শাল্লায় আতংক গ্রামে ফেরা মানুষদের নিয়ে

পি সি দাশ শাল্লা
শাল্লায় দেশের বিভিন্ন স্থান হতে বাড়ি ফেরা আপনজনদের নিয়ে প্রতি মুহুর্তে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর আতঙ্কে দিন কাটছে। সম্প্রতি ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্থান হতে গ্রামের বাড়ি আগতদের নিয়ে সব জায়গায় সমালোচনা হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে কলকারখানা বন্ধ করা হয়েছে। শহরের কর্মক্ষেত্রগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শহর থেকে মানুষ দল বেঁধে গ্রামে ফিরছে। এর ফলে করোনার ভয়াবহ আকার ধারন করতে পারে বলে গ্রামের মানুষজন মনে করছে। যারা গত ৩/৪ দিনে বাড়ি এসেছে তারা অবাধে চলাফেরা করছে। শহর ফেরত মানুষগুলো কোন রকম হোম কোয়ারান্টাইন না মেনে অবাধে চলাফেরা করার কারনে গ্রামে করোনা ঝুঁকি বাড়ছে। আইসিইইডিআর এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি করোনা শনাক্ত হয়েছে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলায়। সেই সব জায়গা হতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫০ জন লোক শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এসেছে এবং তারা কোন রকম হোম কোয়ারান্টাইন মানছেনা। অনেক গ্রাম থেকে ঢাকা ফেরত মানুষের তথ্য জানিয়ে শাল্লা উপজেলা কন্ট্রোলরুমে ফোন করে এবিষয়ে জানানো হচ্ছে।
গত ২ থেকে ৩ দিনে উপজেলার ঘুঙ্গিয়ারগাঁও, ডুমরা, মুক্তারপুর, মনুয়া, সহদেব পাশা, গ্রাম শাল্লা, আনন্দপুর, হবিবপু, উজানগাঁও, বড়গাঁও, ফয়জুল্লাহপুর, মার্কুলী, আদিত্যপুর, গোবিন্দপুর, আবদা, বাহাড়া, যাত্রাপুর, আছানপুর, পুটকা, নয়াগাঁও সহ বহুু গ্রামে খবর নিয়ে জানা যায় এই সব গ্রামে অনেকেই ঢাকা, নারায়নগঞ্জ ও গাজীপুর থেকে এসেছে। এদের অধিকাংশের খবর এখন পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন জানেন না। আবার যাদের খবর জানেন তাদেরকে শুধু হোম কোয়ারান্টাইনে থাকতে বলা হলে ও তাদের কোন নমুনা সংগ্রহ করা এখন পর্যন্ত হয়ে ওটেনি ।
এবিষয়ে রামপুর গ্রামের কৃপেশ সরকার বলেন, এখন যারা ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, ও গাজীপুর থেকে গ্রামে আসছে তাদের নিয়েই আমাদের বড় আতংক। কে কোন দিকে কি নিয়ে আসছে বলা যাচ্ছে না।
এসময় আনন্দপুর গ্রামের রুবেল দাস, সুজন দাস, প্রতাপ রায়, রতিন্দ্র রায় জানান এখন নিজের মানুষজনই আমাদের কাছে বড় আতংক। তারা আরো বলেন, টেলিভিশনে দেখি যে সব জায়গা লকডাইন করা হয়েছে সেই সব স্থান হতে এলাকার বিভিন্ন গ্রামে লোকজন আসছে। শুধু তাই নয় তারা এসে তাদের মত চলছে। কি যে হয় এই ভয়ের মধ্যে আছি। তাদেরকে হোম কোয়ারান্টাইনেে রাখার জন্য প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে তারা জানান।
শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, যারা ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর থেকে এসেছে তাদের কে আলাদাভাবে রাখতে পুলিশকে বলা হয়েছে। আমরা তাদের নমুনা সংগ্রহের কাজ করছি।
থানা অফিসার ইনচার্জ আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমারা শহর ফেরত মানুষগুলোকে হোম কোয়ারান্টাইন এ থাকতে বলেছি।যদি কেউ হোম কোয়ারান্টাইন না মানে তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মুক্তাদির হোসেন বলেন, তিনি এ বিষয়ে অবগত আছেন। যারা আসছে তাদেরকে অবশ্যই ১৪ দিন তাদের নিজ ঘরে অবস্থান করতে হবে। অন্যথায় আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।