শহরে নববর্ষের কেনাকাটা কম

আকরাম উদ্দিন
শহরের বিভিন্ন মার্কেটের দোকানপাটে নববর্ষের জামা-কাপড়ের তেমন কেনাকাটা নেই। তবে ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানগুলোতে আছে সস্তা দামের জামা-কাপড়ের কেনাকাটা। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে নেই কৃষকদের মাঝে নববর্ষের আমেজ।
শনিবার বিকালে শহরের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে ক্রেতাদের উল্লেখযোগ্য ভিড় দেখা যায়নি। কোনো কোনো মার্কেটের ২/১ টি দোকান ঘর ছাড়া পুরো মার্কেট ক্রেতা শূন্য দেখা গেছে। পুরাতন জজ কোর্ট এলাকায়, পৌরবিপণির সামনে পথের ধারে দুই একটি অস্থায়ী দোকানে নববর্ষ লেখা গেঞ্জি, পাঞ্জাবী, ফ্রগ, হাফ প্যান্ট কিনতে কিছু মানুষের জটলা দেখা যায়। ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকায় বিভিন্ন স্থানের অস্থায়ী দোকানে এবং মধ্যবাজার এলাকায় লিলি মার্কেটে কয়েকটি দোকানে ছিল ক্রেতাদের ভিড়। ইউনাইটেড প্লাজা, আফাজ মার্কেটে, হাবিব বক্স কমপ্লেক্সে ও সাধনা মার্কেটে ছিল না ক্রেতাদের ভিড়। এহছান মার্কেটে সামান্য ভিড় ছিল ক্রেতাদের। সুরমা মার্কেটের বিভিন্ন গার্মেন্টেসে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়নি। মার্কেটের প্রথম সারির ৪-৫ টি দোকানে ছিল ক্রেতাদের ভিড়। স্টেশন রোড এলাকায় দোজা শপিং সেন্টারের বিভিন্ন দোকানে উল্লেখযোগ্য ক্রেতাদের ভিড় ছিল না। ক্রেতা শূন্য ছিল লতিফ প্লাজার প্রায় সব ক’টি দোকান ঘর।
ব্যবসায়ীরা জানান, ছোটদের জামা ১ শত টাকা থেকে শুরু করে সাড়ে ৩শত টাকা পর্যন্ত, বড়দের পাঞ্জাবী ৩ শত টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত, শাড়ি ৪ শত টাকা থেকে ৬ শত টাকা পর্যন্ত। এবার ক্রেতাদের পছন্দের গ্রামীণ চেক শাড়ি এসেছে বাজারে।
ক্রেতাদের ভিড় জমে উঠতে দেখা গেছে নেইল পালিশ, মেহেদী, আলতা, ¯েœা, পাউডার, পারফিউমের দোকানে। আবার কয়েকটি জুতার দোকানেও ভিড় জমে উঠতে দেখা গেছে ক্রেতাদের।
নববর্ষ উপলক্ষে শহরের মাছের বাজারে ইঁলিশের দাম ছিল প্রতি কেজি ১ হাজার ৭ শত টাকা থেকে ২ হাজার ২ শত টাকা। গরুর মাংস ছিল প্রতি কেজি ৫শত টাকা।
এদিকে গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজারে নববর্ষের আমেজ লক্ষ্য করা যায়নি। শনিবার দুপুরে দোয়ারাবাজার উপজেলার পান্ডারগাঁও বাজার, মঙ্গলপুর বাজার, সদর উপজেলার বেতগঞ্জ বাজারে নববর্ষের জামা-কাপড় কেনাকাটায় ক্রেতাদের উৎসাহ নেই। নেই নববর্ষকে ঘিরে তেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা।
শ্রীপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান বলেন,‘ধান এখনও হাওরে, খরায় ধানে চিটা হয়েছে। এখন দারুণ চিন্তায় আছি।’
বেতগঞ্জ বাজারের পাশ^বর্তী বাসিন্দা কৃষক আল আমিন বলেন,‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ কাটিয়ে ধান ঘরে তোলার চিন্তায় আছি। নববর্ষ নিয়ে আনন্দ করার মন আমাদের নেই।’
ব্যবসায়ী মঙ্গল রায় বলেন,‘এবারও জামা কাপড়ের দাম অনেকটা কম। কিন্তু ক্রেতারা আসছেন না। পুরো মার্কেট ক্রেতা শূন্য।’
ব্যবসায়ী বিমল রায় বলেন,‘নববর্ষের বেচাকেনা যে এমন হবে, তা ভাবতেও পারিনি। এবার মহিলাদের পছন্দের গ্রামীণ চেকের শাড়ি ও এনেছি।’