শাল্লায় বাঁধের কাজ চলছে ঢিমেতালে

বিশেষ প্রতিনিধি
হাওরের তলানীর উপজেলা শাল্লার হাওররক্ষা বাঁধের কাজের উপর কিশোরগঞ্জের ইটনা-খালিয়াজুরির হাওরের ফসল রক্ষার বিষয়ও অনেকটা নির্ভরশীল। গুরুত্বপূর্ণ এই উপজেলার অনেক ঝুঁকিপূর্ণ ক্লোজারের বাঁধের কাজ এখনো সন্তোষজনকভাবে হয়নি। বাঁধের কাজের এমন ঢিমেতালে অবস্থায় চিন্তিত কৃষকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ভান্ডা বিলের হরিনগর বাঁধ, এই বিলের পাড়ের নোয়াগাঁওয়ের উত্তর পাশের নয়া জাঙালে নামে মাত্র মাটি পড়েছে। কাজের গতি দেখে চিন্তিত এখানকার কৃষকরা। এই উপজেলার বৃহৎ হাওর বরামের পাঠাখাউড়ী ক্লোজারের কাজে সন্তষ্ট নন স্থানীয়রা। উদগল হাওরপাড়ের নিয়ামতপুরের মধ্যবর্তী ক্লোজারে উত্তর পাশে কাজ শুরু হলেও দক্ষিণ পাশের ক্লোজারে কাজের গতি নেই একেবারেই।
শাল্লা উপজেলা সদরের দাঁড়াইন নদীর পাড়ের বাঁধ মূলত শাল্লা, ইটনা ও খালিয়াজুরিবাসীর সবচেয়ে বড় ছায়ার হাওরের ফসল রক্ষা করে। ওখানকার ডুমরা খেওয়াঘাটের পশ্চিমপাড়ের দুটি ক্লোজারের কাজ দেখলে যে কেউ হতাশ হবেন। কাজ দেখেই মনে হচ্ছে, পিআইসি’র লোকজন চরম অবহেলা করছেন বাঁধের কাজে। এই হাওরের উজানগাঁয়ের খালে বাঁধ নির্মাণ কাজেও গতি কম।
দিরাই, শাল্লা, জামালগঞ্জ ও খালিয়াজুরি উপজেলার কৃষকদের জমি রয়েছে কালিয়াকুটা হাওরে। এই হাওরের নিজগাঁয়ের উত্তরের ক্লোজারে মাটি পড়েছে নামেমাত্র। কালিয়াকুটার শর্মার খাল ও সিঙ্গার খালের বাঁধের কাজ নিয়ে অসন্তুষ্ট এলাকার কৃষকরা। কালিয়াকুটা হাওরের ৬৬ নম্বর ও ৮৮ নম্বর পিআইসির কাজেও গতি কম বলে জানিয়েছেন হাওরপাড়ের কৃষকরা।
শাল্লার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাউতির বাঁধেও বুধবার পর্যন্ত উল্লেখ করার মতো কাজ হয় নি।
দিরাইয়ের শ্যামারচরের কৃষক নেতা অমর চাঁদ দাস জানালেন, এবার বাঁধের কাজের গতি কম। মনিটরিং জোরদার না করলে বিপদের আশঙ্কা আছে।
শাল্লা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানও গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজারগুলোতে কাজের গতি আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করলেন।
সুনামগঞ্জ পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী (পওর বিভাগ-২) সফিকুল ইসলাম বলেন, কাজে গাফিলতি করার সুযোগ থাকবে না। বৃহস্পতিবার থেকে বাঁধে বাঁধে সরেজমিনে ঘুরবেন জেলা ও উপজেলা হাওররক্ষা বাঁধ বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির দায়িত্বশীলরা। শাল্লার কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাঁধে গত শনিবার পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রোখনোদৌলা সাহেব গিয়েও অসন্তুষ্ট হয়েছেন। কাজের গতি বাড়াতে এবং সঠিক সময়ে বাঁধের কাজ শেষ করতে প্রয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীরও সহায়তা চাইতে পারি আমরা।