শিক্ষকদের অনলাইন বদলি/ নীতিমালা লংঘনের বিষয়টি সংশোধন করুন

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনলাইনে বদলির নীতিমালা জারি করেছিলো বদলি কার্যক্রমে অধিকতর স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনয়নের জন্য। বদলীর জন্য অগ্রাধিকার তালিকা তৈরির জন্য বেশ কিছু মৌলিক তথ্য সহকারে নির্দিষ্ট সফটওয়ারে আবেদন করার পর তা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক যাচাই বাছাই হয়ে বদলি আদেশ জারি হওয়ার কথা। সম্প্রতি বিভিন্ন উপজেলায় এ পদ্ধতির আওতায় সহকারি শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রমের প্রথম ধাপ শেষ হয়েছে বলে জানা যায়। অনলাইনে বদলি কার্যক্রমের এই প্রথম ধাপটি কেমন ছিল? এ প্রশ্নের কিছু উত্তর জানা যায় রবিবার দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারি শিক্ষকদের বদলি আদেশ এবং কিছু শিক্ষকের অভিযোগের আলোকে তৈরি হওয়া এই প্রতিবেদনে বদলি নীতিমালা লংঘনের সুষ্পষ্ট কিছু ঘটনার উল্লেখ ছিলো। সুতরাং বলা যেতে পারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চালু হওয়া অনলাইন বদলি কার্যক্রমের বিষয়টি অন্তত একটি উপজেলার ক্ষেত্রে সুখকর ছিলো না। এ নিয়ে বদলি হওয়ার জন্য অপেক্ষমাণ অনেক শিক্ষকের মনে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
অনলাইন বদলির ক্ষেত্রে বদলির জন্য আবেদনকারী শিক্ষকের স্থায়ী বাসস্থান, দূরত্ব, বর্তমান কর্মস্থলে কর্মকালের মেয়াদ প্রভৃতি বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের স্থায়ী বাসস্থান থেকে বিদ্যালয়ের দূরত্ব এবং বর্তমান কর্মস্থলে চাকুরির দৈর্ঘ একটি বড় বিষয়। এছাড়া বর্তমান কর্মস্থলে চাকুরির মেয়াদ ৩ বছর না হলে বদলির জন্য বিবেচনা করা হবে না, ৫ শিক্ষকের কম শিক্ষক থাকলে সেই বিদ্যালয় থেকে বদলি করা যাবে না; এমন সব শর্তও যুক্ত ছিলো। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় অন্তত কিছু শিক্ষকের বদলির ক্ষেত্রে এসব শর্ত প্রযুক্ত হয়নি বলে জানা গেছে। বিষয়টি দুঃখজনক। চাকুরির বিধি বিধান অনুসারে প্রত্যেক শিক্ষকের এক কর্মস্থল থেকে অন্য কর্মস্থলে বদলি হওয়ার নিয়ম রয়েছে। প্রশাসনিক কারণে যেমন বদলি করা যায় তেমনি আবেদনের প্রেক্ষিতেও বদলি করা যায়। একটি উপজেলায় এখন প্রচুর শিক্ষক চাকুরি করেন। চাকুরিরত শিক্ষকদের একটি বড় অংশ শহরে বসবাস করেন। কিন্ত্র শহর বা তার আশেপাশে এত বিরাট সংখ্যক শিক্ষকের পদায়ন কোনো অবস্থাতেই সম্ভব নয়। তাই শহর থেকে বহু শিক্ষক দূরবর্তী স্থানে গিয়ে চাকুরি করেন। দূরবর্তী স্থানে চাকুরি করা শিক্ষকরা সংগত কারণেই কাছাকাছি কর্মস্থলে বদলি হওয়ার জন্য উদগ্রীব থাকেন। সমস্যা হলো যত শিক্ষক বদলি চান তত পদ কখনও একসাথে শূন্য হয় না। ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলির ক্ষেত্রে একসাথে সকলকে সন্তুষ্ট করা কখনও সম্ভব হয়ে উঠে না। এই জায়গায় যদি নীতিমালা লংঘন করে সবচাইতে যোগ্য শিক্ষকের পরিবর্তে অন্য শিক্ষককে সুবিধাজনক জায়গায় বদলি করা হয় তখনই বাঁধে বিপত্তি, তৈরি হয় অসন্তোষ। যেমন অতিসাম্প্রতিক সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার অনলাইন বদলি আদেশ জারির পর দেখা গেছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের ন্যায়ানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয় বলে আমরা মনে করি।
জেলা শিক্ষা অফিসার বলেছেন, আলোচ্য বদলির ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় ঘটে থাকলে অফলাইনে তিনি সেগুলো বাতিল বা সংশোধন করবেন। আমাদের কথা হলো, আদেশ জারির আগেই ব্যত্যয়ের বিষয়গুলো নজরে রাখলে পরে অসন্তোষ তৈরি হত না। নীতিমালা সঠিকভাবে পরিপালন করা হলে কোনো শিক্ষকই অসন্তোষ দেখানোর সুযোগ পেতেন না। যাই হোক, পরে হলেও বিষয়টি সংশোধন করা ভালো। আমরা আশা করব পুরো বদলি আদেশটি খতিয়ে দেখে নীতিমালার আলোকে একটি সংশোধিত বদলি আদেশ জারি করা হোক যেখানে কেউ নীতিমালা পরিপালন না করার অভিযোগ আনতে পারবেন না।