শান্তিগঞ্জে আ.লীগের তিন নেতার পদত্যাগ/ বললেন, ‘অযোগ্য কমিটি’ এজন্য পদত্যাগ করলাম

বিশেষ প্রতিনিধি
এক ঘণ্টার মধ্যেই নয় সদস্যের নতুন কমিটির তিন জন পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন। শান্তিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষে মঙ্গলবার রাতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কার্যকরি কমিটির নয় জনের নাম চূড়ান্ত করে গণমাধ্যমে প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠানোর পর এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। পদত্যাগকারীরা বললেন, ‘অযোগ্য কমিটি’ এজন্য পদত্যাগ করলাম। অন্যদিকে, নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাসনাত হোসেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী, ক্ষুব্ধ নেতাদের এমন দাবি কিছু অনলাইনে প্রকাশ হওয়ায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বুধবার সকালে আবার এই বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে পর্যালোচনা করেছেন। হাসনাত হোসেন বললেন, এটি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক প্রচারণা। ১০ বছর হয় উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আমি।
নতুন উপজেলা হবার পর সম্মেলন ছাড়াই সমঝোতায় হয়েছিল কমিটি। ওই কমিটিতেই চলে আট বছর। মঙ্গলবার ঘটা করে হয় উপজেলা সম্মেলন। রাতে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমনের স্বাক্ষরে শান্তিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের নয়া সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ নয় সদস্যের কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়।
কমিটির সভাপতি করা হয় সিতাংশু শেখর ধর কে, সহসভাপতি অ্যাড. বোরহান উদ্দিন দোলন ও গোলাম হায়দার, পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নানের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সচিব, শান্তিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক মো. হাসনাত হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুক মিয়া, মো. মাসুদ মিয়া ও মিজানুর রহমান জিতু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন ও নিহার রঞ্জন তালুকদার। নয় সদস্যের নাম ঘোষণা করে জানানো হয়, পূর্ণাঙ্গ কমিটি পরে ঘোষণা করা হবে।
কমিটির প্রেসবিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে পাঠানোর এক ঘণ্টা পরেই উপজেলা যুবলীগের সভাপতি অ্যাড. বোরহান উদ্দিন দোলন এবং সাবেক কমিটির সহসভাপতি মাসুদ মিয়া পদত্যাগ করলেন। পদত্যাগের আবেদন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালও হয়। যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান জিতুও পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে রাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কথা বলেন।
বোরহান উদ্দিন দোলন পদত্যাগের আবেদনে লিখেছেন, আমি যুবলীগের সভাপতি, যুবলীগের সম্মেলন করার আগে আওয়ামী লীগের কমিটিতে যুক্ত হতে চাই না।
মো. মাসুদ মিয়া বললেন, বিগত কমিটিতে আমি সহসভাপতি ছিলাম, এখন দেওয়া হয়েছে দুই নম্বর যুগ্মসম্পাদক, আমার জুনিয়র কর্মী প্রথম সম্পাদক। আমি অসম্মান বোধ করছি, এজন্য পদত্যাগ করেছি। পদত্যাগের কপি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, জেলা সভাপতি, সম্পাদক ও দপ্তর সম্পাদককে দেওয়া হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক অ্যাড. নূরে আলম সিদ্দিকী পদত্যাগপত্র পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুটি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হবে। পদত্যাগকারী বোরহান উদ্দিন দোলন যুবলীগের সভাপতি, তিনি ওই পদেই থাকবেন। অন্যজন অসুস্থ্য আছেন বলে মন্তব্য করেন এই নেতা।
যুগ্ম সম্পাদক সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জিতু বললেন, আমি ছাত্রলীগ করে এসেছি। চিহিৃত কোন জামায়াত শিবিরের সঙ্গে আমি রাজনীতি করতে পারবো না। পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজ (বুধবার) রাতেই পদত্যাগ করবো। আপনার উধৃতি দিয়ে বিভিন্ন অন লাইনে নতুন কমিটির সম্পাদক শিবিরের কর্মী ছিলেন দাবি করা হয়েছে। এই মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বিষয়টি কেবল আমি নয়, দলের সবাই জানেন, এই মন্তব্যে আমার সমর্থন আছে।
এসব কড়া সমালোচনার জবাবে সাধারণ সম্পাদক হাসনাত হোসেন বললেন, আমি ১০ বছর হয় উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক। ছাত্রজীবনে সক্রিয়ভাবে কোন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। বাবা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ভোট আসলে নৌকার পক্ষে মিছিলে গেছি। ফেসবুকে আমাকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী উল্লেখ করে যে সদস্য ফরম ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে প্রচার করা হয়েছে। সেখানে আমার মায়ের নাম লেখা হয়েছে সুন্দরী বেগম। এখনকার একটা ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে। আমি যখন এসএসসি, এইচএসসি বা ডিগ্রি পরীক্ষা দেই। তখনকার ছবি এরকম ছিল না। যে কেউ আমার আগের ছবি দেখলে বুঝতে পারবেন। এটি কেমন কারসাজি। আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একটি চক্র বহুদিন হয় এই প্রচারণা চালাচ্ছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন বললেন, হাসনাত হোসেনকে নিয়ে বিতর্ক এবং বিভিন্ন অনলাইনে এই বিষয়ে সংবাদ হবার পর বুধবার সকালেই সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেনসহ আমরা সকলেই পর্যালোচনা সভা করেছি। সভায় ফেসবুকে ও অনলাইন গণমাধ্যমে প্রচার হওয়া হাসনাত হোসেনের ইসলামী ছাত্র শিবিরের সদস্য ফরম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা দেখেছি হাসনাত হোসেন’ এর মায়ের নাম ওখানে মোছা. জামিলা বেগমের স্থলে সুন্দরী বেগম লেখা হয়েছে। আগের ছবির সঙ্গেও এখনকার ছবির কোন মিল নেই। তাছাড়া হাসনাত হোসেন আট বছর হয় ওই উপজেলার কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। ১৫ বছর হয় এমএ মান্নানের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সচিব। আগে এসব বিষয়ে কেন লিখিত অভিযোগ হল না। এরপরও জোড়ালো কোন প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।