শাল্লায় গৃহহীনের তালিকায় অনিয়ম

বিশেষ প্রতিনিধি
শাল্লায় এক গৃহহীন দরজায় দরজায় ঘুরেও ঘরের টাকা বরাদ্দ পাননি, কিন্তু সামর্থবান এক জনের নাম না চাইতেই গৃহহীনের তালিকায় ওঠেছে। বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সরেজমিনে গিয়েও এর সত্যতা পেয়েছেন।
জানা যায়, শাল্লা উপজেলায় সরকারের গৃহহীনদের গৃহ প্রদান প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলার চার ইউনিয়নে ৭২ টি ঘরের জন্য নগদ এক লাখ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। এই টাকায় গৃহহীনের গৃহ নির্মাণ শুরু হয়েছে। প্রায় ৬ মাস আগে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস থেকে এই গৃহহীনের তালিকা করা হয়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের একজন কর্মচারী জানালেন, তালিকা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস থেকে করা হলেও নাম দিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ৫ টা, স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি ১০ টা, তখনকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিক্ষকদের মাধ্যমে আরও কয়েকটা, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানও নামের তালিকা দিয়েছেন। তালিকা চূড়ান্ত করেন ওই সময়ের উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আম্বিয়া। পরে শাল্লার দায়িত্বপ্রাপ্ত দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলামের স্বক্ষর নিয়ে জেলা ত্রাণ অফিসে এই তালিকা পাঠানো হয়।
তালিকায় উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়নের প্রতাপপুর গ্রামের কালীচরণ দাসের স্ত্রী ভবানী রানী দাসের নাম ওঠেছে। অথচ. হবিবপুর ইউনিয়নের আনন্দপুর গ্রামের পেঙ্গুর মিয়া আবেদন করার পরও তার নাম ওঠেনি।
পেঙ্গুর মিয়া বলেন,‘গত বছরের কাল বৈশাখীতে আমার ঘর বিধ্বস্ত হয়েছিল। আমি এবং আমার স্ত্রী ৫ সন্তানের খাবার জোগানের জন্য বাড়ী বাড়ী কাজ করি। গৃহ নির্মাণের টাকার ব্যবস্থা করতে না পারায় এখনো ( ১৩ এপ্রিল’ ২০১৯ পর্যন্ত) তাবু’র মতো বানিয়ে বাস করছি। অনেকের কাছে গিয়েও আমি ঘর পাইনি। অথচ. এমনও শুনেছি যাদের ঘর আছে, তাদের নামও তালিকায় ওঠেছে। আমার ধারণা যারা ঘুষ দিতে পেরেছে, তাদের নাম তালিকায় ওঠেছে।’
শাল্লা প্রেসক্লাবের সভাপতি পিসি দাস বলেন,‘উপজেলার বর্তমান প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজিজুর রহমান বৃহস্পতিবার আমাকে সঙ্গে নিয়ে বাহাড়া ইউনিয়নের প্রতাপপুরের ভবানী রানী দাসের বাড়ী গিয়েছিলেন। ভবানী রানী দাসের সঙ্গে কথা বলে বুঝা গেছে, তিনিও গৃহহীন হিসাবে ঘর পাবার জন্য উদগ্রিব নয়।’
পিসি দাস জানান, ভবানী রানী দাস বলেছেন, ‘শুনেছি তালিকায় আমার নাম ওঠেছে। আমার যেহেতু ঘর আছে, তারা (উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস) হয়তো ঘর নাও দিতে পারেন, অন্য কোন গৃহহীন পেলে আমার আপত্তি নেই।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজিজুর রহমান বলেন,‘বাহাড়ার প্রতাপুরের ভবানী রানী দাসের ঘর আছে তবুও তার নাম গৃহহীনের তালিকায় ওঠেছে। এই তালিকা আমি শাল্লায় যোগদানের আগে হয়েছে। তার নাম বাতিল করা হবে।’
শাল্লার সাবেক উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আম্বিয়া এখন জেলার তাহিরপুর উপজেলায় কর্মরত রয়েছেন।
গৃহহীন পেঙ্গুর মিয়ার নাম তালিকায় গেলো না, অথচ. সামর্থবান ভবানী রানী দাসের নাম কীভাবে গেলো? এই তথ্য জানার জন্য মো. আম্বিয়া’র মুঠোফোনে চেষ্টা করলেও, তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়ায় কথা বলা যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মুক্তাদীর আহমদ বলেন,‘আমি শাল্লায় যোগদানের আগে এসব তালিকা হয়েছে। ভবিষ্যতে তালিকা সরেজমিনে যাচাই করে করা হবে। বিগত সময়ে কীভাবে এবং কারা এভাবে তালিকা করেছেন, তাও তদন্ত করে দেখা হবে।’