শাল্লা ব্রীজের এপ্রোচ ১৩ লাখ টাকা লোপাটের চেষ্টা

সুব্রত দাশ খোকন, শাল্লা
শাল্লা উপজেলা সদরের পূর্বদিকের দাড়াইন নদীর উপর অবস্থিত শাল্লা ব্রীজের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের এপ্রোচ ভরাটে মাটির কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এখানে এপ্রোচের জন্য ৩০০ ফুট জায়গা ভরাটের জন্য ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। কিন্তু ঠিকাদার ২/৩ লাখ টাকার কাজ করে অবশিষ্ট টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানা যায়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন এপ্রোচের প্রাক্কলিত ৩০০ ফুটসহ আরও ৫০০ ফুট জায়গা ভরাট না করা হলে মূল সেতুর সাথে
সড়কের সংযোগ স্থাপিত হবে না। এ কারণে বর্ষায় অন্তত ১০/১৫ গ্রামের জনগণ শাল্লা সদর থেকে যোগাযোগ বিছিন্ন থেকে যাবে।
গত বুধবার সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (এস.ডি) নাজমুল ওয়াহেদ চৌধুরী এই কাজ পরিদর্শনে এলে কথা হয় এই প্রতিবেদকের সাথে। তিনি এপ্রোচের মাটি কাটার কাজ নামকাওয়াস্তে হয়েছে বলে স্বীকার করেন এবং যেটুকু হয়েছে তাও বাঁশের আড় ও চটের বস্তা ঠিকমত প্রতিস্থাপিত না হওয়াতে বর্ষার শুরুতেই ভেঙ্গে গিয়ে পূর্বের ন্যায় হয়ে যাবে বলে অকপটে স্বীকার করেন।
সড়ক সংস্কারের কাজ আরও ৪/৫শত ফুট বর্ধিত করলে মূল সড়কের সাথে সংযোগ হলে মানুষ জন পায়ে হেঁটে উপজেলা সদরে নির্বিঘেœ আসতে পারবে। সড়ক সংস্কার বর্ধিত করা যাবে কিনা এই প্রশ্নের উত্তরে নাজমুল চৌধুরী বলেন,‘ শুকনো মৌসুমের শেষ তারপরও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বলে বর্ধিত করার চেষ্টা করব। বরাদ্দ কত ? প্রশ্ন করলে উনি বলতে রাজী হন নি। তারপর এক পর্যায়ে বললেন আনুমানিক ১৩ লক্ষ টাকা হবে। শুনে তো উপস্থিত সবাই অবাক ! এত বরাদ্দ আর কাজের এই অবস্থা।
এর অর্ধেক টাকা দিয়েই তো ব্রীজ হতে মূল সড়কের দূরত্ব ৮০০ ফুটের সড়ক সংস্কারের কাজ ও সড়ক রক্ষার্থে বাঁশ ও চটের বস্তা দিয়ে আড় দেওয়া সম্ভব। এসব কথা উপস্থিত দর্শক উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীকে বললে উনি আমতা আমতা করে কোন উত্তর না দিয়েই ব্রীজের পশ্চিম পার্শ্বের এপ্রোচে চলে আসেন ।
মোটরসাইকেল চালক সমিতি শাল্লা শাখা সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে এই ব্রীজের এপ্রোচসহ মূল সড়কের সাথে সংযোগ সড়ক হয়। কিন্তু কোন নিরাপত্তা দেয়াল না দেওয়ায় গত বর্ষায় এপ্রোচসহ ব্রীজ থেকে পূর্বদিকের ৮০০ মিটারের সড়কের উপরের অংশ ভেঙ্গে যায়। মূল রাস্তা থেকে ব্রীজ অনেক উঁচুতে হওয়ায় এ বছর শুকনো মৌসুমের শুরুতে আমরা ভাড়ায় হোন্ডা চালানোর সুবিধার্থে নিজেদের টাকায় সাঁকো তৈরী করে তার উপর চটের মত করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীসহ মোটরসাইকেলে চলাচল করতাম। এখন শুকনো মৌসুমের শেষে বর্ষার প্রারম্ভে নামকাওয়াস্তে ব্রীজের এপ্রোচে কিছু মাটি ফেলে প্রকৌশলী ও ঠিকাদার মিলে টাকা মারার প্রজেক্ট দিয়ে আমাদের জনগণের কি লাভ ? কারণ যেভাবে কাজ হয়েছে তাতে আগামীতে আবারও আমাদের সেই একই অবস্থায় চলতে হবে।
কথা হয় উক্ত এপ্রোচের মাটি কাটার কাজ পাওয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আদর্শ এন্টারপ্রাইজের মালিক আনিসুর রহমান খানের সাথে। উনি বলেন,‘ড. জয়াসেনের অনুরোধে নির্বাহী প্রকৌশলী স্যার তার স্পেশাল বরাদ্দ থেকে কাজটা করাচ্ছেন। বরাদ্দের পরিমাণ জানাতে বার বার উনি অপারগতা প্রকাশ করেন। সাইন বোর্ড নাই কেন ? প্রশ্ন করতেই বলেন- ভাই নিউজ করে আমার ক্ষতি কইরেন না। ৩০০ ফুটকে বাড়িয়ে কিভাবে ৮০০ ফুট করা যায় সেই ব্যাপারে লিখেন, তাহলে আপনাদের এলাকার উপকার হবে।
কথা হয় এই এপ্রোচে মাটি কাটার অন্তত ২৫/৩০ জন মহিলা শ্রমিকের সাথে। তারা বলেন আমরা রোজে কাম করেছি। আমরা ঠিকাদারের ম্যানেজারের নিকট হতে ৩/৪ দাগে টাকা নিয়েছি। ধরেন প্রায় দেড় লক্ষ টাকার মত হবে। আর বাঁশ, বস্তা ও ড্রাম মিলিয়ে আরও আনুমানিক এক লক্ষ টাকা সর্বোচ্চ আড়াই লক্ষ টাকার কাজ করেছেন কন্ট্রাকটার।



আরো খবর