শিক্ষা কার্যক্রমকে গতিশীল করতে নানা উদ্যোগ

দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষা কার্যক্রমকে গতিশীল এবং উন্নত করার লক্ষ্যে কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষা কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক ভাবে ব্যাপক পরিবর্তন উদ্যোগ নিয়েছেন। সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ নীলিমা চন্দ দায়িত্ব গ্রহণের পর এমন পরির্তনের সিদ্বান্ত নেয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজেন সকল বিভাগের প্রধানদের নিয়ে গঠিত একাডেমিক কাউন্সিল জানায়, গত শনিবার একাডেমিক কাউন্সিল সরকারী কলেজের বিভিন্ন বিষয়ে কিছু সিদ্বান্ত গ্রহণ করেছেন। বিগত বছরগুলোতে কলেজের বিভিন্ন মৌখিক পরীক্ষাসহ সাধারণ পরীক্ষায় সরকারি পরিপত্রের বাহিরেও অতিরিক্ত ফি আদায় করা হতো। এখন থেকে অনার্স ও মাস্টার্সকোর্সের সকল মৌখিক ও সাধারণ পরীক্ষায় সরকারি পরিপত্রের বাইরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোন ধরনের অতিরিক্ত ফি আদায় করা হবে না। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া কলেজ চলাকালীন সময়ে যদি কোন শিক্ষক শারীরিক অসুস্থতা কিংবা বিশেষ কারণ ছাড়া কলেজের ক্লাস না নেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাথে সাথে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সেই সাথে শিক্ষার্থীদেরও কলেজে আসার সময় কলেজের নির্ধারিত পোষাক ও আইডি কার্ড বাধ্যতামূলক পরিধান করতে হবে। আগামী ১৫ জুলাই’র পর কলেজের নির্ধারিত পোষাক ব্যতিত কোন শিক্ষার্থীকে কলেজে ঢুকতে দেয়া হবে না।
সুনামগঞ্জ কলেজ কর্তৃপক্ষ জানান, যেখানে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষসহ মোট ৫৪ জন শিক্ষক থাকার কথা সেখানে আছেন মাত্র ৩৩ জন। ২১জনের পদ এখনো শূন্য আছে। সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজের শিক্ষক সংকট ও একাডেমিক ভবন সংকট থাকায় অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান এবং বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক এর সাথে দেখা করে অবগত করা হয়েছে। তাঁরা কলেজের সমস্যার কথা শুনেছেন এবং সমস্যা সমাধানের আশ^াসও দিয়েছেন।
এছাড়াও সরকারী কলেজের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার স্বার্থে কলেজ ক্যাম্পাসে ২০টি সিসি ক্যামেরা বসানোর সিদ্বান্তও গ্রহণ করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ নীলিমা চন্দ বলেন, ‘আমি জুন মাসের ১০ তারিখ দায়িত্ব নিয়েছি। দায়িত্ব নেয়ার পরেই আমি কলেজের অন্যান্য শিক্ষকদের নিয়ে বসেছি। বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করেছি। সমাধান করার জন্য আমরা বেশ কিছু সিদ্ধান্তও গ্রহণ করেছি। কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা অনার্স ও মাস্টার্স পরিক্ষায় সরকারী পরিপত্রের বাইরে কোন অতিরিক্ত ফি নিব না। এ নিয়ে কলেজে নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল তাই আমরা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কলেজে শিক্ষকদের নিয়মিত ক্লাস নেয়ার ক্ষেত্রেও আমরা কঠোর হবো, বিনা কারণে কোন শিক্ষক ক্লাস না করালে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’