শান্তিগঞ্জের বিভিন্ন অবকাঠামোতে ভাঙন/ বাস্তবায়নকারীদেরই দায় নিতে হবে

শান্তিগঞ্জের নবনির্মিত শহীদ স্মৃতিসৌধ ও সুবর্ণজয়ন্তী চত্বরটির নান্দনিকতা সকলের দৃষ্ট কেড়েছিলো। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের অংশ হিসাবে গত বছরের ৫ মার্চ ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলা পরিষদ কর্তৃক এই স্মৃতিসৌধ ও চত্বর নির্মাণ কাজ শেষ করা হয়েছিলো। শুক্রবার দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত এক সংবাদ থেকে জানা যায়, নির্মাণের বছর না পেরোতেই ওই চত্বরের একাংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফেটে গেছে চত্বরের অনেকটুকু জায়গা। এই ফাটল ধেয়ে আসছে মূল স্মৃতিসৌধ বরাবর। স্থানীয়রা বলছেন নি¤œমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে এই ফাটল তৈরি হয়েছে। বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলেছেন, উপজেলা পরিষদের সীমানা প্রাচীর হেলে পড়ায় চত্বরের ফ্লোরের ইটসলিংয়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। মহান স্বাধীনতার অমর স্মৃতি রক্ষার উদ্দেশ্যে নির্মিত এই স্মৃতিসৌধ চত্ত্বরে যে কারণেই ফাটল তৈরি হোক না কেন তা এককথায় নিন্দনীয়। একটি অবকাঠামো নির্মাণের আগেই এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার প্রকৌশলগত দিক বিবেচনায় নেয়া হয়। এই বিবেচনাবোধ এখানে প্রযুক্ত হয়নি, নিশ্চিতভাবেই বুঝা যায়। এটি হলে কোনো অবস্থাতেই নির্মাণকাজে নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হত না। সীমানা দেয়ালই বা হেলে পড়বে কেন? এই সীমানা দেয়াল বানানোর আগে কেন এর উত্তর দিকে মাটি ভরাট হল না? আসলে যে যেভাবে পারছে কাজ করছে। কোনো জবাবদিহিতা নেই। নিশ্চয়ই যেকোনো স্থাপনার নকশা প্রণয়নকালে এর একটি স্থায়িত্বকাল নির্ধারণ করা হয়। সেভাবেই প্রাক্কলন তৈরি হয় এবং ঠিকাদারকে তদনুরূপ মান নিশ্চিত করে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়। স্মৃতিসৌধ ও চত্বরের স্থায়িত্বকাল নিশ্চয়ই এক বছর নির্ধারিত ছিল না। তাহলে নির্মাণের এক বছর যেতে না যেতেই এই যে ফাটলের তৈরি হল যা ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে এবং একসময় পুরো স্মৃতিসৌধকেই ভেঙে ফেলতে পারে, এখন এর দায় কে নিবে? নকশা ও প্রাক্কলন তৈরিতে কোনো ত্রুটি থাকলে সে দায় প্রকৌশল কর্মকর্তাদের বহন করতে হবে। না থাকলে অবশ্যই বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ এবং ঠিকাদারকে সেই দায় বহন করতে হবে। সরকারি টাকায় আবার এই ফাটল মেরামত করার মধ্য দিয়ে অসৎ ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের দায়মুক্ত করার প্রচেষ্টা হবে তাদের অসততাকে সমর্থন, প্রশ্রয় ও সাহস জুগিয়ে যাওয়ার নামান্তর।
শান্তিগঞ্জে এর আগেও আহসানমারা সেতুসংলগ্ন শহীদ তালেবের স্মৃতির জন্য নির্মিত ভাষ্কর্য হেলে পড়েছিলো। উপজেলা পরিষদের সীমানা হেলে পড়ে। গতকাল দেখলাম অপরিকল্পিতভাবে নাইন্দা নদী খননের ফলে সুলতানপুর-হাটুপাড়া গ্রামের একটি পাকা সড়কের ৩ শ’ ফুট জায়গা ভেঙে পড়েছে। এসবই চরম অব্যবস্থাপনার পরিচায়ক। এলাকাবাসী বলেছিলেন নাইন্দা নদীর উত্তর পাশ ভরাট রেখে দক্ষিণ পাশে খনন করার জন্য। ঠিকাদার তাতে কর্ণপাত করেননি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এখন বলছেন, এই ভাঙনের সাথে নদী খননের সংশ্লিষ্টতা থাকলে ব্যবস্থা নিবেন। এখন কেন? খনন কাজের জন্য ঠিকাদারকে নিশ্চয়ই এলাইনম্যান্ট করে দেয়া হয়েছিল। ঠিকাদার কীভাবে তার ব্যতিক্রম করেন? কাজ চলাকালে যারা তদারক করেছেন তারা কেন বিষয়টি উপক্ষো করলেন? এলাকার লোকজন অভিজ্ঞতা থেকে যে সমাধানসূত্র দিয়েছিলেন প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রাকৌশলিক শিক্ষায় অভিজ্ঞ কর্মকর্তাগণ কেন আগে সেটি বুঝতে পারলেন না?
এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে সরকারি কাজের মানের বিষয়টি জনগণের কাছে সমালোচনার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারকা মাল দরিয়ামে ঢালার কোনো অবকাশ নেই। প্রতিটি টাকা জনগণের করের। এই টাকার যথেচ্ছ ব্যবহারের ক্ষমতা কাউকে দেওয়া হয়নি। তাই যাবতীয় বিচ্যুতির দায়ভার বাস্তবায়নকারীদের গ্রহণ করতে হবে। এই ব্যর্থতার দায় গ্রহণের জায়গা পোক্ত না করা পর্যন্ত এরকম হতেই থাকবে।