শেকড়ের সন্ধানে সফল অনুধ্যান

নন্দলাল শর্মা
দেশ বিভাগের পূর্বে কাছাড় ও সিলেট জেলা সুরমা বরাক উপত্যকা নামে বেসরকারি ভাবে পরিচিতি ছিল। এই দুই জেলার জেলা সদর ছিল যথাক্রমে শিলচর ও সিলেট। তখন এখানকার সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাÐ মূলত এই দুটি শহরকে কেন্দ্র করে- আবার কখনও বা মহকুমা শহর করিমগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জে অনুষ্ঠিত হত। সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় ঔপনিবেশিক যুগে এ অঞ্চল প্রাগ্রসর ছিল- কলকাতা থেকে বহু দূরে প্রান্তিক অঞ্চল হলেও। উনিশ শতকের নবজাগরণের প্রভাব সুরমা-বরাক উপত্যকায় পড়েছিল। ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে কৃষ্ণচন্দ্র শিরোমণির ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণের গদ্যানুবাদ ‘পুরাণবোধোদ্দীপনী’ ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে প্যারীচরণ দাসের কাব্য ‘মিত্রবিলাপ’, ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে শরচ্চন্দ্র চৌধুরীর নাটক ‘ভারতের সুখস্বপ্ন’, মহিলা কবি কৃষ্ণপ্রিয়া চৌধুরীর ‘নারীমঙ্গল’ কাব্য ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে এ অঞ্চলের প্রথম পত্রিকা সাপ্তাহিক ‘শ্রীহট্ট প্রকাশ’ প্রকাশিত হয়, সম্পাদক ছিলেন স্বভাব কবি প্যারীচরণ দাস। এরপর আরও পত্রপত্রিকা ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রকাশিত হয়েছে। ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে প্রথম উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে গ্রন্থটির নাম ‘রণচÐী’; লেখক হারাণচন্দ্র রাহা। ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে রামকুমার নন্দী মজুমদারের ‘বীরাঙ্গনা পত্রোত্তর কাব্য’ প্রকাশিত হয়। ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে দীনবন্ধু মিত্র শিলচরে কর্মরত থাকা কালীন (১৮৭১খ্রি:) কাছাড়ের ইতিহাস অবলম্বন করে রচনা করেন ঐতিহাসিক নাটক ‘কমলে কামিনী’। ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে এখানে ছোটগল্প রচিত হয়েছে। কাজেই বঙ্গদেশের এই প্রান্তিক অঞ্চলে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের জয়যাত্রা সূচিত হয়েছে উনিশ শতকের শেষ দিকেই। এ অঞ্চলের প্রথম ফোকলোরবিদ মহামহোপাধ্যায় পদ্মনাথ ভট্টাচার্য ১৮৯৮ সালে এ বিষয়ে প্রথম ইংরেজিতে প্রবন্ধ রচনা করেন। বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির ইতিহাসে সুরমা-বরাক উপত্যকার অগ্রযাত্রা নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সুরমা উপত্যকায় প্রথম সাহিত্য সংগঠন ‘সুরমা সাহিত্য সম্মিলনী’। ১৯০৯ সালে হবিগঞ্জের জলসুখায় ‘সুরমা উপত্যকা রাজনৈতিক সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হয়। ঐ অধিবেশনেই ‘সুরমা সাহিত্য সম্মিলনী’ গঠিত হয়। উল্লেখ্য ‘সুরমা উপত্যকা রাজনৈতিক সম্মেলনের নয়টি অধিবেশন হয়েছিল ১৯০৬ থেকে ১৯৩২ সালের মধ্যে। সিলেট, করিমগঞ্জ, জলসুখা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ-এ অধিবেশন হয়েছে।
