শাল্লায় রোধ হচ্ছে না বাল্য বিয়ে

পি সি দাশ, শাল্লা
বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ না হওয়ার ফলে দিনের পর দিন এর প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে শাল্লায়। এতে করে উৎসাহিত হচ্ছে নাবালক ছেলে মেয়েরা। অথচ ২০১৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর শাল্লা উপজেলাকে বাল্য বিবাহ মুক্ত ঘোষণা করেন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. জামাল উদ্দিন আহমদ। এরপরও সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বাল্য বিবাহ সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে। এই বিষয়ে নেই কারও মাথা ব্যথা। কয়েকটি বাল্য বিয়ের বিষয়ে থানায় অভিযোগ করার পরও বাল্য বিয়ে হয়েই চলেছে। আর এই সব বেআইনি বিয়ের সাথে এলাকার একটি স্বার্থন্বেষী মহল সহযোগিতা করছে।
জানা যায়, আনন্দপুর গ্রামের আশা রানী দাস (১৪) কে পাশের রামপুর গ্রামের সৈকত দাস (২২) এর সাথে বাল্য বিয়ে দেওয়া হয়। এদিকে একই গ্রামের নীলিমা রানী দাস (১৭) কে নিখোঁজ বলে স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। এ বিষয়টি নিয়ে নীলিমার মা প্রণতী রানী দাস নাবালিকা মেয়েকে নিখোঁজ বলে গত ১৮ জুন তারিখে শাল্লা থানায় একটি জিডি করেন। পরে দেখা যায় এই নাবালিকা মেয়ে নীলিমা রানী দাসের সাথে আটগাঁও ইউপির দাউদপুর গ্রামের সঞ্জিত দাস (২২) এর বাল্য বিয়ে হয়েছে। এভাবে কয়েক দিন পুর্বে মুছাপুর গ্রামে ১৬ বছরের একটি মেয়ের বাল্য বিয়েসহ কয়েকটি বিয়ে সম্পন্ন করেছে স্ব স্ব এলাকার নামধারী সমাজপতিরা ।
শাল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘নীলিমা রানী দাসকে উদ্ধার করে তার মায়ের কাছে ফেরৎ দেওয়া হয়েছে। বাল্য বিয়ের বিষয়ে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে নীলিমা রানী দাসকে যার নিকট থেকে উদ্ধার করা হল সেই ব্যক্তিকে কেন আটক করা হল না, সে বিষয় নিয়ে এলাকায় আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। এলাকাবাসীর জোর দাবি বাল্য বিয়ে রোধকল্পে আইনের প্রয়োগ জরুরি। অন্যথায় বাল্য বিয়ের প্রতিকার অসম্ভব।