শহীদ কৃপেন্দ্র দাসের স্মৃতি কি হারিয়ে গেছে?

সোহেল তালুকদার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে সুনামগঞ্জ থেকে পিছু হটতে শুরু করে পাকহানাদার বাহিনী। ৬ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ পাকহানাদার মুক্ত হয়। পাকবাহিনী পালানোর সময় রাজাকার কমান্ডার ছাত্তার মিয়ার সহযোগিতায় বীর মুক্তিযোদ্ধা তালেব উদ্দিন, কৃপেন্দ্র দাসসহ নাম না জানা আরও একজন মুক্তিযোদ্ধাকে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের আহসানমারা ফেরী ঘাটে হাত-পা বেঁধে গুলি করে হত্যা করে নদীতে লাশগুলো ফেলে দেয়। পরে ১৩ ডিসেম্বর বিকৃত অবস্থায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা তালেব ও কৃপেন্দ্র’র লাশ দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার উজানীগাঁও গ্রামের পাশে ভেসে উঠে।
খবর পেয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকার লোকজন জয়কলস উজানীগাঁও রশিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্বে ও উজানীগাঁও জামে মসজিদের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে একইস্থানে তাদেরকে একসাথে সমাহিত করেন। দেশ স্বাধীনের পর বিজয়ের ৪৫ বছর ধরে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ও পেশাজীবি, রাজনৈতিক সংগঠন তাদের স্মরণে প্রতি বছরের ১৫ই ডিসেম্বর এই শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এবারও উপজেলা প্রশাসন তাদের চিঠিতে শহীদ তালেব ও কৃপেন্দ্র’র নাম উল্লেখ করেন।
তবে বাস্তবে সমাধিতে গিয়ে দেখা যায়, সমাধির পাশে শহীদ তালেব উদ্দিনের নাম থাকলেও সেখানে শহীদ কৃপেন্দ্র দাসের নাম নেই।
শুক্রবার বিকাল ৩ টায় উপজেলা প্রশাসনের বিজয় দিবস উদযাপনের কর্মসূচির অংশ হিসাবে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা তালেব উদ্দিন ও কৃপেন্দ্র দাসের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পন কর্মসূচি ছিল। ৩টার আগেই সবাই উপস্থিত। দেওয়া হয়েছে ফুল, করা হয়েছে মোনাজাত। একজনের নাম ফলকের বিষয়টি সাংবাদিক সোহেল তালুকদারের নজরে এলে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করেন।
এ সময় উপস্থিত থাকা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আতাউর রহমানও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে একই কথা বলেন।
পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হারুন অর রশীদ     উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডারকে বলেন,‘আপনি জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক মহোদয়কে লিখিতভাবে বিষয়টি অবগত করেন।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আতাউর রহমান বলেন,‘একটি চক্র ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করছে। আমি আশাবাদী প্রশাসন মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস পুনরুদ্ধার করবেন। আমরা জেলা কমান্ডকে সাথে নিয়ে এ বিষয়টি দেখব।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ মুক্তিযুদ্ধা চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্রের আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু বলেন, এটা ইতিহাস বিকৃত করার প্রয়াস। আমরা সবাই জানি এখানে একই সমাধিতে শহীদ তালেব উদ্দিন ও কৃপেন্দ্র দাসকে সমাহিত করা হয়েছে। এখন যদি কেউ এটাকে স্বীকার না করে একজনের নাম ব্যবহার করে তাহলে নতুন প্রজন্মকে বিকৃত ইতিহাস শেখানো হবে।’ তিনি বলেন,‘ ৬ ডিসেম্বর পাকহানাদার বাহিনী সুনামগঞ্জ ছেড়ে যাওয়ার সময় তাদের হাতে আটক ৩ জনকে আহসানমারা ফেরি ঘাটে গুলি করে হত্যা করে নদীতে ফেলে দিয়ে চলে যায়। পরে ১৩ ডিসেম্বর নদীর ¯্রােতে ভাসতে ভাসতে উজানীগাঁও গ্রামের পাশে বিকৃত অবস্থায় ২টি লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। পারে তারা এ দুজনকে একটি সমাধিতে সমাহিত করেন।’