সুরমা সাহিত্য সম্মিলনীর প্রথম অধিবেশন ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে করিমগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় অধিবেশন ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে শিলচরে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম অধিবেশনে একটি সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত গ্রহীত হয়। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয় দ্বিতীয় অধিবেশনের পর। দ্বিতীয় অধিবেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাসিক সাহিত্য পত্রিকা ‘শ্রীভূমি’ করিমগঞ্জ থেকে প্রকাশিত হয় ১৩২২ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসে (১৯১৫ খ্রিস্টাব্দ)।
শিলচরে অনষ্ঠিত সুরমা সাহিত্য সম্মিলনীর দ্বিতীয় অধিবেশনের শতবর্ষ পূর্তি ও ‘শ্রীভূমি’ সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশের শতবর্ষ উদযাপন করে বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন কাছাড় জেলা সমিতি। বর্ষব্যাপী এ অনুষ্ঠানের সূচনা হয় ২০১৫ খ্রিস্টাব্দের ২৮ ডিসেম্বর এং সমাপনী অনুষ্ঠান হয় ২০১৬ খ্রিস্টাব্দের ২৯ ডিসেম্বর। বর্ষব্যাপী এ মহাযজ্ঞের তেরটি অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হয়। উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান ছাড়া এগারটি অনুষ্ঠান হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তৈমুর রাজা চৌধুরী। ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে সুরমা সাহিত্য সম্মিলনীর উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমেই শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। বর্ষব্যাপী অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন শিলচর উইমেন্স কলেজের অবসর প্রাপ্ত অধ্যক্ষা অশীতিবর্ষীয়া শ্রীযুক্তা পরিমল দে। আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন গৌতম প্রসাদ দত্ত ও সঞ্জীব দেব লস্কর। নির্দিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন ইমাদ উদ্দিন বুলবুল ও তুষারকান্তি নাথ।
প্রথম অনুষ্ঠান হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ২০১৬ খ্রিস্টাব্দের ২১ ফেব্রæয়ারি। সূচনায় পরিবেশিত হয় কবি আলাউদ্দিন খাঁ রচিত ভট্টসঙ্গীত ‘বাংলা ভাষার শহীদের স্মৃতি সঙ্গীত’। এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ভাষিক গোষ্ঠীর- বাংলা, অসমিয়া, বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী, ডিমাসা, হিন্দি, মার, মণিপুরী, নেপালি, রংমাই নাগা, চা বাগান অঞ্চলের নৃ গোষ্ঠী- বারজন উজ্জ্বল ব্যক্তিকে সংবর্ধিত করা হয়। মরণোত্তর সংবর্ধনা প্রদান করা হয় কবি ছবি গুপ্তাকে। এ অনুষ্ঠানে প্রকাশিত হয় ‘শ্রীভূমি’ পত্রিকার প্রথম বর্ষ প্রথম সংখ্যার প্রতিলিপি সংস্করণ। এই সংস্করণে একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ আছে সংযোজক ড. অমলেন্দু ভট্টাচার্যের। সংস্করণটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন ডা. মনুজেন্দ্র শ্যাম।
