শাল্লার ফলাফল জেলার সেরা

বিন্দু তালুকদার
২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে জেলার সেরা হয়েছিল হাওরপাড়ের উপজেলা শাল্লা। শাল্লা ডিগ্রি কলেজের ফলাফল ছিল জেলা শহরের সরকারি দুইটি কলেছের চেয়েও ভাল।
এসএসসি পরীক্ষার ভাল ফলাফলের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে এবার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষাতেও (পিইসি) জেলার সেরা হয়েছে শাল্লা উপজেলা।
হাওরপাড়ের অবহেলিত এলাকার ভাল ফলাফলের ধারাবাহিকতায় খুশি এলাকার সবাই। অপরদিকে ধারবাহিকভাবে জেলার সবচেয়ে খারাপ ফরাফল করেছে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা।  
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার পিএসসি পরীক্ষায় শাল্লা উপজেলার মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২০৮৭ জন। বালক ৯৫৯ জন ও বালিকা ১১২৮ জন। কৃতকার্য হয়েছে ১৮৮১ জন, বালক ৮৫২ জন বালিকা ১০২৯ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ৫১ জন, বালক ৩৫ জন ও বালিকা ১৬ জনসহ। পাশের হার বালক ৯২.৪৯ ও বালিকা ৯২.৬৪।
শাল্লা উপজেলার গত বছরে পরীক্ষার্থী ছিল ১৯১৭ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২৭ জন, বালক ১৩ জন ও বালিকা ১৪ জন। গত বছরের চেয়ে এই বছর শাল্লা উপজেলার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও জিপিএ-৫
এর সংখ্যা ২৪টি বেড়েছে।
অপরদিকে জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পিএসসি পরীক্ষার ফলাফল গত বছরের ন্যায় এবারও খারাপ হয়েছে।
এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৩৯২০ জন, জিএপি-৫ পেয়েছে ২১ জন। বালক ১৩ ও বালিকা ৮ জন। গত বছর দক্ষিণ সুনামগঞ্জের মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৩৯৯৫ জন, জিএপিএ-৫ পেয়েছিল ২২ জন। গত বছরের ছেয়ে এবার ১টি জিপিএ-৫ কমেছে। পাশাপাশি জেলার সবচেয়ে কম জিপিএ-৫ এই উপজেলায়।
ফলাফল ধারাবাহিকভাবে খারাপ হওয়ার বিষয়ে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার রনসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মানিক লাল চক্রবর্তী বলেন,‘দারিদ্রতা, অভিভাবকদের অসচেতনতা, চলতি বছরে বোরো ফসলহানিসহ নানা কারণে এই ফলাফল হয়েছে। আমরা আগামীতে চেষ্টা করব ভাল ফলাফল অর্জন করতে।  ’
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বজলুর রহমান বলেন,‘ নানা কারণে ফলাফল বিপর্যয়ের রয়েছে। শিক্ষা অফিসার, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ সবার দায় রয়েছে। এর মধ্যে আনন্দ স্কুলের ফলাফল অন্যতম, এসব স্কুলের ফলাফল খুবই খারাপ করেছে। আমরা এই অবস্থার উত্তরণ ঘটানোর চেষ্টা করব ও ফলাফল বিপর্যয়ের কারণটি খতিয়ে দেখব। ’
শাল্লা উপজেলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক সুব্রত কুমার দাশ বলেন,‘শিক্ষকদের আন্তরিকতা, ছাত্র-অভিভাবকদের সমন্বয় ও শিক্ষা অফিসারের নির্দেশনায় আমাদের এই ভাল ফলাফল হয়েছে।’ তাঁর বিদ্যালয়ের ৫৯ পরীক্ষার্থীর সবাই পাশ করেছে, ১৩ জন এই বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে বলে জানান তিনি।
শাল্লা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার দ্বীন মোহাম্মদ বলেন,‘ আমরা ৩ জন অফিসার প্রতিনিয়ত বিদ্যালয়ের পাঠদানের বিষয়ে মনিটরিং করেছি। প্রতিটি বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণিতে বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা ছিল। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও খুবই আন্তরিক ছিল। তাই গত বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আমাদের ছাত্ররা ভাল ফলাফল অর্জন করেছে। ’
শাল্লা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ বলেন,‘ হাওরপাড়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা আশার আলো দেখিয়েছে। তারাই আগামীতে হাইস্কুল ও কলেজে ভাল ফলাফল অর্জন করে শাল্লার সুনাম বয়ে আনবে। ছোটদের বড় ফলাফলে আমরা অত্যন্ত খুশি। ’