শিক্ষক ও অবকাঠামো সংকট চরমে

বিন্দু তালুকদার
প্রতিটি উপজেলায় একটি করে উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ সরকারিকরণের ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পাগলা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ সরকারিকরণ করা হয়েছে।
গত রবিবার পাগলা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ সরকারিকরণের গেজেট প্রকাশিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি সরকারিকরণে খুশি এলাকার সবাই। তবে গ্রামীণ এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও অবকাঠমোর চরম সংকট রয়েছে। ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণি ছাড়া অন্য কোন শ্রেণির পৃথক সেকশন করা সম্ভব হচ্ছে না।
জানা যায়, গত ১৯৫৯ সালে পাগলাবাজারের পাশে স্থাপিত হয় পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৮৪ সালে এমপিওভুক্ত হয়। পরে ২০১২ সালে কলেজ শাখা চালু হয়। গত ৫ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও কলেজ শাখা এমপিওভুক্ত হয়নি।
পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাকালীন প্রধান শিক্ষক ছিলেন পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের দামোধরতপী গ্রামের যতীন্দ্র ভদ্র। বর্তমান স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ রমিজ উদ্দীন।
পাগলা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের বর্তমান শিক্ষার্থী সংখ্যা ২১৫৮ জন। স্কুল শাখায় শিক্ষার্থী ১৯৫৮ জন ও কলেজ শাখায় শিক্ষার্থী ২০০ জন। চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন ৯৮ জন শিক্ষার্থী।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী স্কুল শাখায় প্রতি ৬০ জন ছাত্রের জন্য একজন করে অন্তত ৩২ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলে স্কুল শাখায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছে মাত্র ১২ জন ও কলেজে নন এমপিওভুক্ত ৪ জনসহ মোট ১৬ জন। শিক্ষক সংকট থাকায় বিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে ১১ জন খ-কালীন শিক্ষকের বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়। এছাড়া কলেজের গ্রন্থাগারিক, উচ্চমান সহকারি ও তিন জন অফিস সহায়ক নেই।
স্কুল শাখায় মানবিক, হিসাব ও বিজ্ঞান বিভাগ চালু রয়েছে। তবে কলেজ শাখায় শুধুমাত্র মানবিক শাখা রয়েছে। হিসাব বিজ্ঞান ও বিজ্ঞান শাখা এখনও চালু হয়নি।
পাগলা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী তাছলিমা তাসমু ও শাহাদাৎ হোসেন বলেন,‘ আমরা সরকারি স্কুল ও কলেজে পড়ার সুযোগ পাইনি, তবে আমরা খুব আনন্দিত ও খুশি। আমরা সুযোগ না পেলেও এখন যারা আছে ও যারা ভর্তি হবে তারা সরকারি স্কুলে লেখা-পড়ার সুযোগ পাবে। আমরা কৃতজ্ঞ প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর কাছে।’
পাগলা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি পশ্চিম পাগলা ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হক বলেন,‘প্রতিমন্ত্রী এম.এ মান্নানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি সরকারীকরণ হয়েছে। আমাদের শিক্ষক ও অবকাঠামো সংকট রয়েছে। যার কারণে পৃথক সেকশন করা সম্ভব হচ্ছে না। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থাকার সুবাদে নিজেদের তহবিল থেকে খ-কালীন শিক্ষক নিয়োগ করেছি। কিন্তু এখন সরকারি হওয়ার ফলে আগামীতে এই সুযোগ থাকবে না। তাই দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের জন্য আমরা দাবি জানাব। তবে অবকাঠামো সংকট নিরসণে প্রতিমন্ত্রী মহোদয় ৫তলা একটি একাডেমি ভবনের অর্থ ছাড় দিবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। ’
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শিক্ষানুরাগী দিলীপ তালুকদার বলেন,‘বর্তমান সরকার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে স্কুল ও কলেজ সরকারি করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের প্রতিমন্ত্রী এম.এ মান্নানের সহযোগিতায় পাগলা স্কুল এন্ড কলেজ সরকারি হয়েছে। তিনি নিজের বাড়ির পাশের স্কুলটিকে না করে পাগলার স্কুলটি সরকারি করেছেন। তবুও আমরা পুরো উপজেলাবাসী আনন্দিত। এতে এলাকার দরিদ্র শিক্ষার্থীরা সরকারি এই প্রতিষ্ঠানে স্বল্প বেতনে লেখা-পড়ার সুযোগ পাবে। তবে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও অবকাঠামো সংকট দূর করতে হবে, না হলে কাক্সিক্ষত সুফল পাওয়া যাবে না।’
পাগলা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ রমিজ উদ্দীন বলেন,‘ স্কুল শাখার এমপিওভুক্ত হলেও কলেজ শাখা এমপিওভুক্ত হয়নি। দুই হাজারের উপরে শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র ১৬ জন শিক্ষক রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে ১১ জন খ-কালীন শিক্ষক রাখা হয়েছে। সঠিকভাবে ক্লাশ নেয়ার মত উপযুক্ত অবকাঠামো নেই। স্কুল শাখায় তিনটি বিভাগ চালু থাকলেও কলেজ বিভাগে শুধুমাত্র মানবিক শাখা রয়েছে। যার কারণে এসএসসি পাশের পর অনেক শিক্ষার্থী অন্যত্র চলে যায়। কলেজ শাখার অন্য দুইটি বিভাগ চালু, শিক্ষক ও অবকাঠামো সংকট দূর করতে হবে। এসব বিষয় এলাকার প্রতিমন্ত্রী মহোদয়কে অবগত করা হয়েছে। তিনি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের লক্ষ্যে ডিও লেটার (আধা সরকারিপত্রও) দিয়েছেন। সকল সংকট নিরসণের জন্য আমরা শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছি।’