২৭ মার্চ বিশ্ব নাট্য দিবসে সাংস্কৃতিক উপসমিতির ব্যবস্থাপনায় তারাপুরের শামচরণ দেব বিদ্যাপীঠ স্কুলে অনুষ্ঠিত হয় রামকুমার নন্দী মজুমদার স্মরণ অনুষ্ঠানে। এতে রামকুমার নন্দী মজুমদারের পরিচিতিমূলক প্রচারপত্র প্রকাশ করেন দীনেন্দ্র নারায়ণ বিশ্বাস। পরিবেশিত হয় গীতি আলেখ্য ‘কথা ও সুরে রামকুমার স্মরণ’। মলয় দেব এর তথ্যগত সহযোগিতায় শেখর দেবরায় রচিত এই গীতি আলেখ্যে রামকুমার নন্দী মজুমদারের একটি প্রতিকৃতি উপহার দেওয়া হয় স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ঠাকুরদাসী নুলিয়াকে।
২৮ ও ২৯ মে তৃতীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে লোকসংস্কৃতি উপসমিতি। প্রথম দিনে তুষারকান্তি নাথ রচিত ‘বসন্ত ঋতুর গান’ গীতিআলেখ্য এবং দ্বিতীয় দিনে পালাগান ‘আয়নাপরি’ পরিবেশিত হয়। সেদিন বরাক উপত্যকার পাঁচজন লোকসঙ্গীত শিল্পীকে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়।
চতুর্থ অনুষ্ঠান হয় ৩ জুন। এ অনুষ্ঠানে ‘শ্রীভূমি পত্রিকা ও এ অঞ্চলের সাহিত্যচর্চা’ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন বাংলাদেশের নন্দলাল শর্মা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তৈমুর রাজা চৌধুরী এবং সঙ্গীত পরিবেশন করেন তাহেরা বেগম লস্কর।
৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চম অনুষ্ঠান। এটি ছিল সংবাদ মাধ্যম সম্পর্কিত আলোচনা সভা। সভাপতিত্ব করেন তৈমুর রাজা চৌধুরী। বক্তা ছিলেন অধ্যাপক জয়দীপ বিশ্বাস। বিষয়- ‘বরাক উপত্যকার উন্নয়নে ও গণদাবি পূরণে সংবাদ মাধ্যমের ভূমিকা’। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সঞ্জীব দেব লস্কর।
ষষ্ঠ অনুষ্ঠান লোকসঙ্গীত কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয় ১৮ আগস্ট। বিশেষজ্ঞ রূপে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লোকসংস্কৃতিবিদ অধ্যাপক বরুণকুমার চক্রবর্তী ও ‘দোহার’ খ্যাত কালিকা প্রসাদ ভট্টচার্য (প্রয়াণ ২২ জানুযারি ২০১৭)। কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন বত্রিশজন গায়ক ও গবেষক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দীনেন্দ্র নারায়ণ বিশ্বাস। সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তৈমুর রাজা চৌধুরী, প্রধান অতিথি ছিলেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. দিলীপ চন্দ্র নাথ এবং সম্মানিত অতিথি ছিলেন বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের কেন্দ্রীয় সমিতির সভাপতি নীতীশ ভট্টচার্য।
