শৃঙ্খলা ভঙ্গে চপলকে শোকজ, এমপি’র বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হতেই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল হুদা মুকুটের পক্ষে প্রচরণা করার অভিযোগে শোকজ করা হয়েছে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক খায়রুল হুদা চপলকে। অন্যদিকে, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন নুরুল হুদা মুকুট।
জেলা যুবলীগ আহ্বায়ক শোকজ এবং সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে দু’পক্ষই নিজেদের ফেসবুক আইডিতে নানা মন্তব্য করেছেন।
কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল বৃহস্পতিবার রাতে দলীয় শৃঙ্খলা লঙ্ঘন ও গঠনতন্ত্রের পরিপন্থি কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন খায়রুল হুদা চপলকে। শোকজ নোটিশে তিনি উল্লেখ করেছেন, যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ-এর নির্দেশনা অমান্য করে আগামী ১৭ অক্টেবরের সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপনার নিকট আত্মিয় বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রচার-প্রচারণার অভিযোগ রয়েছে। যা দলীয় শৃঙ্খলা লঙ্গন ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থি এতে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। গঠনতন্ত্রের ২২(ক) ধারা মোতাবেক কেন আপনার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ বরাবর লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে নির্দেশ প্রদান করা হলো। অন্যতায় সংগঠনের গঠনতন্ত্র মোতাবেক আপনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল হুদা মুকুটের অভিযোগ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচারণায় নেমেছেন সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক। গত ২৮ সেপ্টেম্বর ছাতকের মোড়ল কমিউনিটি সেন্টারে চেয়ারম্যান – মেম্বারদের সঙ্গে সভা করে তিনি আমার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী অ্যাড. খায়রুল কবির রুমেনের জন্য ভোট চেয়েছেন। ২৮ সেপ্টেম্বরের আগেই জেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্ণিং অফিসার এর কাছে ওই সভায় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক উপস্থিত থেকে ভোটের প্রচারণা করবেন জানিয়ে আবেদন করার পরও সংসদ সদস্য ওখানে গেছেন। প্রচারণা করেছেন। সংসদ সদস্যের দেওয়া ভিডিও বক্তব্যও আমার কাছে আছে। জেলা পরিষদ নির্বাচনী আচরণ বিধিমালার ২২ ধারা অনুসারে তিনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। এভাবে সংসদ সদস্য প্রচারণায় থাকলে নির্বাচনী সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট হবে বলেও মুকুট দাবি করেন।
অবশ্য, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেছেন, ২৮ সেপ্টেম্বর ছাতকের মোড়ল কমিউনিটি সেন্টারে দলীয় সভানেত্রী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার জন্মদিনের কেককাটা অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক এসেছিলেন। এসময় নির্বাচন বিষয়ে কোন আলোচনা হয় নি।
ছোট ভাই জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক খায়রুল হুদা চপল নির্বাচনী প্রচারণায় কোথাও যাননি দাবি করে মুুকুট বলেলন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এ ধরণের অভিযোগ যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানানো হয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাড. খায়রুল কবির রুমেনকে আওয়ামী লীগের দলীয় সমর্থিত প্রার্থী করা হয়েছে। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমনের বড় ভাই। অপরদিকে, জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট এবারও এই পদে লড়ছেন। তিনি জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খায়রুল হুদা চপলের বড় ভাই।