শীত মৌসুমেই সড়ক সংস্কার ও ড্রেন চান এলাকাবাসী

পুলক রাজ
ভাঙাচুরা সড়ক, ড্রেনেজ, ষোলঘর পয়েন্টে যানজট, বিশুদ্ধ পানির সংকট, সড়ক বাতি, সড়কে মাছ ও সবজির বাজার, সড়কে ও সড়কের পাশে আবর্জনা, এবং বর্ষায় জলাবদ্ধতায় ভোগছেন ওয়ার্ডবাসী। এলাকাবাসী জানান, প্রতি বছর বৃষ্টির দিনে বলা হয় শীতের দিনে সড়ক, ড্রেন, জলাবদ্ধতার সমাধান করা হবে। কিন্তু সেভাবে হয় না। সুনামগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ষোলঘর, নবীনগর, ধোপাখালী, আলীপাড়া, মাইজবাড়ি, বনানীপাড়া এলাকাবাসীর কথা এমন। সরেজমিনে দেখা যায়, ষোলঘর ফায়ার সার্ভিসের সড়ক থেকে ষোলঘর পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কে ছোট-বড় গর্ত। পয়েন্টের বামের দিকে গেলে দেখা যায় সড়কের উপর মাছ এবং সবজির বাজার। এতে সবসময় এই সড়কে জ্যাম লেগে থাকে।
সনি ফার্নিচার থেকে মেসার্স ফার্নিচার মার্টের সামনের সড়ক ভাঙা। ষোলঘর জামে মসজিদ থেকে বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর পর্যন্ত সড়কে গর্ত। কেন্দ্রীয় শ্মশানঘাটের সড়ক, সেলিম মার্কেট, ধোপাখালীর ব্রিজ, মেসার্স ইসলাম স্টোর, উজ্জ্বল খিচুরী হাউস, রিনা ‘স’ মিলের সামনের সড়কের বেহাল দশা।
পল্লবী আবাসিক এলাকার আলীপাড়া ব্রিজে উঠার সড়ক ভাঙাচুরা। প্রায় সময় মটর সাইকেল সহ যান চলাচলে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
আলীপাড়ার ছোট ব্রিজ থেকে আলকাছ মঞ্জিল পর্যন্ত সড়কের বেহাল দশা। সড়কের পাশে ছোট ড্রেনের ঢাকনা নেই। ষোলঘর পয়েন্ট থেকে ষোলঘর কলোনির সামনের সড়ক, এম.এস এন্টারপ্রইজ,
মেসার্স রওনক এন্ড রাহাত এন্টারপ্রাইজ, রিহান ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপ, মোহাম্মদপুর জামে মসজিদ ও ইদগাহ এবং মোহাম্মদপুর পয়েন্টের সড়কের বালু পাথর উঠে গেছে। মোহাম্মদপুর পয়েন্ট থেকে মাজার সড়ক নিচু হওয়ার কারণে মহল্লায় জলাবদ্ধতা লেগে থাকে।
মোহাম্মদপুর পয়েন্ট ও মাইজবাড়ি পয়েন্ট হয়ে বনানীপাড়ার বলাকা আবাসিক এলাকার সড়ক সরু এবং সড়কের পাশে ময়লা আবর্জনার স্তুপ, নেই নলকূপ, ড্রেনেজ, ড্রাস্টবিন।
এমনকি কাউন্সিলরের বাড়ির সামনের পুকুরে ময়লা আবর্জনার স্তুপ।
ষোলঘর কাস্টমস অফিস নদীরপাড়ের সিঁড়িঘাটে আবর্জনা ফেলে রাখার কারণে দুগর্ন্ধে কেউ গোসল করতে পাড়েন না। এদিকে মোবারক স-মিলের পাশ্ববর্তী নদীরপাড়ে গার্ডওয়াল দিয়ে বালু ব্যবসা করা হচ্ছে। নদীরপাড়ের এই সড়ক বন্ধ হওয়ায় দুর্ভোগে আছেন এলাকাবাসী। এই এলাকার মানুষ এখানে এসে গোসল করতেন। মানুষ আসা যাওয়া করতেন এই পথে।
কেন্দ্রীয় শ্মশানঘাটে রাতে মোবাইলে লুডু খেলার জুয়ার আসর এবং বনানীপাড়ার কবরস্থানের সামনে কয়েকটি চায়ের দোকানেও বিভিন্ন ধরণের জুয়ার আসর জমে ওঠে। এছাড়াও নবীনগরের শেষ প্রান্তের পাঁচটা বিদ্যুৎ পিলারে নেই বাতি।
নবীনগরের বাসিন্দা সুরুজ মিয়া বলেন, ‘কিতা কইতাম বর্তমান রাস্তার চেয়ে মাটির রাস্তা ভালা। রাস্তায় বড় বড় গাত। রিক্সায় উঠলে ভয় লাগে, থেখানের ঠেলায় মনে হয় আড্ডি গুড্ডি ভাংগি যাইব।’
আব্দুল কাদির বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে নলকূপের সমস্যায় ভোগছেন জনগণ। নবীনগরের সুমন ‘স’ মিল থেকে মোহাম্মদ ‘স’ মিলের পিছনের নদীর পাড়ে বেরীবাঁধ দেওয়া খুব জরুরী।
ষোলঘর পূর্বপাড়ার বাসিন্দা মিনহাজ আহমেদ খালেদ বলেন, এলাকায় ড্রেন নেই, ময়লা ফেলার জায়গা নেই। সড়ক, পুকুরে আবর্জনা ফেলে এলাকা দূষিত হচ্ছে। সরু সড়কের কারণে পৌরসভার ময়লা নেয়ার ট্রাক আমাদের এলাকায় আসে না। ড্রেন না থাকার কারণে এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে এবং জলাবদ্ধতা বেড়ে চলছে। প্রতি বছর বৃষ্টির দিনে বলা হয় শীতের দিনে সড়ক, ড্রেন, জলাবদ্ধতার সমাধান করা হবে। কিন্তু সেভাবে করা হয় না।
মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ সড়ক মেরামতের কোন লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি না। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতায় পানি ঘরে ও দোকান কোঠায় ওঠে যায়। অনেক ল্যাম্পপোস্টের বাতি দীর্ঘদিন ধরে বিকল।
ওয়ার্ড কাউন্সিলার মো. হোসেন আহমদ রাসেল বলেন, আমাদের পানি ও বিদ্যুতের সমস্যা রয়েছে। আমি ১০টা নতুন এলাকায় সড়ক করেছি। আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্ট করেছি। পানি নিস্কাশনের জন্য মোহাম্মদপুর, আলীপাড়া, বলাকার সমন্বয়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থার চেষ্টা করছি। ষোলঘরের ড্রেনের কাজ করার জন্য টেন্ডারের আওতায় আনছি। খুব শীঘ্রই আমার ওয়ার্ডে সব সমস্যার সমাধান হবে।
তিনি বলেন, বড় বড় সাত টনের ট্রাক না আটকালে আবাসিক রোড রক্ষা করা সম্ভব নয়। মাইজবাড়ি পয়েন্ট থেকে মোহাম্মদপুর পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কে কাজ হচ্ছে। মোহাম্মদপুর পয়েন্ট থেকে ষোলঘর পয়েন্ট হয়ে শ্মশানঘাট পর্যন্ত সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। এসব কাজ পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়নে করে যাচ্ছি আমরা।