সপ্তম অনুষ্ঠান ছিল ২৬ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর। এটি ছিল বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের নিয়মিত বার্ষিক কর্মসূচি বইমেলা। পত্র পত্রিকা প্রদর্শনী শুরু হয় ২৯ নভেম্বর। উদ্বোধন করেন দীনেন্দ্র নারায়ণ বিশ্বাস। প্রদর্শনীতে বিভিন্ন অঞ্চলের দুষ্প্রাপ্য কিছু সাহিত্য পত্রিকা ও সংবাদপত্র এবং গ্রামাঞ্চল থেকে প্রকাশিত অধুনালুপ্ত ১৫০টি পত্র পত্রিকা প্রদর্শিত হয়। ঐদিন সন্ধ্যায় পাÐুলিপি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন নবেন্দু চৌধুরী ও তৈমুর রাজা চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন গুরুচরণ কলেজের অধ্যক্ষ ড. বিভাস দেব এবং দৈনিক যুগশঙ্খ পত্রিকার নির্বাহী সঞ্চালক নীলোৎপল চৌধুরী। প্রদর্শনী উপলক্ষে ড. মলয় দেব রচিত ‘মধ্যযুগের পাÐুলিপি: পরিচিতি’ নামে একটি তথ্য পুস্তিকা বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। প্রদর্শনীতে ছিল সংস্কৃত এবং চৌদ্দটি বাংলা পাÐুলিপি। চারুকলা প্রদর্শনী শুরু হয় ২৬ নভেম্বর।
অষ্টম অনুষ্ঠান ছিল লিটল ম্যাগাজিন মেলা। বইমেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় ২ থেকে ৪ ডিসেম্বর। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন মহবুবুল বারী। মেলা উপলক্ষে পাঁচটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়, প্রদর্শিত হয় ২৫টি লিটল ম্যাগাজিন।
নবম অনুষ্ঠান হয় ২৭ ডিসেম্বর। এটি ছিল আবৃত্তির অনুষ্ঠান ‘স্বাধীনতা আন্দোলনের কবিতা ও গান’। আলেখ্যটি রচনা করেন দেবাঙ্গন মুখোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন তৈমুর রাজা চৌধুরী। আবৃত্তির পর একক ও সমবেত সঙ্গীত পরিবেশিত হয়।
নাটক উপ সমিতির উদ্যোগে দশম অনুষ্ঠান হয় ২৮ ডিসেম্বর। মঞ্চস্থ হয় দীনবন্ধু মিত্রের ঐতিহাসিক নাটক ‘কমলে কামিনী’। নাটকটি এই প্রথম বরাক উপত্যকায় মঞ্চস্থ হয়। উনিশ শতকে লেখা নাটকটি সম্পাদনা করে (সম্পাদক ড. অমলেন্দু ভট্টচার্য) একুশ শতকে অভিনীত হল।
লোকসংস্কৃতি উপসমিতির ব্যবস্থাপনায় একাদশ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় ২৯ ডিসেম্বর। ডিমাসা, মণিপুরী, রঙমাই নাগা, চা জনগোষ্ঠী ও বঙ্গীয় সমাজের বিভিন্ন লোকনৃত্য এতে পরিবেশিত হয়।
সমাপ্তি অনুষ্ঠানে (২৯ ডিসেম্বর) সভাপতিত্ব করেন তৈমুর রাজা চৌধুরী। প্রধান অতিথি ছিলেন গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. উষারঞ্জন ভট্টাচার্য। মঞ্চে আসীন ছিলেন শতবর্ষ উদযাপন কমিতির কার্যকরী সভাপতি দীনেন্দ্র নারায়ণ বিশ্বাস, বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নীতিশ ভট্টাচার্য ও সম্পাদক গৌতম প্রসাদ দত্ত। সম্পাদক পরিতোষ দে এর ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে বর্ষব্যাপী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
