শাল্লায় হাওরের পানি নিষ্কাশনের খাল দখল, অনাবাদী শতাধিক একর জমি

বিশেষ প্রতিনিধি
শাল্লা উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নে হানকি ভাঙা হাওরের পানি নিষ্কাষনের খাল ভরাট হওয়ায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে শতাধিক একর জমিতে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ হাওরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মরা সুরমা নদী খননের মাটি হাওরের পানি নিস্কাশনের খালে ফেলায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসি বলছেন, হানকি ভাঙা হাওরে ঠিক সময়ে পানি নিষ্কাশন হয়। পানি নিষ্কাশনের জন্য কোন কাজের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু নদী খননের মাটি হাওরের নিচের দিকে খালে ফেলায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। খালের পাড়ের জমির মালিকরা মাটি ভরাট হওয়ায় খালও তাদের দখলে নিয়ে গেছে। এই কারণে অনাবাদী থাকছে অসংখ্য সাধারণ কৃষককের জমি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিটি হাওরেই পানি নিষ্কাশনের খাল আছে। এই হাওরেও খাল আছে। খালটি নদী খননের মাটি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। খালের পাড়ে যাদের জমি তাদের দখলে চলে গেছে খাল। এলাকাবাসী খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু দখলদাররা বাধা দিচ্ছে। এ কারণে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। শত শত কৃষকের জমি অনাবাদী থাকায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠছে।
হাওরপাড়ের শর্মা গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক বললেন, এই খালের দৈঘ্য প্রায় ৬০০ ফুট। হাওরের পানি বের হওয়ার পথে মাটি ভরাট হওয়ায় এই অংশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক মো. ইয়াহিয়া নামের একজন দখল করে আছে। তার জমি আছে ২৫ ফুটের মতো, কিন্তু দখল করে রেখেছে সরকারি আরও ২৫ ফুট।
একই গ্রামের কৃষক নুর মিয়া বলেন, আমার ২ কেয়ার জমি অনাবাদী এখনো। জলাবদ্ধতার জন্য রোপন করতে পারছি না। খালের পাশে ইয়াহিয়া নামের একজনের গর্ত ছিল,গর্ত ভরাট করতে গিয়ে খালও ভরে গেছে। এখন গর্তের সঙ্গে খালও তার দাবি করছে।
একই গ্রামের কৃষক কাজু মিয়া মিয়া বললেন, আমাদের বাপ দাদার আমল থেকেই দেখে আসছি এই খারা (খাল)। আমাদের বলেছে তার গর্ত ভরাট করে খারা করে দেবে। এখন দিচ্ছে না। আমরাও ধান চাষ করতে পারছি না।
দিরাইয়ের শ্যামারচরে বাসিন্দা কৃষক নেতা অমর চাঁদদাস বললেন, শত শত মানুষের উপকারের কথা চিন্তা করে ছোট ছোট ব্যক্তিগত স্বার্থ ছেড়ে দিতে হয়। এই হাওরের ২৫০ কেয়ার’এর বেশি জমি খালে পানি নিস্কাশন না হলে অনাবাদী থেকে যাবে। এতে গবীর কৃষকরা অসুবিধায় পড়বে।
খাল দখলের অভিযোগ সত্য নয় দাবি করে অভিযুক্ত মো. ইয়াহিয়া বললেন, আমি খারা (খাল) দখল করি নি। যারা অভিযোগ করেছে তারা বর্ষায় মাটি এনে ভরাট করেছে। এখন আমার ব্যক্তিগত জমি খনন করে তারা খারা করতে চায়। আমি সেটি বারণ করেছি। সরকারি খাল কে ভরাট করেছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি তাদের চেনেন না বলে জানিয়েছেন।
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল মুক্তাদির হোসেন বলেন, এরকম কোনো অভিযোগ আমি পাই নি। খোঁজ নিয়ে দেখছি বিষয়টি। কেউ হাওরের পানি নিস্কাশনের দখল করে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।