শেষ পর্যন্ত জয়া-নাছিরেই নির্বাচনী লড়াই?

বিশেষ প্রতিনিধি
দিরাই-শাল্লা উপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন সুনামগঞ্জ-২। দেশের বহুল আলোচিত নির্বাচনী এলাকা এটি। হাওরপাড়ের এই আসনে ৮ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। সুবক্তা ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ হিসেবে জাতীয় সংসদসহ দেশ-বিদেশে বিশেষ আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনি।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুর পর উপ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তার সহধর্মিনী ড. জয়া সেনগুপ্তা।
ওই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সায়েদ আলী মাহবুব রেজু মিয়াকে বিএনপি সমর্থন ও সহযোগিতা করেছিল বলে নানা অভিযোগ উঠেছিল। যদিও এসব অভিযোগ নাকচ করেছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী।
জানা যায়, আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনে এই আসনে অংশগ্রহণের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন ড. জয়া সেনগুপ্তাসহ ১১ জন প্রার্থী।
ড. জয়া সেনগুপ্তার পাশাপাশি এই আসনে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মতিউর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও শাল্লা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাড. অবনী মোহন দাস, আওয়ামী লীগ নেতা সাংবাদিক দীপক চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ইয়ামিন চৌধুরী, অ্যাড. শামছুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য ব্যারিস্টার অনুকুল তালুকদার ডাল্টন, আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক ভিপি ইকবাল হোসেন, ডা. আজাদুর রহমান, সামছুল হক ও সায়েদ আলী মাহবুব রেজু মিয়া।
তবে বিভিন্ন সূত্র মতে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার দৌঁড়ে এগিয়ে আছেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সহধর্মিনী বর্তমান সংসদ সদস্য ড. জয়া সেনগুপ্তা।
এদিকে বিএনপি থেকে এই আসনে নির্বাচন করতে মাঠে কাজ করছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী। তিনি মঙ্গলবার দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এছাড়াও এই আসনে আরও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন দিরাই উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ মরহুম আব্দুস সহীদ চৌধুরীর ছেলে যুক্ত্যরাজ্য বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক অ্যাড. তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল, বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার আব্দুল মজিদ তাহের, সিলেট মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব চৌধুরী ও বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে জেলা বিএনপির সদস্য ব্যারিস্টার মাহদীন চৌধুরী সায়মন। তবে এই আসনে নাছির উদ্দিন চৌধুরীই বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী। দলীয় নেতাকর্মীদের জোর দাবি নাছির উদ্দিন চৌধুরীই এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাবেন।
এতে করে আলোচিত এই আসনে প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও নাছির উদ্দিন চৌধুরীর পরিবারের মধ্যে ভোট যুদ্ধ হবে বলে মনে করছেন রাজনীতি সচেতন মহল ও দুই দলের কর্মী-সমর্থকরা। এই আসনে অতীতের ন্যায় জমজমাট নির্বাচন হবে বলে মনে করেন সাধারণ ভোটাররা।
উপজেলা সদরের বাসিন্দা ব্যবসায়ী বাবুল মিয়া বলেন,‘ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন যদি বর্তমান সংসদ সদস্য ড. জয়া সেনগুপ্তা পান ও অন্যদিকে নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে যদি বিএনপির মনোনয়ন দেয়া হয় তাহলে অন্যান্য নির্বাচনের মতই এবারও জমজমাট নির্বাচন হবে।’
দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায় বলেন,‘ প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ছিলেন জাতীয় নেতা। তিনি সারা জীবন মাটি ও গণমানুষের রাজনীতি করে গেছেন। দিরাই-শাল্লাবাসীর প্রতিনিধি হয়ে দীর্ঘদিন জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাঁর হাতে দিরাই-শাল্লার অনেক উন্নয়ন হয়েছে। তাঁর (সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত) অবর্তমানে রাজনীতির হাল ধরেছেন তাঁর স্ত্রী ড. জয়া সেনগুপ্তা। গত উপ নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। দলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ ড. জয়া সেনগুপ্তার সাথেই আছেন। আমাদের আশা তিনি দলীয় মনোনয়ন পাবেন ও আগামী নির্বাচনে পুনরায় বিজয়ী হয়ে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবেন।’
দিরাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন,‘ একাধিক প্রার্থী দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও আমরা নিশ্চিত বিএনপির মনোনয়ন নাছির উদ্দিন চৌধুরীকেই দেয়া হবে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নও জয়া সেনগুপ্তাই পাবেন। দিরাই-শাল্লার নির্বাচন অতীতের ন্যায় এবারও সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও নাছির উদ্দিন চৌধুরীর পরিবারের মধ্যেই হবে। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমরা জয়ী হব। ’