বর্ষব্যাপী অনুষ্ঠান সমাপ্তির পর ২০১৮ সালে প্রকাশিত হয়েছে ড. অমলেন্দু ভট্টাচার্য সম্পাদিত ‘শিলচরে অনুষ্ঠিত সুরমা সাহিত্য সম্মিলনীর দ্বিতীয় অধিবেশনের শতবর্ষ পূর্তি ও শ্রীভূমি পত্রিকা প্রকাশের শতবর্ষ উদযাপন সমিতি স্মারক গ্রন্থ’। ৪০০ পৃষ্ঠার রয়েল সাইজের এ গ্রন্থটির সম্পাদনা সমিতিতে আছেন মনুজেন্দ্র শ্যাম (সভাপতি) এবং সদস্য প্রভাসচন্দ্র নাথ, জ্যোৎ¯œা হোসেন চৌধুরী, জয়দীপ বিশ্বাস ও মেঘমালা দে মোহন্ত। প্রকাশ করেছেন তৈমুর রাজা চৌধুরী, সভাপতি বরাক উপত্যাকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন কাছাড় জেলা সমিতি এবং সভাপতি শিলচরে অনুষ্ঠিত সুরমা সাহিত্য সম্মিলনীর দ্বিতীয় অধিবেশনের শতবর্ষ পূর্তি ও শ্রীভূমি পত্রিকা প্রকাশের শতবর্ষ উদযাপন সমিতি, বঙ্গভবন, অরুণ কুমার চন্দ রোড, শিলচর ৭৮৮০০১, কাছাড়, আসাম। প্রচ্ছদ শিল্পী সুকান্ত ঘোষ, অক্ষর বিন্যাস সাগরিকা প্রেস, কলকাতা-৬; মুদ্রণ কৌশিক নন্দী, গুটেনবার্গ। গ্রন্থটি শ্রদ্ধার সঙ্গে উৎসর্গ করা হয়েছে বঙ্গবিদ্যাচর্চায় স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব সুরমা উপত্যকার সুসন্তান অধ্যাপক যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্যের পুণ্য স্মৃতির উদ্দেশে। শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করা হয়েছে বর্ষব্যাপী অনুষ্ঠান চলাকালে প্রয়াত লোকসঙ্গীত বিশেষজ্ঞ কালিকা প্রসাদ ভট্টাচার্য ও শতবর্ষ উদযাপন সমিতির সম্পাদক পরিতোষ দে -কে। সভাপতির প্রাক কথন লিখেছেন তৈমুর রাজা চৌধুরী (সভাপতি), কার্যকরী সভাপতির শুভেচ্ছা লিখেছেন দীনেন্দ্র নারায়ণ বিশ্বাস; সম্পাদকীয় লিখেছেন ড. অমলেন্দু ভট্টাচার্য। সম্পাদকীয়তে দুঃখের সঙ্গে বলা হয়েছে “সংশ্লিষ্ট উপসমিতিগুলির আন্তরিক প্রয়াসে অনুষ্ঠানগুলি সংবাদ মাধ্যমে প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু অনুষ্ঠান সমূহে সাহিত্য সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত বিশেষত বাংলা ও ইতিহাসের শিক্ষক গবেষকদের অনুপস্থিতি আমাদের বিস্মিত করেছে।” সম্পাদকীয়তে সুরমা-বরাক উপত্যকায় আধুনিক বাংলা সাহিত্যের সূচনা লগ্নের সারস্বত কর্ম সম্পর্কে উল্লেখ করে সাম্প্রতিক কালে কোনো কোনো মহলে এই ঐতিহ্যকে অস্বীকার করার প্রবণতাকে দুঃখের সঙ্গে স্মরণ করা হয়েছে। সম্পাদকীয় নিবন্ধের পর সম্পাদকের লেখা আরো দুটি নিবন্ধ ‘সুরমা পরিচিতি’ ও ‘সুরমা সাহিত্য সম্মিলনী প্রতিষ্ঠা ও শ্রীভূমি পত্রিকা প্রকাশের প্রেক্ষাপট’ স্থান পেয়েছে। দ্বিতীয় নিবন্ধটি তথ্যমূলক।
সম্পাদকীয়- এর পর সংকলিত হয়েছে করিমগঞ্জ শহরে অনুষ্ঠিত ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত সুরমা সাহিত্য সম্মিলনীর প্রথম সভাধিবেশনে অভ্যর্থনা সমিতির সভাপতি শ্রীভারতচন্দ্র চৌধুরী এর মুদ্রিত বক্তৃতা ‘শ্রীহট্টে সাহিত্য চর্চা’; সুরমা সাহিত্য সম্মিলনীর প্রথম অধিবেশনে প্রকাশিত গীতি সঙ্কলন ‘বন্দনা’ (চারটি গান); সাপ্তাহিক সুরমা পত্রিকায় প্রকাশিত সুরমা সাহিত্য সম্মিলনী শিলচর অধিবেশন সম্পর্কিত বিজ্ঞপ্তি ( ২১ ডিসেম্বর ১৯১৪ খ্রি.), অধিবেশন সম্পর্কিত সম্পাদকীয় প্রতিবেদন (২৮ ডিসেম্বর ১৯১৪ খ্রি.), অভ্যর্থনা সমিতির সভাপতি শ্রীকামিনী কুমার চন্দের অভিভাষণ (মুদ্রণের তারিখ ২৮ ডিসেম্বর ১৯১৪); দ্বিতীয় অধিবেশনে পঠিত সভাপতি মহামহোপাধ্যায় শ্রীপদ্মনাথ দেবশর্ম্মণ- এর অভিভাষণ (‘গৃহস্থ’ চৈত্র ১৩২১ বঙ্গাব্দ); সুরমা পত্রিকায় (৪ জানুয়ারি ১৯১৫) প্রকাশিত সম্পাদকীয় প্রতিবেদন; সুরমা পত্রিকায় প্রকাশিত সুরমা সাহিত্য সম্মিলনীর বিশেষ প্রতিবেদন (প্রকাশ ৪ জানুয়ারি ১৯১৫)। এই প্রতিবেদন রচনায় সহযোগিতা করেছেন শ্রীজগন্নাথ দেব। একথা সুরমা পত্রিকার ম্যানেজার উল্লেখ করেছেন।
