শহরে সুরমার ভাঙন অব্যাহত

স্টাফ রিপোর্টার
শহরের পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় আবারো ভয়াবহ নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। এক মাস আগে থেকে নতুনভাবে এ নদী ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
লঞ্চঘাটের ফেরিঘাট থেকে শুরু করে পুরাতন জেল রোডের ফেরিঘাট হয়ে সবজিবাজার পর্যন্ত এ ভাঙন পরিলক্ষিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদী ভাঙন প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এলাকাবাসী জানান, লঞ্চঘাটের নদী ভাঙনে লঞ্চযাত্রীসহ পথচারীরা চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চযাত্রীরা পন্টুনে উঠানামা করছেন প্রতিনিয়ত। গত বছর বালুর বস্তা ফেলার পর মাত্র কয়েকদিন পুলিশ ফাঁড়ির সামনের রাস্তায় চলাচল করেছিলেন মানুষজন।
এখন পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় আবারো ভাঙন দেখা দিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমানের বাসার সামনে এবং অ্যাড. নুরুল ইসলামের বাসার সামনে নদী ভাঙন প্রকট আকার ধারণ করেছে। আগামীতে আরও ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিতে পারে বলে আশংকা স্থানীয়দের।
ওই এলাকায় ইতিমধ্যে কয়েকটি দোকানপাট নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন এলাকায় নদীর তীরে ঝুঁকিপূর্ণভাবে কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি অফিসের স্পীডবোট বেঁধে রাখা হয়েছে। এদিকে জেল রোডের ফেরিঘাটের পাকা সিঁড়িটিও বিলীন হয়েছে সামনের অংশটুকু। সবজির বাজারের কিছু অংশ এখন নদীতে বিলীন হয়েছে। ফেরিঘাটে পুরো সিঁড়ি এবং সবজির বাজার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
ইব্রাহীমপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. মনাফ মিয়া বলেন, ‘পুলিশ ফাঁড়ি এলাকা ভেঙে এখন সবজির বাজার পর্যন্ত ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি দোকানঘর ভেঙে পড়েছে নদীতে। এ ভাঙনের জরুরি প্রতিরোধ দরকার।’
ফেরিঘাটের ইজারাদার আনোয়ার মিয়া বলেন, ‘ফেরিঘাটের সিঁড়ির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। যাত্রী যাতায়াত সিঁড়ি    নির্মাণ দেরি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।’
লঞ্চঘাটের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে লঞ্চঘাটের ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এখনও ভাঙন প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এতে লঞ্চযাত্রী ও পথচারীদের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে।’
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মীর মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘পুরাতন জেইলরোড এলাকায় ফেরিঘাটের সিঁড়ি নির্মাণের দরপত্র হয়েছে। কাজের জন্য ঠিকাদারও নিয়োগ হয়েছে। জরুরিভিত্তিতে কাজ শুরু হবে।’



আরো খবর