শিক্ষার্থীদের পদচারণায় আলোকিত

বিশেষ প্রতিনিধি ও কাজী জমিরুল ইসলাম মমতাজ
নতুন ক্যাম্পাস, নবীন শিক্ষার্থী, সুসজ্জিত শ্রেণিকক্ষ, স্বশরীরে প্রথম দিনের ক্লাস। যেন অন্য রকমের অনুভূতি। সকাল ৯টা বাজার আগেই ৪৮ শিক্ষার্থীর ৩৩ জনের উপস্থিত। শিক্ষকরা যথারীতি আগে ভাগেই এসে যার যার কক্ষে অবস্থান নিলেন। সর্বত্র যেন প্রাণের উচ্ছ্বাস। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ, সুনামগঞ্জ এর শান্তিগঞ্জ ক্যাম্পাসে সোমবার ছিল এমন চিত্র।
সুনামগঞ্জ জেলাবাসীর বহুদিনের প্রত্যাশিত বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ, সুনামগঞ্জ এ সোমবারই প্রথম স্বশরীরে পাঠদান শুরু হয়েছে। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৫০ জন শিক্ষার্থী এই মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হবার কথা। ভর্তি হয়েছেন ৪৮ জন। সদর উপজেলার কাঠইরে নির্মিতব্য বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ সুনামগঞ্জের একাডেমিক ভবনের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নবনির্মিত দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলবে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী সোমবার সারাদেশের মেডিকেল কলেজগুলোতে পাঠদান শুরু হওয়ায় এই কলেজেও পাঠদান শুরু হয়। নবীন শিক্ষার্থী, নতুন ক্যাম্পাস, প্রথম দিনের পাঠদানের এই মহেন্দ্রক্ষণ ছিল উৎসবমুখর।
শিক্ষার্থী শারমিন শাহজাদী বললেন, আমি সৌভাগ্যবান, একটি স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আমি। প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসের সঙ্গে আমার নাম যুক্ত থাকবে। এই শিক্ষার্থী বললেন, আমরা সকলেই স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করেই শ্রেণিকক্ষে যাব, ছাত্রাবাসেও থাকবো।
শিক্ষার্থী তোফায়েল আহমদ বললেন, আমি গর্বিত, আনন্দিত বঙ্গবন্ধুর নামে প্রতিষ্ঠিত নতুন একটি মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আমি। প্রথম দিন স্বরীরে ক্লাসে এসে আমি আনন্দিত এইজন্য যে, প্রথমত আমার ডাক্তার হবার স্বপ্নযাত্রা শুরু হলো। অন্যদিকে শ্রেণিকক্ষসহ ক্যাম্পাসের পরিবেশ-প্রতিবেশ আমাকে উৎসাহিত করেছে। এই শিক্ষার্থী পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তাঁর প্রচেষ্ঠায় হাওরপাড়ে এই উচ্চশিক্ষা বিদ্যাপীঠ হয়েছে। তিনি স্বশরীরে রবিবার এসে আমরা কিভাবে থাকবো, আমাদের শ্রেণিকক্ষ কেমন দেখে গেছেন, আমাদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী উপহারও দিয়ে গেছেন।
শিক্ষার্থী নাঈমুর রহমান ও লামিয়াসা মৈত্র বললেন, আমরা ভেবেছিলাম, নতুন প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা থাকবে কি-না, কিভাবে কি হবে। এসে দেখেছি আমাদের প্রত্যাশার চাইতেও বেশি সুবিধা রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানে। এই দুই শিক্ষার্থীও পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন।
বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মনোজিত মজুমদার বললেন, নতুন এই উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইতিপূর্বে অনলাইনে পাঠদান হয়েছে। সোমবার সকাল ৯টায় যথারীতি স্বশরীরে সারাদেশের মতো এখানেও পাঠদান শুরু হয়। ৪৮ জন শিক্ষার্থীর ৩৩ জন ক্লাসে যোগ দিয়েছে। দূরের শিক্ষার্থীরা কাল থেকে ক্লাস করবে, অনেকে পথে আছে, প্রথম দিনের প্রথম লেকচার আমি দিয়েছি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে প্রথম ক্লাসে আলোচনা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ক্লাসে এবং হোস্টেলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিভাবে থাকবেন বলা হয়েছে। ভিড়ে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাদেরকে অনুসরণ করে এলাকার লোকজনও যাতে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে সচেতন হয় এসব বিষয় শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে। ৫ জন শিক্ষক এবং একজন অধ্যক্ষের নিয়োগ সোমবার পর্যন্ত হলেও স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালকসহ ৩ জন উচ্চপদস্ত কর্মকর্তা ১৬ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে পরিদর্শনে আসবেন। নতুন এই প্রতিষ্ঠানে এই মুহূর্তে কি কি করণিয় সরেজমিনে দেখে তাঁরা ব্যবস্থা নেবেন।