শালীর বিয়েতে না যাওয়ায় দুলা ভাইয়ের ওপর হামলা

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
শুক্রবার দুপুরে শালীর বিয়ে। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে দুলাভাই শাহ পাপনকে শ্বশুর বাড়ির পক্ষ থেকে দাওয়াত দিতে আসে এক ব্যক্তি। এতে পাপন আপত্তি জানায়। এক পর্যায়ে দাওয়াত দিতে আসা ব্যক্তি ফিরে যায়। ওইদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে পাপনের শ্বশুর পুনরায় দাওয়াত দিতে পাপনের বাড়িতে আসে। কিন্তু পাপন আবারও আপত্তি জানায়। এতে শ্বশুর হেকিম মিয়ার সাথে পাপনের বাকবিতন্ডা হয়। এরই জেরে কিছুক্ষণ পর পাপনের শ্বশুর বাড়ির লোকজন দেশীয় অস্ত্রসহ দলবল নিয়ে পাপনের ওপর হামলা চালায়। এ সময় পাপনের বসতঘর ভাংচুর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় রাতেই পাপনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বাদশাগঞ্জ বাজারের মসজিদ রোডে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে পাপন তার স্ত্রীর বড় ভাই শফিকুলসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ধর্মপাশা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
৮ বছর আগে সেলবরষ ইউনিয়নের খলাপাড়া গ্রামের হেকিম মিয়ার মেয়ে জহুরার সাথে পাপন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সাংসারিক জীবন ভালো চললেও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সাথে প্রায়ই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এসব দ্বন্দ্ব স্থানীয় গণ্যমান্যদের মাধ্যমে মীমাংসাও হয়েছে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে বিয়ের দাওয়াতকে কেন্দ্র করে পাপন তার শ্বশুরের সাথে তর্কে জড়ায়। পরে হেকিম মিয়ার নির্দেশে তার ছেলে শফিকুলসহ ১০/১২ লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে পাপনের বাড়িতে এসে পাপনকে গালমন্দ করতে থাকে। পাপন প্রতিবাদ করলে শফিকুল দা দিয়ে পাপনের মাথায় কোপ দেয়। এতে পাপনের মাথা মারাত্মকভাবে জখম হয়।
অভিযুক্ত শফিকুল তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘জেনে দেখুন সে (পাপন) আমার ওপরে কতবার হামলা করেছে। তার ওপরে হামলা হয়েছে এমনটি জানি না।’
ধর্মপাশা থানার ওসি মো. খালেদ চৌধুরী বলেন, ‘এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’