শান্তিগঞ্জে বিদ্রোহী প্রার্থীদের জয়জয়কার

সোহেল তালুকদার, শান্তিগঞ্জ
শান্তিগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নিবার্চনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে। ৮টি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন ২ জন। আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন ৪ জন এবং বিএনপি স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন ২ জন। বিজয়ীদের মধ্যে কেউ টানামেয়াদে বিজয়ী হননি। তবে তাদের মধ্যে ২ জন সাবেক চেয়ারম্যান বিজয়ী হয়েছেন।
রবিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ শেষে রাতে বেসরকারি ভাবে উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে অনুষ্ঠিত নিবার্চনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ৮টি ইউপির মধ্যে ৬টিতেই আওয়ামী লীগের ভরাডুবি, এর মধ্যে ২টিতে বিএনপি ও ৪টিতে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
উপজেলা নিবার্চন অফিস সূত্রে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী জানা যায়, উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদুল ইসলাম ঘোড়া প্রতীকে বেসকারি ভাবে ৪ হাজার ৬০১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আমিনুর রশিদ আমিন চশমা প্রতীকে ৪ হাজার ১৫৩ ভোট পেয়েছেন। ঐ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সামছুল ইসলাম রাজা নৌকা প্রতীকে ২ হাজার ৮৩০ ভোট পেয়েছেন।
জয়কলস ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল বাছিত সুজন ঘোড়া প্রতীকে ৬ হাজার ৫০ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মো. মাসুদ মিয়া নৌকা প্রতীকে ৩ হাজার ৪৬২ ভোট পেয়েছেন। এই ইউনিয়নে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদুর রহমান আনারস প্রতীকে ৩ হাজার ৩৫৮টি ভোট পেয়েছেন।
পূর্ব পাগলা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মাসুক মিয়া আনারস প্রতীকে বেসরকারি ভাবে ৪ হাজার ২৫৪টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মো. রাশিকুল ইসলাম নৌকা প্রতীকে ৩ হাজার ৮২৬ ভোট পেয়েছেন। এই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা মো. আক্তার হোসেন চশমা প্রতীকে ২ হাজার ১৬৭টি ভোট পেয়েছেন।
পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী জগলুল হায়দার নৌকা প্রতীকে বেসরকারি ভাবে ৫ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এর আগে তিনি ঐ ইউনিয়ন পরিষদের ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এক মেয়াদে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আনারস প্রতীকে মো. নুরুল হক ৫ হাজার ১৪২ ভোট পেয়েছেন।
পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম রাইজুল নৌকা প্রতীকে বেসরকারি ভাবে ৪ হাজার ১৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটমত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোহাম্মদ মসফিকুর রহমান ঘোড়া প্রতীকে ২ হাজার ২৭ ভোট পেয়েছেন।
দরগাপাশা ইউনিয়নে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সুফি মিয়া চশমা প্রতীকে বেসরকারি ভাবে ৪ হাজার ৫৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এর আগে তিনি ঐ ইউনিয়ন পরিষদের ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এক মেয়াদে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নিকটতম প্রাতিদ্বন্দ্বী বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ নেছার আলম ঘোড়া প্রতীকে ৩ হাজার ৬৪০ ভোট পেয়েছেন। এই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনির উদ্দিন নৌকা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ২ হাজার ২১৬টি।
পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রাথী লুৎফুর রহমান জায়গীরদার খোকন চশমা প্রতীকে বেসরকারি ভাবে ২ হাজার ৫০৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো. নুর মিয়া ঘোড়া প্রতীকে ১ হাজার ৬৫৯টি ভোট পেয়েছেন। ঐ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোটরসাইকেল প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ৫৮৮টি ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট বেবাংশু শেখর দাশ নৌকা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৮৮৩টি।
শিমুলবাঁক ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী শাহীনুর রহমান আনারস প্রতীকে বেসরকারি ভাবে ৬ হাজার ৩৩৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান হাজী আব্দুল্লাহ চশমা প্রতীকে ৪ হাজার ৫৯ ভোট পেয়েছেন। ঐ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জিতু নৌকা প্রতীকে ৩ হাজার ২৫১টি ভোট পেয়েছেন।
উপজেলা নিবার্চন কর্মকতার্ মো. রেজাউল করিম জানান, শান্তিগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ সাধারণ নিবার্চনে জেলার সকল আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সকল কর্মকতার্দের সহযোগিতায় নিবার্চন কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নিবার্চন উপহার দিতে পেরেছেন। নিবার্চন অত্যন্ত সুন্দর ও উৎসবমুখর ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।