শাবি ক্যাম্পাসে দ্রুত শান্তি ফিরিয়ে আনুন

সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল থেকে জটিলতর আকার ধারণ করছে। বুধবার দুপুর থেকে যে ২৪ শিক্ষার্থী আমরণ অনশনে বসেছিলেন তাঁদের ১৫ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অনশন শুরুর পর ইতোমধ্যে আড়াই দিন পেরিয়ে গেছে। অনশনের মত চরম ঝুঁকিপূর্ণ কর্মসূচীতে যাওয়ার পরও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মনোবল একটুও ভাঙেনি বলে জানা যায়। বরং হাসপাতাল থেকে ফিরে এসে পুনরায় অনশন মঞ্চে বসেছেন এক শিক্ষার্থী। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা ঘরে ফিরে যাবেন না। অন্যদিকে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনকে এমন পরিস্থিতিতেও নির্বিকার অবস্থানে দেখা যায়। শিক্ষামন্ত্রী বা সরকারের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত সমস্যার সমাধানে কোন দিকনির্দেশনার দেখা মিলছে না। সবকিছু মিলিয়ে দেশের অন্যতম প্রধান এই বিশ^বিদ্যালয়টির অবস্থা এখন বেশ নাজুক পর্যায়ে চলে গেছে বলে বুঝা যায়।
চলমান আন্দোলনের গোড়ার সময়ে বেগম সিরাজুন্নেছা হলের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ওই হলের ছাত্রীরা। বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁদের দাবির প্রতি ন্যূনতম মনোযোগ ও সহনাভূতি দেখাননি। ফলে ওই হলের প্রাধাক্ষকে অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীরা গত ১৩ ফেব্রুয়ারি আন্দোলনে নামেন। আন্দোলনের এক পর্যায়ে সমবেত শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এর পর থেকেই আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করে এবং শিক্ষার্থীরা ভাইস চ্যান্সেলরের অপসারণের এক দফা দাবি নিয়ে মাঠে নামেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ছাত্রদের সাথে যোগাযোগ করে সমাধানের চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। এরপর শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দলকে আলোচনার জন্য ঢাকায় আহ্বান করেন। কিন্তু আন্দোলনকারীরা সাফ জানিয়ে দেন নিজেদের সতীর্থকে মৃত্যুর মুখে রেখে তাঁরা কোন আলোচনার জন্য ঢাকা যেতে রাজী নন। শিক্ষার্থীরা বরং ‘মাতৃসমা’ শিক্ষামন্ত্রীকে ক্যাম্পাসে আসার অনুরোধ জানান। শিক্ষামন্ত্রীর মুখ থেকে এখন পর্যন্ত দায়িত্বশীল কোন কথা শোনা যায়নি।
এখন প্রচ- শীত চলছে। এর উপর করোনা পরিস্থিতি প্রতিদিন অবনতিশীল। প্রচ- শীতে খোলা আকাশের নীচে অনশন করতে যেয়ে শিক্ষার্থীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে চলে গেছে। শিক্ষার্থীরা বয়সজনিত সহজাত আবেগ প্রবণতার কারণে নিজেদের জীবনকে তুচ্ছ গণ্য করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন। অথচ একটু সদিচ্ছা থাকলে শুরুতেই এই আন্দোলনকে প্রশমিত করতে পারত বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন। শিক্ষার্থীরা প্রথমে আকাশ-কুসুম কোন দাবি করেননি। নিজেরা হলে একটু ভালভাবে থাকার আকুতি জানিয়েছিল তাঁরা। হলে ভালভাবে থাকার জন্য শিক্ষার্থীদের আকুতি করতে হবে কেন? এটি নিশ্চিত করাই তো প্রশাসনের কাজ। এই স্বাভাবিক কাজ না করার কারণে লজ্জা পাওয়ার বদলে তারা শিক্ষার্থীদের প্রতি নির্মম হয়ে উঠলেন। পুলিশের আক্রমণের সময় এই শিক্ষকদের কাউকেই নিগৃহীত শিক্ষার্থীদের পাশে দেখা যায়নি। অথচ এরা নিজেরা শিক্ষার্থীদের অভিভাবক দাবি করেন। কী নির্মম পরিহাস!
যাই হোক কোন অবস্থাতেই আমরা আমাদের সন্তানদের বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসের উন্মুক্ত প্রান্তরে দিনের পর দিন অনশনরত অবস্থায় দেখতে চাই না। যেকোন কিছুর বিনিময়ে এই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরিয়ে আনতে হবে। শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব হলোÑ কোনরূপ কালবিলম্ব না করে, যুক্তি-তর্কের অবতারণা না ঘটিয়ে দ্রুত শাবি ক্যাম্পাসে ছুটে গিয়ে শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙানো। এজন্য প্রয়োজন হলে ভাইস চ্যান্সেলরকে যদি সরে যেতে হয় কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর জীবন ও ভবিষ্যতের জন্য তা মেনে নিতে হবে। হাজারো শিক্ষার্থীর চাইতে একজন ভাইস চ্যান্সেলর কখনও বড় হয়ে যেতে পারেন না। দ্রুত এই আন্দোলন থামানো না গেলে এর বিস্তৃত প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সরকারকে অতিশয় সজাগ-সতর্ক থাকতে হবে। স্ফুলিঙ্গ থেকে দাবানল তৈরি হওয়ার আগেই আমরা চাই শাবি ক্যাম্পাসে শান্তি ফিরে আসুক।