শাল্লায় ৬০ লাখ টাকার নৌ অ্যাম্বুলেন্স পানিতে নিমজ্জিত

পি সি দাস, শাল্লা
প্রধানমন্ত্রীর উপহারের দেওয়া ৬০ লাখ টাকার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আছে। সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য ২০১৮ সালের ২ সেপ্টেম্বর এটি প্রদান করা হয়েছিল। অযন্তে অবহেলায় থাকতে থাকতে এখন সেটি বন্যার পানিতে নিমজ্জিত। এর আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া আরেকটি ৩০ লাখ টাকার কাঠের অ্যাম্বুলেন্সও বিনষ্ট হয়ে গেছে। এখন সেটির অস্তিত্বও খুঁজে পাওয়া যায় না।
শাল্লা উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ গড়ে ওঠেনি এখনো। হাওরের তলানির এই উপজেলাবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৬০ লাখ টাকার এই অ্যাম্বুলেন্সটি দিয়েছিলেন সরকার।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলেছে, চালক না থাকায় ও পরিচালনা ব্যয়বহুল হওয়ায় নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়েছিল। সম্প্রতি হাওর ও নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি পানিতে ডুবে আছে।
হাওরের পানিতে ডুবে থাকা নৌ অ্যাম্বুলেন্সটির ছবি ইতোমধ্যে ফেসবুকে ব্যপকভাবে ভাইরাল হয়েছে।
শাল্লা উপজেলা সদরের বাসিন্দা রণজিৎ কুমার দাস বললেন, কয়েক বছর হয়েছে নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি উপজেলা হাসপাতালে আনা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও অবহেলার কারণে অ্যাম্বুলেন্সটি এখন পানিতে ডুবে আছে। অযতেœর কারণে নৌ অ্যাম্বুলেন্স এখন নষ্ট হওয়ার পথে।
শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সেলিনা আক্তার বললেন, আমি শাল্লায় নতুন যোগদান করেছি। যতটুকু জানতে পেরেছি নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি দীর্ঘদিন ধরেই অকেজো হয়েই পড়ে আছে। এই বিষয়টি সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনওকে অবগত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অ্যাম্বুলেন্সটি পানি থেকে তুলতে চেয়ারম্যান ও ইউএনও সাহেবকে অনুরোধও করা হয়েছে।
শাল্লা উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু তালেব বলেন, নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি গত ৪-৫ দিন ধরেই পানিতে পড়ে আছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অ্যাম্বুলেন্সটি তোলার জন্য আমাকে অনুরোধ করেছিলেন। পাঁচ দিন আগেই ১০ জন শ্রমিক পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু তারা এটি পানি থেকে তুলতে পারে নি। সোমবার উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভায় এই বিষয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দীর্ঘদিন এটি নিয়ে কেউ কথা বলে নি, যাদের দায়িত্ব তারাও উদ্যোগ নেয় নি। এখন সকলে উদ্যোগ নিয়ে এটি ওঠানো হবে।
সিভিল সার্জন ডা. আহমদ হোসেন বলেন, নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি উদ্বোধনের পর থেকেই বিকল হয়ে রয়েছে। এটি পানিতে ডুবে গেছে বলে জানা গেছে। নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি উদ্ধারের জন্য স্থানীয়ভাবে চেষ্টা চলছে। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন এটি উদ্ধারের চেষ্টা করছে।