শুল্ক কর্তৃপক্ষের কাছেই আটকা আছে প্রাথমিক প্রক্রিয়া

বিশেষ প্রতিনিধি
শুল্ক কর্তৃপক্ষের কাছেই আটকা আছে সুনামগঞ্জের ডলুরা শুল্কস্টেশন চালু‘র প্রাথমিক প্রক্রিয়া। তারা জমি বন্দোবস্তের অর্থ ভূমি মন্ত্রণালয়ে জমা না দেওয়ায় এক বছর হয় প্রাথমিক প্রক্রিয়াই অর্থাৎ কাগজেই সীমাবদ্ধ রয়েছে এই শুল্কস্টেশন চালুর কাজ।
সুনামগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ভারত বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ডলুরা এলাকায় ইমিগ্রেশন সহ শুল্কবন্দর স্থাপনের দাবি বহুদিনের।
১৯৯৯ সালে একবার পরীক্ষামূলকভাবে এক বছরের জন্য ডলুরায় শুল্কবন্দর চালু করতে দুই দেশের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু সীমান্তের ওই পাড়ের আড়াই কিলোমিটার সড়ক নির্মিত না হওয়ায় আমদানী রপ্তানী শুরু করা হয় নি তখন।
এরপর ২০১৭ সালে ডলুরায় ইমিগ্রেসনসহ শুল্কস্টেশন চালুর অনুরোধ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠান সুনামগঞ্জের বাসিন্দা বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদ্য অবসরে যাওয়া চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক।
২০১৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ-ভারতের ব্যবসায়ীরা এই বিষয়ে ডলুরা এলাকায় মতবিনিময় করেছিলেন। সভায় তৎকালীন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান সাবেক মুখ্যসচিব নজিবুর রহমান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্, সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খায়রুল হুদা চপলসহ ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নজিবুর রহমান ওই সময় বলেছিলেন, ‘শুল্ক বন্দর স্থাপনের উপযোগী সুনামগঞ্জ সীমান্তের ডলুরা এলাকা। ইতিমধ্যে এই বিষয়ে বেশকিছু কাজ হয়েছে। যেহেতেু দুই দেশের ব্যবসায়ীরা শুল্ক বন্দর চালুর বিষয়ে আন্তরিক, তাই দ্রুত এখানে শুল্ক বন্দর চালুর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
এরপর ডলুরা শুল্ক বন্দরের জমি বন্দোবস্ত প্রক্রিয়ার কাজ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা। সুনামগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের আওতায় থাকা জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের বেটাগাঁও মৌজার ৪৫ নম্বর জেল’র সরকারি খাস খতিয়ানের ১ নম্বর দাগের ০.৪০ একর এবং ২ নম্বর দাগের ৯.৬০ একর জমি ডলুরা শুল্ক বন্দরের জন্য নির্ধারণ করা হয়। এই জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ কোটি ৪৭ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা।
গত ২৬ ডিসেম্বর জমির মূল্য নির্ধারণের এই প্রস্তাবনা ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে পাঠানো হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্ভেয়ার শাহীন আলম জানান, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রায় এক বছর হয় প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন শুল্ক কর্তৃপক্ষকে জমি বন্দোবস্ত দেবার জন্য। তিনি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বন্দোবস্ত মূল্য পরিশোধ করলে, বন্দোবস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসমিন নাহার রুমা বলেন, শুল্ক কর্তৃপক্ষের কাছেই আটকা আছে ডলুরা শুল্কস্টেশন চালুর অফিসিয়াল কাজ। অকৃষি জমির মূল্য নির্ধারণ করে, তাঁদেরকে মূল্য পরিশোধের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। সিলেটে ওই কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে ফোনে এই বিষয়টি নিয়ে কথাও বলেছি। গণপূর্ত বিভাগের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু এখনও (২৬ নভেম্বর পর্যন্ত) তাদের পক্ষ থেকে কিছুই জানানো হয় নি।
সিলেট কাস্টমস অফিসের সংশ্লিষ্ট শাখার একজন কর্মচারী (নাম না ছাপা অনুরোধ করেছেন) জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চিঠি পেয়ে সিলেট কাস্টমস অফিসের দুইজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ডলুরা এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রায় ৮ মাস আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে প্রতিবেদন পাঠান। তারা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিলেন, ডলুরা এলাকায় জমি বন্দোবস্ত নিয়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোসহ যোগাযোগের সড়ক ও নদীপথের ব্যবস্থা হলে এখানে ইমিগ্রেসনসহ শুল্কবন্দর চালু হতে পারে। এরপরে আর এই বিষয়ে কোন অগ্রগতি হয় নি।