- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - http://sunamganjerkhobor.com -

সংকীর্ণতার উর্দ্ধে উঠে অতীতকে জানতে হবে -ড. মোহাম্মদ সাদিক

সজীব দে
বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান, কবি ও গবেষক ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেছেন, ‘মহাকবি সঞ্জয় লাউড়ের বরদ্বাজগোত্রীয় বারেন্দ্র ব্রাহ্মণ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। মহাকবি সঞ্জয়ের মহাভারতে লাউড়ের নৃপতি রাজা ভগদত্ত এবং সৈন্যবাহিনীকে মহাভারতের কুরু-পা-ব যুদ্ধে অংশগ্রহণের পরিচয় পাওয়া যায় এবং তিনি রাজা ভগদত্তকে বহুবার ‘লাউড়-ইস্বর’ বলে সম্বোধন করেছেন। এটি মোহাম্মদ সাদিকের কথা নয়। তিনি শুধু তথ্যগুলোকে সন্নিবেশিত করেছেন। দীনেশ চন্দ্র সেনের লেখায় তা প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়াও ড. কাজী দীন মুহম্মদ, ডক্টর মুনীন্দ্রকুমার ঘোষ, শ্রী সুকুমার সেনের লেখায় তা প্রমাণিত।’
তিনি বলেন, মহাকবি সঞ্জয় কোন রাজার সান্নিধ্য পাননি বলে তার রচনাও প্রসার লাভ করেনি। তিনি পূণ্যের জন্য, নিজের এলাকার মানুষের জন্য লিখেছিলেন। নিজেকে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে তাঁর একটা অনিহা ছিল। আমরা পৃথিবীর মানুষকে জানাতে চাই মহাকবি সঞ্জয় লাউড়ের, তাহিরপুরের, সুনামগঞ্জের, সিলেটের তথা সমগ্র মানব সভ্যতার গর্ব। আমাদের কেউ বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলে তা আমাদেরই রুখতে হবে। আমাদের বলতে হবে মহাকবি সঞ্জয় আমাদের এলাকার সন্তান।
জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলামকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, মহাকবি সঞ্জয়ের নামে লাউড়ে স্মারকস্তম্ভ হোক, চত্বর হোক, অদ্বৈতাচার্যের নামে চত্বর হোক, শাহ আরেফিনের চত্বর হোক। মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশে সংকীর্ণতার উর্দ্ধে উঠে নিজের অতীতকে জানতে হবে। ধরে রাখতে হবে। সংরক্ষণ করতে হবে। তাহলে সাংস্কৃতিক রাজধানী ঘোষণা করা সহজ হবে। এসময় তিনি জেলার সবগুলো জমিদার বাড়ি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়ায় জন্য জেলা প্রশাসককে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, পাকিস্তানী শাসনামলে বলা হতো মহাভারত হিন্দুদের। সেসময় রবীন্দ্র সংগীতও নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো। কিন্ত তা নয় বিশ্বের চারটি মহাকাব্যের একটি হলো মহাভারত।
তিনি বলেন, সিলেট অঞ্চল প্রাচীনকালে যে কয়টি রাজ্যে বিভক্ত ছিল তার অন্যতম লাউড় রাজ্যের রাজধানী ছিল তাহিরপুরের হলহলিয়ায়। এখনও ওখানে রয়েছে প্রাচীন নিদর্শন। হলহলিয়া লাউড় এলাকার নিকটবর্তী। বর্তমান লাউড়েরগড়কে ঘিরে ভারত সীমান্তবর্তী যে বাংলাদেশি ভূখন্ড বিস্তৃত রয়েছে সেখানে শ্রীচৈতন্যের অন্যতম পারিষদ অদ্বৈত মহাপ্রভুর জন্মস্থান। মধ্যযুগীয় বৈষ্ণব সাহিত্যের অনেক অমরকীর্তি এই এলাকায় এবং এলাকার মানুষের হাতে রচিত হয়েছে। প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ফলে সেইসব ঐতিহাসিক নিদর্শন লুপ্তপ্রায়।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি বলেন আপনারা জানেন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সম্পাদক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। তাঁর সুষ্ঠু চিকিৎসার জন্য সব মহল থেকে সহায়তা করা হচ্ছে। আমরা আশাবাদী তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন। এসময় তিনি সদ্য প্রয়াত সাংবাদিক মরহুম আজিজুল ইসলাম চৌধুরীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন।
শনিবার সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের শুরুতে নারী নেত্রী, সংগঠক এবং জেলা উদীচীর সভাপতি শীলা রায়, কন্ঠ সংগীতে মনোরঞ্জন চন্দ, নৃত্যকলায় তুলিকা ঘোষ চৌধুরী কে জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা ২০১৭ প্রদান করা হয়। এছাড়াও চারুকলায় ধ্রুব এষ এর পক্ষে তাঁর ছোট ভাই সিদ্ধার্থ এষ এবং প্রয়াত মানস রঞ্জন রায় এর পক্ষে তাঁর মেয়ে সুস্মিতা রায় সম্মাননা গ্রহণ করেন। এরপর প্রধান অতিথিদের উত্তরীয় পড়িয়ে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছঅড়াও অনুষ্ঠানে মহাকবি সঞ্জয় স্মারক স্তম্ভের নকশাকার এবং স্থাপত্য প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা ত্রেস্ট প্রদান করেন অতিথিরা।
জেলা প্রশাসক শেখ সাবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান, কবি ও গবেষক ড. মোহাম্মদ সাদিক, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাশ, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ নীলিমা চন্দ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. মল্লিক মঈনুদ্দীন সোহেল, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শামসুল আবেদীন সহ সম্মাননা প্রাপ্ত গুণিজনরা।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রসেনিয়াসের সাবেক দলনেতা দেবাশীষ তালুকদার শুভ্র এবং এনটিভির জেলা প্রতিনিধি দেওয়ান শাহজামান চৌধুরী গিয়াস।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম বলেন, ‘সুনামগঞ্জের মাটি সোনা ফলায়। কারণ শুধু সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেই নয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উচ্চ পদেও এ জেলার কৃতী সন্তানেরা আছেন। পিএসসি চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, প্রথম নারী সলিসিটর, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সহ অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। এসময় তিনি সুনামগঞ্জ জেলাকে সাংস্কৃতিক রাজধানী ঘোষণা করার দাবি জানান।
মহাকবি সঞ্জয় স্মারকস্তভের উদ্বোধন
এদিকে মহাভারতের প্রথম বাংলা অনুবাদক মহাকবি সঞ্জয়ের স্মারকস্তম্ভ উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন প্রাঙ্গণে স্মারকস্তম্ভের উদ্বোধন করেছেন বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান, কবি ও গবেষক ড. মোহাম্মদ সাদিক। স্মারকস্তম্ভের নকশা করেছেন ‘ক্ষেত্র স্থপতি’ নামক ঢাকার একটি স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান।
আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন
এরপর সুনামগঞ্জের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিয়ে জেলা প্রশাসক মো: সাবিরুল ইসলামের তোলা ফটোর প্রদর্শনী উদ্বোধন করা হয়। প্রদর্শনীতে ৯৬টি ছবি স্থান পেয়েছে।