শিল্লার হাওরে বাঁধ নিয়ে দুশ্চিন্তা

স্টাফ রিপোর্টার
সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের শিল্লার হাওর ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ ৪টি এলাকায় একযোগে চলছে। গত ১০ জানুয়ারি শুরু হওয়া কাজ ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ ভাগ শেষ হলেও সঠিক সময়ে কাজ শেষ না হওয়ার আশংকা রয়েছে স্থানীয়দের। তবে অবশিষ্ট ৫০ ভাগ বাঁধের কাজ আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে বলে জানিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান।
এ প্রকল্পের ৪টি স্থানের বাঁধের কাজের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১২,৩৭,৪২০ টাকা। কিন্তু বাঁধ নির্মাণ এলাকায় কোনো স্থানেই পিআইসি চেয়ারম্যান মো. ময়না মিয়াকে দেখা যায়নি। এ প্রকল্পের মাটি ভরাটের কাজ চলাকালীন সময়ে ৩টি স্থানে কোনো সাইনবোর্ড দেখা যায়নি, গাছে ঝুলানো আছে শুধু অক্ষয়নগর এলাকায় বাঁধের পাশে একটি সাইনবোর্ড।
মঙ্গলবার সরেজমিনে ইউনিয়নের অক্ষয়নগর গ্রামের পাশে ইব্রাহীমপুর-সৈয়দপুর সড়কের ব্রিজের নিচে বাঁধ নির্মাণের কাজ দেখতে গেলে স্থানীয়রা জানান, বিগত সময়ে এ বাঁধে নি¤œমানের কাজ হয়েছে। ফলে সামান্য পানির ধাক্কায় বাঁধ ভেঙে ফসলহানির ঘটনা ঘটেছে। হাওরের ফসল রক্ষায় এ বাঁধটি যুগ যুগ ধরে গুরুত্ব বহন করে আসছে। প্রতি বছর এ বাঁধের কাজ হলেও ফসলরক্ষা হয় না। এবারও বাঁধের কাজে ভাল করে দুর্মোজ দেয়া হচ্ছে না। এ বাঁধটি শিল্লার হাওরের সম্পূর্ণ ফসলরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মন্তব্য অনেকের।
মইনপুর গ্রাম এলাকায় পিআইসি চেয়ারম্যান  ও ইউপি সদস্য মো. ময়না মিয়ার বাড়ির পাশে মইনপুর গ্রামের খালে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজে মাটি ভরাট চলছে। স্থানীয়রা জানান, এবার বাঁধের নামে বরাদ্দ এনে কাজ শুরু হয়েছে প্রথমবারের মত। মইনপুরের খালের উপর সড়ক নির্মাণের নামে প্রতিবছর বরাদ্দ এনেও কাজ হয়নি। গত বছরও এ সড়কের নামে বরাদ্দ আনা হয়েছে। পরে নদীরপাড়ে লোক দেখানোর মত কাজ করেন ইউপি সদস্য ময়না মিয়া। কোনো বছর মইনপুরের খালের বাঁধে ভাল কাজ হয়নি। এবারও যদি ভাল কাজ না হয়, তবে ফসল রক্ষা করা যাবে না। বাঁধে ভাল করে দুর্মোজ দেয়া হচ্ছে না।
সৈয়দপুর গ্রামে বাঁধের কাজ শেষ হয়েছে। ইউনিয়নের বেলাবরহাটী গ্রাম এলাকায় আরও একটি বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে। বাঁধে সামান্য পরিমাণে মাটি ভরাটের কাজ হয়েছে। এটি হালুয়ারঘাট-মঙ্গলকাটা যাতায়াতের মেইন সড়ক থেকে বাদারটেক সড়কে গিয়ে শেষ হবে।
ইব্রাহীমপুর গ্রামের বাসিন্দা কৃষক আব্দুল হান্নান, কামাল মিয়া ও মইনপুর গ্রামের বাসিন্দা কৃষক মতিন মিয়া বলেন, ‘কোনো বছর মইনপুরের খালের বাঁধে এবং অক্ষয়নগর এলাকায় ফসলরক্ষা বাঁধে ভাল কাজ হয়নি। এবারও যদি ভাল কাজ না হয়, তবে ফসল রক্ষা করা যাবে না। ’
ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ হবে। এবার আমি নিজে এসব বাঁধের কাজে তদারকি করছি। সকল বাঁধে ভাল করে দুর্মোজ দেয়া হচ্ছে। বাঁধের কাজ ভাল হচ্ছে। ফসল তোলার পর বিশেষ করে মইনপুরের খালের বাঁধ অনেকে ভেঙে দেয় নিজেদের স্বার্থে। এতে জনচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।’  



আরো খবর