শাল্লা ডিগ্রি কলেজে ২১ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার, নকলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখা প্রয়োজন

শাল্লায় এক দিনে একই সাথে ২১ ডিগ্রি পরীক্ষার্থীকে নকল করার অভিযোগে বহিষ্কার করার খবরটি উদ্বেগজনক। সাম্প্রতিক সময়ে যখন পরীক্ষায় নকল করার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গিয়েছে ঠিক সে সময়ে এক সাথে এত অধিক সংখ্যক পরীক্ষার্থীর বহিষ্কার এই সত্যই প্রমাণ করে শিক্ষাঙ্গন থেকে নকলের মতো খারাপ একটি প্রপঞ্চ দূর করা সম্ভব হয়নি বরং এটি বহাল তবিয়তেই অবস্থান করছে। ধরা হচ্ছে না বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে না এই যা। সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য মোতাবেক গত বুধবার শাল্লা ডিগ্রি কলেজে ডিগ্রির রাষ্ট্রবিজ্ঞান পরীক্ষা চলছিল। পরীক্ষা চলাকালে বেলা পৌনে এগারটায় কেন্দ্রে ঢুকেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রতিনিধি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা। তিনি নকল করায় রত ২১ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেন। কলেজের শিক্ষকরা বিষয়টি গোপন রাখার প্রয়াস করেন যেজন্য তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জানাজানি হয়নি। যে কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই খবরটি একদিন পরে সংবাদপত্রে ঠাই পেয়েছে। এ বিষয়ে হল সুপারের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক বিশ্বনাথ দাস সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘প্রতিষ্ঠানের স্বার্থেই বিষয়টি জানাজানি করতে দেয়া হয়নি’। শিক্ষক মহোদয়ের কথার যে অর্থ আমাদের মাথায় ঢুকেছে সেটি হলোÑ নকল করার সুযোগ অব্যাহত রেখে শুধু বিষয়টি গোপন করতে পারলেই যেন প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষিত হয়ে থাকে। সাথে সাথে এই সন্দেহও সকলের মনে প্রবলভাবে বদ্ধমূল হতে পারে যে, হয়তো প্রচ্ছন্নভাবে কলেজ কর্তৃপক্ষ এই নকল প্রবণতাকে উৎসাহিত করছেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে যখন ২১ শিক্ষার্থী নকলের দায়ে ধরা পড়ে তখন অপরাপর বিষয়ে যে তারা সাধু সেজে পরীক্ষা দিয়েছেন সেটি বিশ্বাস করতে সকলেই কষ্ট অনুভব করবেন।
জ্ঞানীরা বলেন, কোন জাতিকে ধ্বংস করতে হলে তাদের পরীক্ষা পদ্ধতির মধ্যে প্রতারণা ঢুকিয়ে দাও। তাতেই ওই জাতির মেরুদ- ভেঙে যাবে। বলাই বাহুল্য শিক্ষিক বরে পরিচিতরা যদি নকল বা অসদুপায় অবলম্বনের মধ্য দিয়ে ডিগ্রিপ্রাপ্ত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন তাহলে ওই জাতির মেধাগত ভিত্ তাসের ঘরের মতো ধ্বংস হয়ে যায়। তাই সকলেই পরীক্ষা ব্যবস্থাকে সব ধরনের অনাচারমুক্ত দেখতে প্রয়াসী হন। পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ লাগাতারভাবে গত কযেক বছর শোনা গেছে। পরীক্ষার্থী যদি আগেই প্রশ্ন পেয়ে যায় তখন তার মেধা যাচাইর অবকাশ থাকে কোথায়? স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘবছর আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ভীষণভাবে নকল প্রবণ ছিল। পরে বহু চেষ্টায় আমরা গণনকলের অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে পেরেছি। কিন্তু সেই অভিশাপ যে আবার গোপনে ফিরে আসছে শাল্লা ডিগ্রি কলেজের ঘটনা তার বড় প্রমাণ। এই ঘটনা আমাদের দারুণভাবে উদ্বিগ্ন করেছে।
বিষয়টিকে হারকা করে দেখার উপায় নেই। শাল্লা ডিগ্রি কলেজটি হাওর ভাটির একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সবে মাত্র প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ হয়েছে। এমন একটি প্রতিষ্ঠানে কেন ব্যাপকভাবে নকলের ঘটনা দেখা গেল সেই কারণ অনুসন্ধান করতে হবে। দেখতে হবে, কলেজ কর্তৃপক্ষ এই প্রক্রিয়াকে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করছেন কিনা। বাইরের একজন কর্মকর্তা গিয়ে কেন নকল ধরবেন? হল পরিদর্শকরা কেন একজন পরীক্ষার্থীূকেও ধরতে পারলেন না? এইসব প্রশ্নের প্রকৃত উত্তর জানতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নকলের মতো ভয়াবহ ব্যাধিকে চিরতরে নির্মূল করা মূলত জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক একটি সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাক্সক্ষা থেকেই উৎসারিত। এই জায়গায় আপোস করার কোন সুযোগ নেই। তাই শাল্লা ডিগ্রি কলেজের ২১ পরীক্ষার্থীর নকলের দায়ে ধরা পড়ার ঘটনাটি পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে খতিয়ে দেখতে আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ শিক্ষা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই।