শিশুসাহিত্যে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পাচ্ছেন ধ্রুব এষ

স্টাফ রিপোর্টার
সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২২ পাচ্ছেন ধ্রুব এষ সহ ১৫ জন। বুধবার বিকালে বাংলা একাডেমির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নাম ঘোষণা করা হয়। বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুরস্কার তুলে দেবেন।
ধ্রুব এষ এর জন্ম ১৯৬৭ সালের ১৭ জানুয়ারি সুনামগঞ্জ পৌর শহরের উকিল পাড়ায়। মা লীলা এষ, বাবা ভূপতি এষ। চারুকলা শিল্পী ধ্রুব এষকে মানুষ চেনেন একজন নামজাদা প্রচ্ছদশিল্পী হিসেবে। বাংলাদেশের প্রচ্ছদ শিল্পে তার ভূমিকা রীতিমতো অবিস্মরণীয় ঘটনা। এমন অনেক মানুষ আছেন যারা ধ্রুব এষকে নামে চেনেন দীর্ঘকাল, সরাসরি দেখেননি।
প্রচ্ছদের পাশাপাশি লেখালেখিও করেন। সাহিত্যিক হিসেবে রয়েছে ধ্রুব এষের আলাদা খ্যাতি। সব ধরনের লেখাতেই সিদ্ধহস্ত। কী ছোটদের কী বড়দের-সব বয়সি পাঠক তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হন সমানভাবে। বিশেষ করে ছোটদের জন্য লেখা তার ছড়া-কবিতা, ছোটগল্প ও সায়েন্স ফিকশন আলাদাভাবে মূল্যবান। ধ্রুব এষের লেখা প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়েছে। তাঁর লেখায় দেখা-না-দেখা জীবন আর মানুষের এক বিচিত্র সম্মিলন ঘটে- যেখানে খুঁজে পাওয়া যায় পাওয়াকে, না পাওয়াকে। জীবনের বহুবর্ণিল বাস্তবতাকে নতুন মোড়কে উপস্থাপন করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তিনি।
আঁকা-লেখা দুই জায়গাতেই তিনি স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন। হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় বইগুলোর অধিকাংশ প্রচ্ছদ তার করা। অসংখ্য প্রচ্ছদের ভিড়ে পাঠকের চিনে নিতে কষ্ট হয় না ধ্রুবর কাজগুলো। এ যাবৎ প্রায় বিশ হাজার প্রচ্ছদ এঁকেছেন। চারুশিল্পী হিসেবে তাঁর আবির্ভাব ১৯৯০ দশকের মধ্যভাগে। বিমূর্ত নকশার প্রতি তাঁর অনেক ঝোঁক ছিল। প্রচ্ছদে তিনি উজ্জ্বল রঙ ব্যবহার করে থাকেন। গত তিন দশক ধরে বাংলাদেশের প্রচ্ছদ শিল্পের একচ্ছত্র অধিপতি তিনি।
এবার যারা পুরস্কার পেয়েছেন
এবার যারা পুরস্কার পেয়েছেন তারা হলেন, কবিতায় ফারুক মাহমুদ ও তারিক সুজাত, কথাসাহিত্যে তাপস মজুমদার ও পারভেজ হোসেন, প্রবন্ধ/গবেষণায় মাসুদুজ্জামান, অনুবাদে আলম খোরশেদ, নাটকে মিলন কান্তি দে ও ফরিদ আহমদ দুলাল, শিশুসাহিত্যে ধ্রুব এষ, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণায় মুহাম্মদ শামসুল হক, বঙ্গবন্ধুবিষয়ক গবেষণায় সুভাষ সিংহ রায়, বিজ্ঞান/কল্পবিজ্ঞান/পরিবেশবিজ্ঞানে মোকারম হোসেন, আত্মজীবনী/স্মৃতিকথা/ভ্রমণকাহিনিতে ইকতিয়ার চৌধুরী এবং ফোকলোরে পুরস্কার পেয়েছেন আবদুল খালেক ও মুহম্মদ আবদুল জলিল।
প্রসঙ্গত, ১৯৬০ সাল থেকে বাংলা সাহিত্যের ১০টি শাখায় এ পুরস্কার প্রদান করে আসছে বাংলা একাডেমি। প্রতিটি পুরস্কারের মূল্যমান তিন লাখ টাকা। পুরস্কারপ্রাপ্তদের সম্মাননাপত্র ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সমসাময়িক জীবিত লেখকদের সামগ্রিক মৌলিক অবদান চিহ্নিত করে তাঁদের সৃজন প্রতিভাকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করাই বাংলা একাডেমির সাহিত্য পুরস্কার প্রদানের উদ্দেশ্য।