শান্তিগঞ্জে ধান তুলতে পেরে খুশি কৃষক

ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ
ক’দিন আগেও হাওরের খবর মানেই ছিলো শুধু শঙ্কা আর শঙ্কা। পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে হাওর রক্ষা বাঁধ ভেঙে ও পানি উপচে সুনামগঞ্জের ২০টি ছোট—বড় হাওরে পানি ঢুকে তলিয়ে গিয়েছিলো কয়েক হাজার কৃষকের পাঁচ সহস্রাধিক হেক্টর ধানী জমি। তবে শান্তিগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা মোটামুটি নির্বিঘ্নে ঘরে তুলেছেন সোনালী ফসল। উপজেলার বিভিন্ন হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে যাওয়ার একটা শঙ্কা তৈরি হলেও নদীর পানি কমতে থাকায় এবং কৃষক, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের পরিশ্রমের রক্ষা পেয়েছিলো হাওরগুলো। এ উপজেলার কিছু জায়গায় নদীর পাড় উপচে হাওরে পানি ঢুকলেও কৃষকরা সম্মিলিতভাবে কাজ করে তা রুখে দিয়েছেন। দু’একটি ছোট হাওরের কথা বাদ দিলে মোটামুটি শঙ্কাহীনভাবেই কষ্টের ধান ঘরে তুলতে পেরেছেন এ উপজেলার কৃষক—কৃষাণীরা। এতে খুশি কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, এ বছর ২২ হাজার ২২৫ হেক্টর ধান তোলার লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করেছিলো কৃষি বিভাগ। তাদের হিসাব অনুযায়ী ৭ মে পর্যন্ত লক্ষমাত্রা পূরণ হয়ে আরো ১০/২০ হেক্টর ধান বেশি তোলা হয়েছে। যেসব ধান শেষের দিকে রোপন করা হয়েছিলো তেমন কিছু ধান এখনো কাটা চলছে। তবে চিন্তার কোনো কারণ নেই, এখন পানি আসার কোনো আশঙ্কা নেই।
কৃষি বিভাগ জানায়, শান্তিগঞ্জের প্রত্যেকটা হাওর রক্ষা বাঁধ অক্ষত রয়েছে। ছোট ছোট দুটি হাওরে পানি প্রবেশ করেছে ‘ওভার ফ্লো’ হয়ে। এতে সর্বোচ্চ ৫০ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব জমি থেকেও কৃষকরা যতটুকু পারেন ধান সংগ্রহ করেছেন।
দেখার হাওরের কৃষক আবদুল জলিল জানান, নদীতে যে হারে পানি বাড়ছিলো মনের মাঝে ভয় ঢুকে গিয়েছিলো ধান তুলতে পারবো কিনা। আমি ৪ একর জমি চাষ করেছিলাম। সব ধান তুলে নিয়েছি। এখন মনটা খুব শান্তিতে আছে। আল্লাহর শুকরিয়া।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাজেদুর রহমান বলেন, আমরা এবছর যে লক্ষা মাত্রা নির্ধারণ করেছিলাম তা পূরণ হয়েছে। আরো বেশি ধান উৎপাদন হয়েছে। অনেক শঙ্কার মধ্য দিয়ে আমরা দিন পার করেছি। হাওর পাড়ে কৃষক, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন সহ সকলেই আন্তরিকভাবে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতা করেছেন। এজন্য শান্তিগঞ্জ কৃষি ডিপার্টমেন্ট কৃষকদের পক্ষ থেকে সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। এখনো কোনো জায়গায় সামান্য ধান কাটা হচ্ছে। এগুলো শেষের দিকে রোপন করা হয়েছিলো। পানিতে আমাদের উপজেলার সর্বোচ্চ ৫০ হেক্টর জমি হয়তো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার উজ্ জামান বলেন, আমাদের লক্ষমাত্রা পূরণ হয়েছে এতে আমরা খুশি। যাদের ধান পানিতে তলিয়ে গেছে তাদেরকে আমরা সহযোগিতা করবো।