শাহ আরেফিন (রহ.) মোকামে বাড়ছে দর্শনার্থীর ভিড়

আকরাম উদ্দিন
সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের রংপুর কান্দিগাঁও এলাকায় হযরত শাহ আরেফিন (রহ.) মোকামে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। একই সাথে মোকাম পরিচালনা কমিটির দায়িত্বও বেড়েছে। প্রতিদিন একাধিক সদস্য দর্শনার্থীদের সাথে কথা বলা, তাঁদেরকে মোকাম এলাকা ঘুরে দেখানো, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও উন্নয়ন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা তাঁদের কাজ। দর্শনার্থীদের সুবিধা বা অসুবিধার বিষয়টিও সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখছেন মোকাম পরিচালনা কমিটির সদস্যরা।
বুধবার বিকালে মোকামে আগত একাধিক দর্শনার্থীর সাথে কথা হয়। শহরে অবস্থানরত বাইরের জেলার অনেকেই মোকামে আসেন এবং কিছুক্ষণ নিরব-নিস্তদ্ধ প্রাকৃতিক পরিবেশে কাটান বলে জানান তাঁরা। সপরিবারেও আসেন অনেকে। ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ থেকেও ভক্তরা আসেন এই মোকামে। মোকামে শিরনি নিয়ে আসেন কাছের ও দুরের ভক্তরা। শ্রদ্ধাভক্তিতে দান দেন অনেকে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দৃশ্যমান অপূর্ব সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশে এ যেন এক মিলন মেলায় পরিণত হয়। কেউ কেউ সিঁড়ি বেয়ে টিলায় উঠেন হযরত শাহ আরেফিন (রহ.) বসার স্থান ঘুরে ঘুরে দেখেন। আবার কেউ কেউ হরেক রকমের সুস্বাদু শিরনি নিয়ে উঠেন টিলায়। আবার কেউ দান দিতে ছুটে যান টিলার উপরে শাহ আরেফিন (রহ.) মোকামে। এমনকি ভেড়া, ছাগলও দান হিসাবে অনেকে দেন।
মোকামে আগত দর্শনার্থী অ্যাড. শামীম আহমদ জানান, গত তিন বছর আগেও এমন উন্নয়ন ছিল না মোকাম প্রাঙ্গণের। এখন দিনে দিনে সবই হচ্ছে। আজকের বিকেলটা খুবই ভাল কেটেছে মোকাম এলাকায়।
ময়মনসিংহ জেলার দর্শনার্থী মো. আবু বাক্কার জানান, আমি সিলেট বিভাগে আসলেই সুনামগঞ্জের শহরতলীর রঙ্গারচর ইউনিয়নের শাহ আরেফিন (রহ.) মোকামে আসি। কেন যেন আমার খুবই ভাল লাগে। সারাদিন কাটিয়ে দেই পরিবারের সদস্য বা বন্ধু-বান্ধব নিয়ে। মোকাম এলাকায় খুবই সুন্দর মনমুগ্ধকর পরিবেশ। আগামী সপ্তাহে আবারও আসবো।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন হযরত শাহ আরেফিন (রহ.) মোকাম পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি মো. আব্দুল হাই, মো. আব্দুর রব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক মো. মমিনুল ইসলাম, সদস্য সাদত পুরকায়স্থ, মো. জহির হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক, মো. হরমুজ মিয়াসহ এলাকার বাসিন্দা অনেকে।
মোকাম পরিচালনা কমিটির একাধিক সদস্য জানান, হযরত শাহ আরেফিন (রহ.) মোকাম পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরান শাহরিয়ার মহোদয়ের নির্দেশনায় এই মোকামের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
মোকাম পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি মো. আব্দুর রব বলেন, এই মোকামে বছরে ২ বার ওরশ পালন করা হয়। বছরের বাংলা মাসের ২ অগ্রহায়ণ প্রথম ওরশ হয় এবং দ্বিতীয় ওরশ হয় ১৫ ফাল্গুন। তাই আগামী ১৭ নভেম্বর বুধবার প্রথম ওরশ অনুষ্ঠান সুশৃংখলভাবে পালনের জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।