শুভ মুজিববর্ষ- আসুন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা কায়েমে সচেষ্ট হই

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকীর কাউন্টডাউন শুরু হবে ১০ জানুয়ারি। এই কাউন্টডাউন উপলক্ষে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন শহরে বসানো হচ্ছে কাউন্টডাউন ঘড়ি। বস্তুত ১০ জানুয়ারি থেকে পুরো বছর ব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতি স্বাধীনতার মহান স্থপতি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার রূপকার, বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করবে। বাঙালি জাতির জাতীয় ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু প্রখর ও তেজোদ্দীপ্ত সূর্যের মতো এক নাম। এই জাতি গঠনে আরও বহু বাঙালি কীর্তিমানের রয়েছে সবিশেষ অবদান। হাজার বছরের পথপরিক্রমায় এই জাতিকে বিকশিত করতে ভূমিকা রেখেছেন অনেক ক্ষণজন্মা বাঙালি। কিন্তু শেখ মুজিব যে কাজটি করে গিয়েছেন সেটি ছিল আর সবকিছু ছাপিয়ে। তিনি বাঙালি জাতিকে আত্মপরিচয়ের একটি ঠিকানা এনে দিয়েছিলেন- স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। তাঁর ব্যক্তিত্ব, কুশলতা, দূরদর্শিতা সবকিছুর সমন্বয়ে তৈরি হয়েছিল স্বাধীনতা অর্জনের পথ। তিনি বিশ্বের বুকে লাল-সবুজের পতাকাকে মহীয়ান করে গেছেন। তাই তাঁকে জাতির পিতা অভিধায় অভিষিক্ত করা হয়েছে। এরকম মহাপুরুষের জন্ম শতবর্ষকে স্মরণীয়-বরণীয় করে রাখা জাতির পবিত্র কর্তব্য। বলাবাহুল্য ২০২০ সনের বাংলাদেশ, এই সময়ের জনগোষ্ঠী সেই দায়িত্ব বিস্মৃত হয়নি। তাই মহাসমারোহে বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মকা-ের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর মহিমা অনাগত ভবিষ্যৎ পানে ছড়িয়ে দিতে ব্যস্ত থাকবে পুরো দেশ।
বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করার অর্থ শুধু এই নয় যে, অবিরাম তাঁর নাম জপা। বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করার নিহিতার্থ হলো- তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হওয়া। বঙ্গবন্ধু সারা জীবন এই দেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর কাজে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছিলেন। তাঁকে স্মরণ করার অর্থ হবেÑ তাঁর সেই আদর্শকে ছড়িয়ে দেয়া। তাঁর স্মরণে এমন কিছু কল্যাণকামী কর্মকা- সংঘটন যার মধ্য দিয়ে গরিব দুঃখী জনসাধারণের মুখ সত্যিকার হাসিতে উদ্ভাসিত হয়ে উঠে। আমরা ব্যক্তিকে স্মরণ করার নামে তাঁর আদর্শকে ভুলে গিয়ে অহেতুক স্তবস্তুতিতে মেতে উঠি। নিজেকে জাহির করার জন্য অনেকে দৃষ্টিকটুরকম বাড়াবাড়ি করেন। এতে যে মহান ব্যক্তিটিই প্রকারান্তরে অসম্মানিত হন তা বিস্মৃত হই অনেকে। আমরা চাই বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করার নামে যেন দেশব্যাপী এমন বিরক্তিকর প্রতিযোগিতা শুরু না করা হয়। বরং যারা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বুকে ধারণ করেন, যারা তাঁর আদর্শে বিশ্বাস করেন; তারা সকলে দেশ-জাতি ও মানুষের জন্য এই বছরে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী কিছু কাজ করুন। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী বঙ্গবন্ধুর নামে নিজের এলাকায় জনকল্যাণমুখী কর্মকা- বাস্তবায়ন করুন। অধিকারবঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে অধিকতর সহযোগিতা করুন। নিরন্ন অভাবগ্রস্ত মানুষের দারিদ্র দূর করতে নিজেদের সম্পদের কিয়দংশ বিলিয়ে দিন। এই ধরনের কাজই হবে বঙ্গবন্ধুর নামকে মহিমাময় করে তোলার উপযুক্ত পদ্ধতি।
সরকারের বিভিন্ন দপ্তর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে ইতোমধ্যে বেশ কিছু কর্মসূচী ঘোষণা করেছে। এসব কর্মসূচী বাস্তবায়িত হলে নিশ্চিতভাবে দেশের মানুষ উপকৃত হবেন। মানুষের উপকার করার চাইতে মহৎ কাজ আর কিছু হতে পারে না। বাগাড়ম্বর, তোষণ, তোষামোদের চাইতে সুকর্ম অনেক বেশি কল্যাণময়। বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকীটি হয়ে উঠুক মঙ্গলময় কর্মকা-ের একটি বছর। এই বছরের কর্মকা- দেখে তরুণ প্রজন্ম বুঝতে পারবে মূলত বঙ্গবন্ধু কেমন বাংলাদেশ দেখতে চেয়েছিলেন। আমরা যদি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠনে তার জন্ম শতবার্ষিকীটিকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাই তাহলে নিশ্চিতভাবে বঙ্গবন্ধুকেই সম্মান জানানো হবে। আসুন সম্মান জানানোর এই প্রকৃত পথেই হাঁটি। বছর শেষে আমরা অন্য এক বাংলাদেশ দেখতে চাই যা মূলত বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার প্রতিরূপ হয়ে উঠবে। শুভ মুজিববর্ষ।