শাল্লায় জব্দ চাল নিয়ে চালবাজী

স্টাফ রিপোর্টার
শাল্লায় ৯৬ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার ও একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা জব্দের ঘটনায় চালবাজী শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, চাল উদ্ধার করলেও এই ঘটনার সাথে জড়িতদের কৌশলে ছাড় দিচ্ছেন শাল্লা থানার পুলিশ।
স্থানীয় লোকজন ও গণমাধ্যমকর্মীদের দাবি, নৌকা থেকে চাল উদ্ধারের সময় দুইজন মাঝি নৌকায় ছিলেন এবং তারা সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেছেন। মাঝিদের নৌকায় অবস্থান করা ও তাদের কথাবার্তার অডিও ভিডিও স্থানীয় সাংবাদিকরা সংগ্রহ করেছেন। এমনকি মোবাইল ফোনে নৌকার মাঝি আলম মিয়ার সাথে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের একজন প্রতিবেদকের মোবাইল ফোনে কথাও হয়েছে।
তবুও শাল্লা থানার ওসি দাবি করছেন, সরকারি চাল পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ও নৌকাটি জব্দ করা হয়েছে। তবে পুলিশের এসব বক্তব্য মানতে নারাজ স্থানীয় লোকজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৯৬ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধারের ঘটনা সংবাদপত্র ও টিভিতে প্রকাশিত হয়েছে। শাল্লা উপজেলা সদরের শতশত মানুষ প্রকাশ্যে দেখেছেন উপজেলা সদরের ব্যবসায়ী ফখরুল ইসলামের দোকানঘর থেকে সরকারি চাল নৌকায় তোলা হয়েছে। নৌকার দুইজন মাঝিও স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছেন চালগুলো ফখরুল ইসলামের ঘর থেকেই নৌকায় তোলা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ ক্ষমতাসীন কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নৌকা মাঝিদের আটক করেন নি। মাঝিদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই সবকিছু প্রকাশ হয়ে যেত। যার ঘর থেকে চাল নৌকায় তোলা হল তাকেও আটক করা হয়নি। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কাউকে আটক করা হয়নি। কারো বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
উপজেলার কান্দিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা একরামুল হক বলেন,‘ আমরা সাধারণ মানুষ নৌকার দুইজন মাঝিসহ সরকারি চাল নৌকায় দেখেছি। চাল উদ্ধার করা হলেও মাঝি বা কাউকে আটক করা হয়নি। ব্যবসায়ী ফখরুল ইসলাম ও হারুন মিয়া অনেক মানুষের সামনে বলেছেন, এসব চাল তাদের। কিন্তু প্রভাবিত হওয়ায় কাউকে আটক করা হচ্ছে না। ’
শাল্লার স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী জয়ন্ত সেন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন,‘সরকারি চাল উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ রহস্যজনক ভূমিকা পালন করছে। চাল উদ্ধারের সময় নৌকায় দুইজন মাঝি ছিল। এমনকি ওই মাঝিরা শনিবার দিনভর উপজেলা সদরে ঘুরাফেরা করলেও তাদের আটক করেনি পুলিশ। স্থানীয়রা নৌকার মাঝিদের আটক করে জিজ্ঞাসবাদ করার দাবি জানালেও পুলিশ কর্নপাত করেনি। ’
শাল্লা থানার ওসি মো. দেলোয়ার হোসেন রবিবার বিকালে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন,‘উদ্ধার করা চালগুলো সরকারি। সেগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। নৌকায় কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় লোকজন না জেনে অনেক কিছু বলছেন। চালগুলো আমিনুল ইসলাম নামের একজনের বলে জানা গেছে। বিষয়টি খাদ্য বিভাগ তদন্ত করে দেখছে।’
শাল্লা খাদ্য গোদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি,এলএসডি) আশিষ রায় বলেন,‘পুলিশের উদ্ধার করা চালগুলো সরকারি, এই চালগুলো স্থানীয় সংসদ সদস্যের দেয়া একটি কাবিখা প্রকল্পের। সেই প্রকল্পটি উপজেলার দামপুর গ্রামের পাকা রাস্তা থেকে ইসমাইল গনির জমি পর্যন্ত রাস্তা পুনঃনির্মাণ প্রকল্পের। এই প্রকল্পের পিআইসির সভাপতি আমিনুল ইসলাম। গত বৃহস্পতিবার (২৬ জুলাই) তিনি গোদাম থেকে চাল উত্তোলন করেছেন। তিনি আমাদের কাছে স্বীকার করেছেন এসব চাল তার।’
তবে ওই কাবিখা প্রকল্পের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বললেন ভিন্ন কথা। তিনি রবিবার বিকাল সাড়ে ৫ টায় দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন,‘আমার প্রকল্প বরাদ্দ ছিল ৬ টন। আমি একমাস (২৫/০৬/১৮ তারিখে) আগে গোদাম থেকে চাল নিয়েছি। আমার চালের বস্তা ছিল ৫০ কেজি ওজনের। পুলিশ যে চাল উদ্ধার করেছে সেগুলো ৩০ কেজি ওজনের ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির। গতকাল (শনিবার) যেসব চাল উদ্ধার করা হয়েছে, এই চালের বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’