এরপর সংকলিত হয়েছে দ্বিতীয় অধিবেশনে পঠিত প্রবন্ধ শ্রীজগন্নাথ দেব এর ‘শ্রীহট্ট কাছাড়ের তথ্যানুসন্ধান’; শ্রীমহেন্দ্র নাথ কাব্যসাঙ্খ্যতীর্থ এর ‘বঙ্গ নাটকের অপূর্ণতা’; মৌলভীবাজারে অনুষ্ঠিত সুরমা উপত্যকা সাহিত্য সম্মিলনী তৃতীয় অধিবেশনে অভ্যর্থনা সমিতির সভাপতি শ্রীদয়াল কৃষ্ণ দত্ত এর অভিভাষণ; ঐ অধিবেশনে সভাপতি শ্রীভুবনমোহন দেবশর্মার অভিভাষণ; ঐ অধিবেশনে ইন্ডিয়া ক্লাবের সভ্যগণকর্তৃক গীত ‘বন্দনাগীতি’; অধিবেশনে পঠিত প্রবন্ধ শ্রীসতীশচন্দ্র রায়ের ‘রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলি’; শ্রীহট্টে অনুষ্ঠিত চতুর্থ অধিবেশনে অভ্যর্থনা সমিতির সভাপতি শ্রীপ্রমোদ চন্দ্র দত্ত-এর অভিভাষণ (২১ চৈত্র ১৩২৬ বাংলা); প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত ষষ্ঠ অধিবেশন (শিলচর ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ) সম্পর্কিত প্রবাসী পত্রিকার সংবাদ; ভবিষ্যৎ পত্রিকায় প্রকাশিত ষষ্ঠ অধিবেশন সম্পর্কিত প্রতিবেদন; ঐ অধিবেশনে প্রবাসী সম্পাদক শ্রীরামানন্দ চট্টোপাধ্যায়কে প্রদত্ত ভূপেন্দ্র শ্যাম এর অভিনন্দন কবিতা; ভবিষ্যৎ পত্রিকায় অধিবেশন সম্পর্কিত সম্পাদকীয় নিবন্ধ ১. সুরমা সাহিত্য সম্মেলন, ২. শ্রীযুক্ত রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়; অভ্যর্থনা সমিতির সভাপতি শ্রীকামিনী কুমার চন্দ এর অভিভাষণ; প্রবাসী’তে প্রকাশিত (জ্যৈষ্ঠ ১৩৩৫ বঙ্গাব্দ) ষষ্ঠ অধিবেশনে (শিলচর, ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উপন্যাস ‘পথের দাবী’ বাজেয়াপ্ত করা প্রসঙ্গে বিতর্ক’। এছাড়া সংকলিত হয়েছে ‘আরও একটি ভাষণ’- ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে প্রগতি লেখক সঙ্ঘ আয়োজিত ‘সুরমা উপত্যকা সাহিত্য সম্মিলনী শ্রীহট্ট অধিবেশনের অভ্যর্থনা সমিতির সভাপতি শ্রীযোগেন্দ্র কুমার চৌধুরীর অভিভাষণ।
স্মারকগ্রন্থের পরবর্তী অংশ ‘প্রসঙ্গ শ্রীভূমি সাহিত্য পত্রিকা’। এখানে সংকলিত হয়েছে ‘ভারতবর্ষ’ পত্রিকায় শ্রীভূমি পত্রিকা প্রকাশ সম্পর্কিত সংবাদ, শ্রীভূমি ১ম বর্ষ ১ম সংখ্যায় প্রকাশিত পরিচালকবর্গের প্রতিবেদন ‘সূচনা’, ২য় বর্ষ ১ম সংখ্যায় প্রকাশিত পরিচালকবর্গের প্রতিবেদন ‘নববর্ষ’, শ্রীভূমি পত্রিকার বিষয় ও লেখকসূচি, শ্রীভূমি পত্রিকায় প্রকাশিত কয়েকটি রচনা- (ক) কবিতা : শ্রীনগেন্দ্র চন্দ্র শ্যাম এর ‘চলার গান’; শ্রীমশাহেদ উদ্দিন চৌধুরীর ‘কোকিল’; শ্রীভক্তি উষা দাস এর ‘পুরীতে সাগর দর্শন’; আবুল ফতেহ আহম্মদ ওলী উল্লা মরহুম-এর ‘কোরআন’ (খ) ছোটগল্প- শ্রীমতী এর ‘এপ্রিল ফুল’, শ্রীদেবেন্দ্র নাথ মহিন্তা-এর ‘যৌবনের খেয়াল’, শ্রীপ্রীতিলতা ঘোষ-এর ‘নারী শক্তি’, শ্রীজ্যোতিরিন্দ্র নাথ দাস-এর ‘চন্দ্রা’ (গ) প্রবন্ধ- জগন্নাথ দেব-এর ‘হেড়ম্বের ইতিকথা’, শ্রীশশিভূষণ দাস এর ‘তামাকু পুরাণ’, শ্রীকুঞ্জকুমার চৌধুরীর ‘চিত্রবোধ’, শ্রীসুরেন্দ্রকুমার চক্রবর্তীর ‘দুটী প্রেমধারা।
