শ্রেণিকক্ষ থেকে শিশুদের বের করে দেয়া- বিদ্যালয় উচ্ছেদ নয় এর সমাধান কাম্য

দোয়ারাবাজার উপজেলার মংলারগাঁও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৬৪ শিশু শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে এবং খোলা আকাশের নীচে প্রখর রোদের মাঝে পরীক্ষা দিতে বাধ্য করে দোয়ারাবাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মহোদয় যে কেবল একটি অমানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তা নয়, বরং তিনি এই কাজের মধ্য দিয়ে সরকারের সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচীর প্রতিও বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করলেন। অবস্থা এমন ছিল না যে, এই প্রাথমিক বিদ্যালয়টির কারণে তাঁর কলেজের কোন সমস্যা হচ্ছিল, অথবা এই প্রাথমিক বিদ্যালয়টি হঠাৎ গজিয়ে উঠেছিল, তারপরেও তিনি নিজে একটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হয়ে শিক্ষা জীবন সূচনাকারী ১৬৪ শিশুকে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে দিয়ে যে শিক্ষাবিমুখ মানসিকতার পরিচয় দিলেন, সেটি সকলকে পীড়িত করছে। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে এ বিষয়ে বিস্তারিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে জানা যায়, দোয়ারাবাজার উপজেলার মংলারগাঁওয়ে জনৈক ব্যক্তির দান করা জায়গায় প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয় ১৯৯৪ সনে। ৩ বছর পর বিদ্যালয় ভবনটি ঝড়ে বিধ্বস্থ হয়ে যাওয়ার কারণে বন্ধ হয়ে যায়। প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ওই জায়গায় গড়ে উঠে দোয়ারাবাজার ডিগ্রি কলেজের নতুন চার তলা ভবন। পূর্বে যে ব্যক্তি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ভূমি দান করেছিলেন তিনি এই জায়গাটি পুনর্বার কলেজের নামে দান করে দেন। ২০০৭ সনে স্থানীয় উদ্যোগে ডিগ্রি কলেজের একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে আবারও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান শুরু করা হয়। সরকারের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ কর্মসূচীর আওতায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাবে এটি আর সরকারি হয়নি। প্রাথমিক বিদ্যালয়টির শিক্ষকরা স্কুল জাতীয়করণের উদ্দেশ্যে যে স্থানে স্কুলটি পরিচালিত হচ্ছে অর্পিত সম্পত্তি তালিকাভুক্ত সেই জায়গার অংশবিশেষ বন্দোবস্তের জন্য আবেদন করেন। এই আবেদন করাই তাদের জন্য কাল হলো। ক্ষুব্ধ কলেজ অধ্যক্ষ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাইনবোর্ড নামিয়ে শেণিকক্ষে শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠ দান বন্ধ করে দেন। এমন অবস্থায় সোমবার ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খোলা আকাশের নীচে প্রখর রোদে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হয়।
খবরটি শিক্ষায় ক্রমাগ্রসরমান বাংলাদেশের জন্য সত্যিকার অর্থেই দুর্ভাগ্যজনক। ১৯৯৪ সনে একবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে দান করে পরে আবার সেটি পরিবর্তন করে কেন ওই ভূমিটুকু কলেজ কর্তৃপক্ষকে দিতে হলো সেটিও আরেক রহস্য বটে। অন্যদিকে এখন যে জায়গায় প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পরিচালিত হচ্ছে অর্থাৎ কলেজের পরিত্যক্ত টিনশেড ঘর, সেই জায়গাটুকু অর্পিত সম্পত্তিভুক্ত। এখানে অর্পিত সম্পত্তিভুক্ত ভূমির পরিমাণ ১১৫ শতক বলে সংবাদে প্রকাশ। কলেজ সম্প্রসারণের জন্য হয়তো ভবিষ্যতে আরও জায়গা লাগতে পারে। কিন্তু একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য তো খুব বেশি জমির দরকার নেই। ১১৫ শতক অর্পিত সম্পত্তিভুক্ত জমির কিয়দংশ পেলেই তাদের চলে যেত। বাকি জায়গা কলেজের কাজে ব্যবহার করতে কোন বাধা থাকার কথা নয়। এই বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সহজেই সমাধান করা যেত। কিন্তু সেই সহজ পথে না হেঁটে অধ্যক্ষ মহোদয় জোরপূর্বক জমি দখলের মতো করে প্রাথমিক বিদ্যালয়টিকে উচ্ছেদ করার ব্যবস্থা নিলেন। একটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য এমন উদাহরণ শোভনীয় নয় মোটেই।
আমরা চাই, এখানে কলেজ ও প্রাথমিক বিদ্যালয় দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই ভাল করে পরিচালিত হোক। এ উদ্দেশ্যে কলেজ কর্তৃপক্ষ, প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসন ও নেতৃবৃন্দ দ্রুতই সমাধানমূলক জায়গায় পৌঁছবেন বলে আমরা আশা করি।



আরো খবর