শাল্লায় গৃহহীনদের তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম- তালিকাভুক্ত স্বচ্ছল ব্যক্তিদের বাদ দিন

রবিবারের দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে সরকারের গৃহহীনদের গৃহ প্রদান প্রকল্পের আওতায় শাল্লা উপজেলায় এক সম্পন্ন মহিলার গৃহের বরাদ্দ প্রাপ্তি এবং আরেক অতি দরিদ্রের বঞ্চিত হওয়ার বিষয়ে যে সচিত্র খবর প্রকাশিত হয়েছে সেটি পুরো চালচিত্রের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। এই একটি দৃষ্টান্ত থেকে অনুমান করা যায়, বর্ণিত প্রকল্পের আওতায় দরিদ্র গৃহহীনদের তালিকা প্রণয়নে ঠিক কতটা ন্যায্যতা বজায় রাখা হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদ ভাষ্য মোতাবেক জানা যায়, প্রতাপপুরের সম্পন্ন মহিলা ভবানী রানী দাসের নাম উঠেছে গৃহ বরাদ্দপ্রাপ্তদের তালিকায় কিন্তু হবিবপুরের পেঙ্গুর মিয়া যিনি কিনা নিতান্তই গৃহহীন ও দরিদ্র, তিনি আবেদন করেও একটি ঘরের বরাদ্দ পাননি। সংবাদের সাথে যে দুইটি ছবি প্রকাশ হয়েছে সেখানে ভবানী রানী দাসের বাড়িতে বিদ্যমান পাকা ঘরটি যেন সবাইকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে প্রশ্ন করছে, এই ঘরের মালিক কেন গৃহহীনদের বরাদ্দ পাবে? অন্যদিকে পেঙ্গুর মিয়ার বসত ভিটায় হালকা টিনের মাচা সদৃশ একটি বস্তু দেখা যায় যেখানে তিনি সপরিবারে বসবাস করেন। এই দুই বিপরীত চিত্রের বিষয়ে অভিযোগ উত্থাপিত হলে সরেজমিন তদন্তকালে সম্পন্ন ভবানী রীতিমত লজ্জাই পেয়েছেন বলে বুঝা যায়। সেসময় তিনি বলেছেন, ‘এই ঘর অন্য কোন গৃহহীন পেলে আমার আপত্তি নেই’। ভবানী হয়তো অবস্থার প্রেক্ষিতে মহানুভবতার পরিচয় দিতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু যারা তার নাম তালিকায় তুলেছেন তারা এর জবাব কী দিবেন? ভবানী কিংবা পেঙ্গুর মিয়ার কথা সংবাদপত্রে প্রকাশ হওয়ায় বিষয়টি জানাজানি হলো কিন্তু অন্তরালে এমন কত ভবানীর মতো ব্যক্তিরা এই তালিকায় নাম উঠিয়েছেন সেই খবর তো অন্ধকারেই থেকে যায়।
শাল্লায় এই প্রকল্পের আওতায় ৭২ ব্যক্তিকে জনপ্রতি এক লাখ টাকা খরচ করে একটি করে বসত ঘর বানিয়ে দিচ্ছে সরকার। এই ৭২ গৃহহীনের তালিকা তৈরির ব্যাপারে স্থানীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের জনৈক কর্মচারীর গণমাধ্যমে প্রদত্ত বক্তব্যটি বেশ প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলছেন সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা যারা যার নির্ধারিত কোটা মতে নামের তালিকা জমা দিয়েছেন। এই জায়গায় কারও আপত্তি নেই। কারণ জনগণের নিকট সকলেরই কিছু না কিছু প্রতিশ্রুতি থাকে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি ভুলে যদি প্রকল্পের নীতিমালার লঙ্ঘন করে সম্পন্ন ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করা হয় তখন তারা নিশ্চিতভাবেই অন্যায্য কাজ করেছেন। এটি তাঁদের পদের দায়িত্ব পালনকে কলুষিত করেছে। জনপ্রতিনিধিদের এরূপ বিভিন্ন সরকারি সুবিধাদি বণ্টনের জন্য তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি, কর্মীপ্রীতি, দুর্নীতি প্রভৃতি নানাবিধ অভিযোগ উঠে। ব্যাপকভাবে অভিযোগ রয়েছে যে, তারা ভোটের মাঠে বিরোধিতাকারীদের সামান্যতম সুযোগ সুবিধাও দিতে কুণ্ঠা বোধ করেন। নির্বাচিত হওয়ার পর জনপ্রতিনিধির কারও প্রতি বেশি অনুরাগ ও কারও প্রতি বিরাগ প্রদর্শন করার মত অনৈতিকতা কখনও কাক্সিক্ষত না হলেও বাস্তবে এরকমটিই হয়ে আসছে। এর মধ্য দিয়ে আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাটি ভীষণভাবে সমালোচনার সামনে পড়েছে। এই অবস্থা থেকে আশু উত্তরণ ঘটানো প্রয়োজন।
শাল্লায় গৃহহীন দরিদ্র পেঙ্গুর মিয়া যাতে একটি ঘর পেতে পারেন এবং একই সাথে যে ৭২ ব্যক্তি এই প্রকল্পে ঘর পাচ্ছেন সেখানে ভবানীর মত আর কোন স্বচ্ছল ব্যক্তি আছেন কিনা সেটি খোঁজে তাদেরকে বাদ দিয়ে প্রকৃত গৃহহীনদের তালিকাভুক্তির জন্য আমরা স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।