গ্রন্থের পরবর্তী অধ্যায় ‘শ্রীহট্ট কাছাড় অনুসন্ধান সমিতি’। সম্পাদক সংস্থাটির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দিয়েছেন। শিলচরে অনুষ্ঠিত সুরমা সাহিত্য সম্মিলনীর দ্বিতীয় অধিবেশনে এই সংস্থা গঠিত হয়। এই সংস্থা আয়োজিত প্রবন্ধ পাঠের আসরে পঠিত পদ্মনাথ ভট্টাচার্য বিদ্যাবিনোদের দুটি প্রবন্ধ এ অধ্যায়ে প্রকাশিত হয়েছে। প্রবন্ধ দুটির শিরোনাম- ‘শ্রীহট্টের প্রবাদবাক্য’ এবং ‘সমতটের পূর্ব্বে’।
পরবর্তী অধ্যায় ‘সুরমা সাহিত্য সম্মিলনী’ ও ‘শ্রীভূমি’ পত্রিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির পরিচিতি। যাঁদের পরিচিতি প্রকাশিত হয়েছে- তারা হলেন অবন্তীনাথ দত্ত, কামিনী কুমার চন্দ, কুঞ্জকিশোর চৌধুরী, জগন্নাথ দেব, নগেন্দ্রচন্দ্র শ্যাম, পদ্মনাথ ভট্টাচার্য বিদ্যাবিনোদ, ভক্তিউষা দাস, ভারতচন্দ্র চৌধুরী, ভুবনমোহন ভট্টাচার্য্য বিদ্যার্ণব, মহেন্দ্রনাথ কাব্য সাঙ্খ্যতীর্থ, শরচ্চন্দ্র চৌধুরী, সতীশচন্দ্র দেব, সতীশচন্দ্র রায় এবং সুরেন্দ্রকুমার চক্রবর্তী।
পরবর্তী অধ্যায় ‘প্রসঙ্গ শতবর্ষ উদযাপন’। এতে স্থান পেয়েছে শিলচরে অনুষ্ঠিত সুরমা সাহিত্য সম্মিলনীর দ্বিতীয় অধিবেশনের শতবর্ষ পূর্তি ও ‘শ্রীভূমি’ পত্রিকা প্রকাশের শতবর্ষ উদযাপন সমিতির কার্যনির্বাহীবৃন্দের নামের তালিকা, বর্ষব্যাপী অনুষ্ঠানের প্রতিবেদন, পাÐুলিপি প্রদর্শনী সম্পর্কে কয়েকজন দর্শকের অভিমত, পত্রপত্রিকা প্রদর্শনী সম্পর্কে কয়েকজন দর্শকের অভিমত, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের উদযাপন সমিতির সভাপতি তৈমুর রাজা চৌধুরীর অভিভাষণ, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পঠিত দুটি প্রবন্ধের সার সংক্ষেপ (ইমাদ উদ্দিন বুলবুল-এর ‘ভাষা ও সাহিত্যচর্চার বিকাশে সাহিত্য সংগঠনের ভূমিকা’ এবং তুষার কান্তি নাথ এর ‘গ্রাম কাছাড়ের সাহিত্য পত্রিকা : একটি অবলোকন’) ; প্রথম অনুষ্ঠানে পঠিত বক্তৃতার সার সংক্ষেপ (আবিদ রাজা মজুমদার এর উপভাষা চর্চার প্রাসঙ্গিকতা; চতুর্থ অনুষ্ঠানে প্রদত্ত বক্তৃতার সারসংক্ষেপ (নন্দলাল শর্মার ‘সাহিত্য পত্রিকা মাসিক শ্রীভূমি’); পঞ্চম অনুষ্ঠানে প্রদত্ত বক্তৃতার সারসংক্ষেপ (জয়দীপ বিশ্বাসের ‘রাষ্ট্র নয়, ব্যক্তির পাশে দাঁড়াক সংবাদ মাধ্যম’) কর্মশালার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা (তৈমুররাজা চৌধুরী), ত্রিদিবসীয় লোকসঙ্গীত কর্মশালার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বরুণকুমার চক্রবর্তীর শুভেচ্ছা বার্তা, ত্রিদিবসীয় লোকসঙ্গীত কর্মশালার বিশেষজ্ঞ কালিকা প্রসাদ ভট্টাচার্যের অনুভব, সমাপ্তি অনুষ্ঠানে উদযাপন সমিতির সভাপতি তৈমুর রাজা চৌধুরীর ভাষণ এবং সমাপ্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অধ্যাপক উষারঞ্জন ভট্টাচার্যের ভাষণ।
