস ইয়াবা

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ শহরের নতুনপাড়া আবাসিক এলাকা থেকে ধনাঢ্য মহিলা রিপা বেগম রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হবার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ বৃহস্পতিবার দুপুরে আরেকজনকে আটক করেছে। আটককৃত ব্যক্তির নাম তকবির হোসেন (২৬), সে সুনামগঞ্জ শহরতলির সোনাপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে। আটককৃত তকবিরের প্যান্টের পকেটে ২৫০ পিস ইয়াবা পাওয়া গেছে। পুলিশ ধারণা করছে সে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। এই নিয়ে রিপা বেগম নিখোঁজের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৩ জনকে আটক করা হলো।
ঘটনার পর নিখোঁজ রিপা’র ভাই মোস্তাক আহমদ বাদী হয়ে ১০ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামী দিয়ে থানায় মামলা করেছিলেন। পুলিশ এর আগে শহীদ আবুল হোসেন রোডের আলাউদ্দিন মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া এবং সুনামগঞ্জ শহরতলির সুরমা নদীর উত্তরপাড়ের রবি মিয়ার ছেলে উজ্জ্বল মিয়াকে আটক করে ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জিন্নাত জানান, রিপা খানম নিখোঁজের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার সাত নম্বর আসামী তকবির হোসেন। তাকে বৃহস্পতিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ কালেক্টরেটের সামনের সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক থেকে আটক করা হয়। এসময় তার পকেটে ২৫০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।
প্রসঙ্গত. সুনামগঞ্জ শহরতলির সদরগড় (সুরমার উত্তর পাড়ে গ্রাম) গ্রামের মৃত গোলাপ আলী ও আজিজুন নেছার বড় মেয়ে রিপা বেগম। গোলাপ আলী’র ৫ মেয়ে ও ২ ছেলের মধ্যে ৩ মেয়ে ও ১ ছেলে প্রতিবন্ধী। প্রতিবন্ধী ভাই বোনের মমতায় সংসার করা হয়নি নিখোঁজ রিপা’র। ২০১০ সালে বাবা গোলাপ আলী মারা যাবার পর বাবার টাকা দিয়ে অর্থলগ্নি’র (দাদন ব্যবসা) ব্যবসা করতে থাকেন তিনি। ভাই-বোনদের প্রতিবন্ধী স্কুলে পাঠানোর জন্য ৪ বছর হয় নতুনপাড়ার ভাড়া বাড়ীতে ওঠেন রিপা।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে রিপা বেগমকে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তিন তলা বাড়ীর ওই ইউনিট (রিপা বেগমের ইউনিট) থেকে পানি বের হচ্ছে দেখে অন্য ভাড়াটিয়ারা পুলিশে খবর দেন। খবর পয়ে থানার সাবইন্সপেক্টর প্রদীপ চক্রবর্তী ওই বাড়ীতে যান।
পুলিশ বাড়ীতে গিয়ে বাইরে থেকে লাগানো তালা ভেঙে প্রতিবন্ধী একটি মেয়েকে খাটের উপর বসা পায়। এসময় বাসার ভেতরের সকল পানির টেপ খোলা ছিল। পুরো মেঝেতে পানি জমে বাইরে বের হতে থাকে।
পরে নতুনপাড়ায়-ই অন্য বাড়ীতে ভাড়া থাকা রিপা বেগমের ভাই মোস্তাক আহমদের কাছে ওই প্রতিবন্ধী মেয়েটিকে সমঝে দেওয়া হয়।
নিখোঁজের দিন রিপা বেগমের ৩ প্রতিবন্ধী ভাই বোনসহ আম্মা (আজিজুন নেছা) গ্রামের বাড়ীতে (সদরগড়ে) গিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলার বাদী মোস্তাক আহমদ জানান, আটক তকবির হোসেন তার বোনের কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা ঋণ নেবার তথ্য তাদের কাছে আছে। সে বালু-পাথরের ব্যবসা করতো শুনেছি।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল্লা আল মামুন জানান, তকবির হোসেনের পকেটে ২৫০ পিস ইয়াবা পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার বিকালেই তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।