শহর বাঁচাতে হলে খালগুলোকে উদ্ধার করতে হবে

জেলা শহরের প্রধান ৫টি খাল উদ্ধারের জন্য সুনামগঞ্জ পরিবেশ আন্দোলন নামের একটি সংগঠন জেলা প্রশাসকের নিকট বুধবার স্মারকলিপি দাখিল করেছেন। যে খালগুলো উদ্ধারের জন্য সংগঠনটি দাবি তুলেছে সেগুলো হলো- ধোপাখালী খাল, বলাইখালি খাল, কামার খাল, তেঘরিয়া খাল ও বড়পাড়া খাল। সুনামগঞ্জ শহরের একদিকে সুরমা নদী আর তিন দিকেই হাওর। শহরের পানি এইসব খাল দিয়ে নদীতে প্রবাহিত হয়। আবার নদীর পানি বাড়লে এই খালগুলোই নদীর অতিরিক্ত পানি হাওরে নিয়ে ফেলে। সুতরাং খালগুলো ছিল শহরের পানি প্রবাহের রক্তনালি স্বরূপ। শহর তৈরি হওয়ার পর থেকেই এই প্রধান খালসহ শহরজুড়ে বেষ্টিত খাল-নালাগুলো দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে শহরকে জলাবদ্ধতা, বন্যা প্রভৃতির হাত থেকে রক্ষা করত। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে শহরের সবগুলো খালই অবৈধ দখলিকরণের শিকার হয়েছে। যে পাঁচটি খাল উদ্ধারের দাবি তোলা হয়েছে সেগুলোও অবৈধ দখল হয়ে গেছে। শহরের অন্যান্য খাল-নালাগুলোরও একই অবস্থা। এ কারণে শহরের পানি ঝুঁকি বেড়ে গেছে। বৃষ্টি হলেই শহরের এখানে-ওখানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। গত সপ্তাহের প্রবল বর্ষণে পুরো শহর হঠাৎ করে জলমগ্ন হয়ে যায়। শহরের এমন কোন সড়ক ছিল না যেগুলোতে পানি উঠেনি। অতীতে এরকম ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা যায়নি। একদিনের অতি বর্ষণে এমন ভয়ানক জলজটের কারণ হিসাবে অভিজ্ঞ ও বয়স্করা বলছেন, শহরের খালগুলো মরে যাওয়ার কারণেই এ বিপাক। খালের পরিবর্তে ছোট ছোট যে ড্রেন তৈরি করা হয়েছে সেগুলো প্রয়োজনের তুলনায় নেহায়েৎই অপ্রতুল এবং বিদ্যমান ড্রেনগুলো ময়লায় পরিপূর্ণ হয়ে থাকায় এগুলো পানি ধারণ ও প্রবাহ করার সক্ষমতা হারিয়েছে। এরকম বাস্তবতায় এই শহরের পানি নিষ্কাশনের জন্য আমাদের পুরাতন প্রাকৃতিক উপায়গুলোর নিকট ফিরে যাওয়া ছাড়া কোন গত্যন্তর নেই। সুতরাং খাল উদ্ধারের দাবি জানিয়ে পরিবেশবাদী সংগঠনটি একটি ভাল কাজ করেছে।
দখল হয়ে যাওয়া খাল উদ্ধার করা সহজ কাজ নয়। বহু খালের উপর স্থায়ী স্থাপনা পর্যন্ত গড়ে উঠেছে। দিনের পর দিন ধরে সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে দখলিকরণ প্রক্রিয়া সবগুলো খালকে গিলে খেয়েছে। তাই যদি খালগুলো উদ্ধার করতে হয় তাহলে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। সারা দেশব্যাপী এখন দখলের শিকার নদী, খাল ইত্যাদি উদ্ধার অভিযান চলছে। ঢাকার বুড়িগঙ্গা তীরকে দখলমুক্ত করতে বড় বড় স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিতে দেখেছি আমরা। এই শহরের পুরোনো খালগুলোকে উদ্ধারের জন্যও এমন শক্ত পদক্ষেপের দিকেই এগোতে হবে। আমরা জানি, কামারখাল দখলকারীদের তালিকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রয়েছে। তাই প্রথমেই কামারখাল উদ্ধারের দিকে অগ্রসর হওয়া যায়। একইসাথে অপরাপর খালগুলো কাদের দখলে রয়েছে সেই তালিকাও প্রণয়ন করা উচিত। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে এই উদ্যোগে পৌরসভাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। দখলিকৃত খাল উদ্ধারে সর্বস্তরের শহরবাসীর সমর্থন রয়েছে। প্রশাসনের দায়িত্ব হলো দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো এখানে দখল মুক্ত করার অভিযান পরিচালনা করা। সকলেই বিশ্বাস করেন দখলিকৃত খালগুলো উদ্ধার করা গেলে শহরটি অহেতুক জলাবদ্ধতার কবল থেকে মুক্ত হবে। একইসাথে এই খালগুলোই শহরের সৌন্দর্য বর্ধনে সহায়ক হবে।
খাল উদ্ধার প্রক্রিয়ায় শহরের সকল রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে উচ্চকণ্ঠ হতে হবে। প্রবলভাবে এই দাবি উত্থাপন করা গেলে প্রশাসনের জন্যও কাজটি শুরু করতে সহায়ক হয়। তাই পরিবেশ আন্দোলনসহ শহরের সকল সংগঠনের নিকট আমাদের অনুরোধ আপনারা দখল হয়ে পড়া খাল উদ্ধার করার দাবিতে সোচ্চার হোন।