শ্রমিক সংকটে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের কৃষকরা

ইয়াকুব শাহরিয়ার, দ. সুনামগঞ্জ
বৈশাখী কাজের পুরো ধুম পড়েছে। কাজের জন্য দম ফেলবার ফুসরত নেই দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার সাধারণ কৃষকদের। চারদিকে শুধু কাজ আর কাজ। এমন অবস্থায় ধান কাটার জন্য শ্রমিকের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। ৫শ টাকা দৈনিক শ্রমমূল্যেও মিলছে না ধান কাটার শ্রমিক। এ নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় আছেন সাধারণ কৃষকেরা। গত মৌসুমগুলোতে ধারাবাহিক ধান হারানোয় মানুষ কিছুটা শংকিত ছিলো এ বছর। কিন্তু ফলন ভালো হওয়ায় খুশি কৃষক সমাজ। সে খুশি যেনো আর স্থায়ী থাকতে চাইছে না। এ উপজেলায় ধান কাটার শ্রমিক সংকটে পরেছেন দেখার হাওর, জামখলার হাওর, সীচনীর দক্ষিণের হাওর, কাচিভাঙার হাওর, ডাবরের ডুকলাখাই, শালদিঘার হাওরসহ ছোটবড় হাওরের হাজার হাজার কৃষক। যাদের পাওয়া যাচ্ছে তাদেরও আবার শ্রমমূল্য অনেক বেশি। তাই অনেক কৃষকই নিজেদের জমিতে নেমে নিজেরাই ধান কাটা শুরু করেছেন।
রবিবারে সাধারণ কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, চারদিকে ধান কাটা শুরু হয়েছে। তাই শ্রমিকের এতো সংকট দেখা দিয়েছে। বেশি মূল্য দিয়েও শ্রমিক মিলছে না। অন্যান্য বছর বাহির থেকে শ্রমিক আসলেও এ বছর শ্রমিক আসেনি। শ্রমিকের এতোই সংকট যে, অগ্রিম ৫শ টাকা জমা দিয়েও চাহিদা অনুযায়ী শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছেনা। কৃষকরা জানান, সোনার ফসল মাঠে পেকেছে। এটা আনন্দের বিষয়। কিন্তু তারা খুশি হতে পারছেন না। প্রতি মণ ধানের দাম ৬শ টাকা। একজন শ্রমিকের মজুরি ৫শ টাকা। তাই কৃষকরা তাদের জমি থেকে বেশি লাভবান হতে পারছেন না। তবু তারা চান, যদি নিয়মিত ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যেতো তাহলে তাদের ধান তারা কাটিয়ে ঘরে নিতে পারেন। কিন্তু সেটাও হচ্ছে না। এ নিয়ে গভীর উদ্বেগের মাঝে আছেন এ উপজেলার সাধারণ কৃষকেরা।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের শিমুলবাঁক ইউনিয়নের কৃষক সন্তান ছালেহ্ আহমদ বলেন, ‘শ্রমিক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। ৪শ ৫শ টাকায়ও ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের পাকা ধান জমিতে নষ্ট হতে পারে। এ নিয়ে চিন্তিত আছি।’
আবদুল খালিক বলেন, ‘নাইয়্যা নাই। নিজে কাটেরাম। যা পাওয়া যায়রো তাও ৫শ টাকা রোজ। ইতা রোজে ধান কাটাইলে আমার ফর্তায় পোষতো নাই। তাই নিজেও কাটিলাইরাম।’
পূর্ব পাগলার আলমপুরের আনিছ মিয়া বলেন, ‘কাউটরা নাইরে বাবা। ধান তো ঝইরা পরি যায়রো। খুব টেনশনে আছি।’