শিক্ষকদের দক্ষতা ঘাটতি দূরীকরণে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হোক

শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতার পেছনে চারটি বড় কারণ চিহ্নিত করেছে বিশ্বব্যাংক। সেগুলো হলো শৈশব জীবনের মানোন্নয়নে কর্মসূচিগুলোর দুর্বলতা, নিম্নমানের পাঠদান, দুর্বল স্কুল ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষা খাতে সরকারি বিনিয়োগ কম। দক্ষ শ্রমশক্তি গড়ে তুলতে শিক্ষার মানের দিকে নজর দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মানসম্মত শিক্ষা। বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফলে পাসের আধিক্য বাড়লেও গুণগত মান নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। তাই শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসম্মত শিক্ষাদানের জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষক দিয়ে সব শিক্ষার্থীর শিক্ষাদান নিশ্চিত করতে হবে। এডুকেশন ইন্টারন্যাশনাল মানসম্মত শিক্ষার মূল উপাদান হিসেবে মানসম্মত শিক্ষক, মানসম্মত শিক্ষা উপকরণ ও মানসম্মত পরিবেশ নির্ধারণ করেছে। এ বিষয়ে অগ্রগতির লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। এ কথা অনস্বীকার্য, শিক্ষকরা সমাজ, রাষ্ট্রের আলোকবর্তিকার মতো কাজ করবেন। তাই শিক্ষকদের পেশাগত স্বীকৃতি, সম্মানজনক বেতন, পেনশন, সামাজিক প্রাপ্তি ও চমৎকার কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। অভীষ্ট সফলতার জন্য সব স্তরে শিক্ষক সংকট দূর করতে হবে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে আনতে হবে। তবে আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম, পর্যাপ্ত সংখ্যক যোগ্য শিক্ষক, প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষাদান সামগ্রী ও ভৌত অবকাঠামো যথার্থ শিক্ষণ-শিখন পদ্ধতি, কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধান এবং গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ ও উপযুক্ত মূল্যায়ন ব্যতীত এ লক্ষ্য অর্জন পুরোপুরি সম্ভব নয়।
দুর্বল শিক্ষাদান পদ্ধতি ও বিদ্যালয় পরিচালনা ব্যবস্থায় দুর্বলতা শিখন দুর্বলতার জন্য দায়ী। অন্যদিকে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় সামগ্রিক ব্যয় কম। মানতে হবে দেশে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার মতো যোগ্য শিক্ষকের ঘাটতি আছে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ যেভাবে হওয়ার কথা, তা হচ্ছে না। আবার শিক্ষা খাতে যে বরাদ্দ থাকা উচিত, তা-ও নেই। ফলে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না মানসম্মত শিক্ষা। সর্বজনীন মানসম্মত শিক্ষার জন্য শিক্ষক, ছাত্র-অভিভাবক, বিভিন্ন পেশার মানুষ ও সরকারের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। তার মধ্য দিয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সমৃদ্ধ ও উন্নত আগামী বিনির্মাণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও আধুনিকায়নের কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষকদের দক্ষতাজনিত যেসব ঘাটতি আছে, তা দূরীকরণের জন্য প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে এবং সেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জ্ঞান যেন শ্রেণীকক্ষে ব্যবহার করা হয়, সেজন্য তদারকির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষকরা যেন পাঠপরিকল্পনা তৈরি করে আধুনিক শিক্ষণ-শিখন পদ্ধতিতে আনন্দদায়ক শিখন পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে পাঠদান করে, সেদিকে নজর দিতে হবে। সঠিক তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন ঘটাতে হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান ঝুঁকিপূর্ণ কিংবা শ্রেণীকক্ষের ঘাটতি আছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেয়া দরকার।