শাল্লার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মাঠ নেই

সুব্রত দাশ খোকন, শাল্লা
শাল্লার ১০৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই। এতে প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষার্থী খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত।
শাল্লার প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মোট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১০৭। এই ১০৭ টির কোনটিতেই খেলার মাঠ নেই। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ১৬ হাজার। হাতেগোণা ৫/৬টি বিদ্যালয়ে দৈনিক সমাবেশ করার মত এক চিলতে উঠোন আছে, বাকীগুলোতে তাও নেই। বিদ্যালয়ের বারান্দায়ই হয় দৈনিক সমাবেশ।
উপজেলার হরিনগর, নয়াহটি, শিবপুর, পোড়ারপাড়, সুখলাইন, বাহাড়া, মধ্যের হাটি, উজান যাত্রাপুর, যাত্রাপুর, তাজপুর, সুলতানপুর, ঘুঙ্গিয়ারগাঁও, ডুমরা, মুক্তারপুর, শেখহাটি, নাইন্দা, হরিপুর সহ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে সেগুলোর পাশে এমনকি কাছাকাছিও কোন খেলার মাঠ নেই। এক চিলতে জায়গার ওপর থাকা এসব বিদ্যালয়ের দৈনিক সমাবেশ করার মত জায়গাটুকুও পর্যন্ত নেই। সেখানে ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা মনমরা হয়ে সময় কাটায়।
বাহাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরবিন্দু দাস বলেন, তার বিদ্যালয়ে ১৪৮জন শিক্ষার্থীদের জন্য কোন খেলার মাঠ নেই। তাদের খেলাধুলায় অসুবিধা হচ্ছে।
এ বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছোটন কুমার দাস বলে, ‘মাঠের লাইগা খেলতে পারি না, খেলতে না পারলে কি মন ভালা থাকে ?’
আঙ্গারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি পিযুষ দাশ বলেন, ‘মাঠ না থাকায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খেলতে পারছে না। এতে প্রাণহীন হয়ে পড়ছে তারা।’
শাল্লা সরকারি ডিগ্রী কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তরুণ কান্তি দাস বলেন, খুদে শিক্ষার্থীদের দৈহিক গঠন ও মেধা বিকাশে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ, খেলাধুলা শিশুদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, শারীরিক, মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে এবং মুক্ত চিন্তার সুযোগ তৈরি করে। মাঠের অভাবে খেলতে না পারলে শিশুরা মনস্তাত্ত্বিকভাবে ঘরকুণো হয়ে পড়বে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দীন মোহাম্মদ বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ৩৩ শতক জায়গা হলেই একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সরকারি অনুমোদন মিলে। কিন্তু এখানকার প্রায় সব বিদ্যালয়ের স্কুলভবন এর জন্য গ্রামের মধ্যে ৫/৬ শতক জায়গা দিয়ে বাকী জায়গা হাওড়ের মধ্যে দিয়ে বিদ্যালয়ের অনুমোদন নিয়েছে। তাই কোন বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই। প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ থাকা উচিত। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাঠের ব্যবস্থা করার বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।