শুধু বেতন তোলার সময়ই দেখা যায় তাদের

বিশেষ প্রতিনিধি
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এঁরা। মাসের শেষের দিকে বেতনের টাকা উত্তোলনের সময় কেবল অফিসে আসেন। এছাড়া আর উপজেলায় দেখা যায় না তাঁদের। বার বার তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানালেও কোন কিছুই হয় না। বহাল তবিয়তে একজন ৪ বছর ধরে বেতন তুলছেন, অন্যজন ৯ মাস ধরে এভাবে বেতন নিচ্ছেন। এই দুই গুণধর কর্মকর্তার একজন ধর্মপাশা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এটিএম আবু তাহের মো. কামরুল হাসান, অপরজন শাল্লা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজুর রহমান।
শাল্লা উপজেলায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসাবে গত বছরের ২৪ জুন যোগদান করেন আজিজুর রহমান। যোগদানের পর থেকে এক নাগারে এক সপ্তাহ তাকে দেখেন নি উপজেলার শিক্ষকরা।
উপজেলার একাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বললেন, ‘অভিযোগ করে লাভ নেই। তিনি আসেন না এই বিষয়টি সকলকে জানিয়েও কোন লাভ হয় না।’ একজন প্রধান শিক্ষক বললেন, তাঁর (উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা) বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে তিনি নিজেই উৎসাহিত করেন।
শাল্লার গোবিন্দচন্দ্র উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহীপাল জানালেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অফিসে গিয়ে খুব কমই পাওয়া যায়।
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মুক্তাদীর হোসেন বলেন, ৩ মাস আগে এই কর্মকর্তার অনুপস্থিতির বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিত জানিয়েছি। গত মাসের মাসিক সাধারণ সভায় তাঁর অনুপস্থিতির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পরে এই রেজুলিউসনের কপিসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চিঠি পাঠিয়েছি। কিন্তু কাজ হচ্ছে না কিছুতেই।
আজিজুর রহমানকে ফোন দিয়ে এই বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি ফোন কেটে দেন। এরপর একাধিক নম্বর থেকে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেন নি।
একই অবস্থা ধর্মপাশা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এটিএম আবু তাহের মো. কামরুল হাসানের ক্ষেত্রেও। ২০১৫ সালের ৮ ডিসেম্বর ধর্মপাশা উপজেলায় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসাবে যোগদান করেন তিনি। যোগদানের পর থেকেই কালেভদ্রে অফিসে আসেন এই কর্মকর্তা, বেতন উত্তোলনের ১-২ দিন আগে তাঁকে অফিসে দেখা যায়। এরপর আর আসেন না।
ধর্মপাশা উপজেলার একাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কথা জানিয়ে ২ বার স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তাঁরা, কোন ফল হয় নি। উপজেলার মাসিক সাধারণ সভায়ও তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কোন লাভ হয় নি। তিনি তাঁর মতোই বহাল তবিয়তে ইচ্ছে মাফিক অফিস করেন বা স্টেশনে থাকেন।
ধর্মপাশা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলশান আরা পারভিন জানালেন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খুব কমই উপস্থিত থাকেন। একই মন্তব্য করলেন বাদশাগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম ও জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক খাঁন।
ধর্মপাশার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এটিএম আবু তাহের মো. কামরুল হাসান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘তিন বছর হয়ে গেছে, আমি এখন এই উপজেলা ছাড়তে চাই। একটু লেখালেখি করলে ভাল হয়। আমি আসি না, এটি অযৌক্তিক, ভিত্তিহীন তথ্য, আমি না আসলে আমার কাজ করে কে।’
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই দুই উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অনুপস্থিতির অভিযোগ শুনতে শুনতে হয়রান। ১৫ আগস্ট, ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৬ ডিসেম্বরের কর্মসূচিতেও এরা অনুপস্থিত থাকেন। একাধিকবার এই বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক সম্প্রতি সচিব মহোদয়কেও জানিয়েছেন। কিন্তু তারা তাদের মতো করেই চলে, কাউকে পাত্তা দেয় না।