সবশেষে আছে শতবর্ষ উদযাপন সমিতির বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্পর্কে সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং ফটোগ্রাফ। যে সকল সংবাদপত্র থেকে প্রাসঙ্গিক সংবাদ সংকলন করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে- সাময়িক প্রসঙ্গ (শিলচর), আনন্দবাজার পত্রিকা (শিলচর সংস্করণ), প্রান্তজ্যোতি পত্রিকা (শিলচর), ঊধংঃবৎহ ঈযৎড়হরপষব (শিলচর), ঞযব ঞবষবমৎধঢ়য (গুয়াহাটি), যুগশঙ্খ (শিলচর), প্রান্তজ্যোতি (শিলচর)। এছাড়া শ্রীহট্ট কাছাড় অনুসন্ধান সমিতির প্রথম গ্রন্থ ‘হেড়ম্বরাজ্যের ঋণদান বিধি’:- শ্রীভূমি ১ম বর্ষ ১ম সংখ্যায় ও সুরমা সাহিত্য সম্মিলনীর প্রথম অধিবেশনে ভারতচন্দ্র চৌধুরীর বক্তৃতার মুদ্রিত কপির প্রচ্ছদ, বৃহন্নারদীয় পুরাণ পুথির প্রথম ও শেষ পৃষ্ঠা, সুরমা পত্রিকায় (২০ পৌষ ১৩২১) প্রকাশিত সুরমা সাহিত্য সম্মিলনীর শিলচর অধিবেশনের সংবাদ, শম্ভুনাথ দেশমুখ্যের আঁকা কাশীযাত্রার জলপথের নকশা, সম্মিলনীর ষষ্ঠ অধিবেশন উপলক্ষে প্রকাশিত উপস্থিত প্রতিনিধি বর্গের ছবি (সূত্র- শ্রীভূমি ১ম বর্ষ ১ম সংখ্যা থেকে)। সংযোজিত হয়েছে বর্ষব্যাপী অনুষ্ঠানের ৪৮টি রঙ্গিন ফটোগ্রাফ।
শিলচরে অনুষ্ঠিত সুরমা সাহিত্য সম্মিলনীর দ্বিতীয় অধিবেশনের শতবর্ষ পূর্তি ও শ্রীভূমি সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশের শতবর্ষ বর্ষব্যাপী উদযাপন করে বরাক উপত্যকা বঙ্গসাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন কাছাড় জেলা সমিতি এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছেন। সাহিত্যপ্রেম মজ্জাগত না হলে, কঠোর উদ্যমী না হলে এবং ঐক্যবদ্ধ আন্তরিক প্রচেষ্টা না থাকলে এ রকম এক মহতী উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন করা অসম্ভব। বর্ষব্যাপী অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু প্রকাশিত স্মারক গ্রন্থটি যুগযুগ ধরে উদ্যোক্তাদের সাহিত্যপ্রীতি, স্বদেশপ্রেম, মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধ, ঐতিহাসিক কর্তব্যসচেতনতার স্মারক হয়ে থাকবে। গ্রন্থটি পাঠ করলে বর্ষব্যাপী অনুষ্ঠানের কর্মসূচির একটি উজ্জল চিত্র মানসলোকে ভেসে উঠে। এখানেই গ্রন্থটি প্রকাশনার সার্থকতা। একটি অননুকরণীয় মহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন কাছাড় জেলা সমিতি। প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থটির সম্পাদক ও তাঁর সহকর্মীদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা গ্রন্থটির প্রতিটি পৃষ্ঠায় উদ্ভাসিত হয়ে আছে। ড. অমলেন্দু ভট্টচার্য এর আগে সম্পাদনা কার্যে কুশলতার পরিচয় দিয়েছেন। যোগ্য ব্যক্তিকেই সমিতি দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন। এই গ্রন্থ সম্পাদনায় ড. ভট্টাচার্যের পূর্ববর্তী সকল সম্পাদনার অভিজ্ঞতা কাজে লেগেছে। ফলে এক অসাধারণ সারস্বত কর্ম হিসেবে স্মারক গ্রন্থটি যুগযুগ ধরে সম্মেলনটির মহিমা গান করবে। বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন কাছাড় জেলা শাখাকে অশেষ ধন্যবাদ।