সংখ্যালঘুরা বেশি নির্যাতিত আ.লীগ আমলে -কাদেরকে রিজভী

সু.খবর ডেস্ক
বিএনপি ক্ষমতায় এলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার হবে বলে ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের জবাব এসেছে বিএনপির পক্ষ থেকে। দলের মুখপাত্র রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সংখ্যালঘুরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত ও নিরাপত্তাহীন থাকে আওয়ামী লীগের আমলে।
মঙ্গলবার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।
রিজভী বলেন, ‘ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর খুন, জখম, ধর্ষণ,অত্যাচারের বর্বোরচিত পৈশাচিকতা আওয়ামী লীগের শাসন আমলেই ঘটে, আওয়ামী লোকজনদের দ্বারাই। আওয়ামী এ আমলেও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অনেক ঘটনা এখনও রহস্যজনক।’
‘তাদের ব্যক্তিগত, সাংগঠনিক ও ধর্মীয় সম্পত্তির ওপরও আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ-ছাত্রলীগের লোকেরা হামলা করেছে। আওয়ামী লীগের লোকেরাই তাদের ঘর-বাড়ি জায়গা জমি দখল করেছে, আগুন দিয়ে মন্দিরসহ তাদের উপাসনালয় জ্বালিয়ে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ভিকটিম করে শুধুমাত্র ক্ষমতায় টি কে থাকার জন্য।’
জঙ্গি হামলায় ব্লগার অভিজিৎ হত্যার কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের উপস্থিতির ১০ গজের মধ্যে এ হত্যাকা- ঘটে। সে সময় বই মেলা চলায় সারা বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা ছিল। তাহলে কীভাবে অভিজিৎ রায় খুন হলেন? এর দায় তো সরকারের।’
‘এভাবে পুরোহিত, গির্জার ধর্মীয় যাজকসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ধর্মগুরুদের হত্যা করা হয়েছে-যার রহস্য আজও উদঘাটিত হয়নি। হীন উদ্দেশ্য নিয়েই ওবায়দুল কাদের সাহেবরা সাম্প্রদায়িক বিভাজনের জিকির তুলছেন।’
গত রবিবার রাজধানীতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্মাষ্ঠমীর এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়টি তুলে ধরেন। বলেন, ‘আপনাদের কি ২০০১ সালের কথা মনে আছে? ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বে সাম্প্রদায়িক শক্তি ক্ষমতায় এলে বিভীষিকা আর অন্ধকার নেমে আসে।’
‘সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সারা বাংলায় নিপীড়িত হয়, নির্যাতিত হয়, ধর্ষিত হয়, ফাহিমা-পূর্ণিমা এদের কথা কি আপনাদের মনে আছে? কত হিন্দু রমনীকে পৈশাচিকভাবে ধর্ষণ করেছে ওই বর্বর শক্তি। কত হিন্দু বাড়িঘর হারিয়েছে। নিরীহ মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়ে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
‘এবার সেই অপশক্তি আবার ক্ষমতায় আসতে পারলে ২০০১ সালের চেয়েও ভয়াবহ রক্তাক্ত সময় আপনাদের জন্য ঘনিয়ে আসবে।’
‘কাদেরের বক্তব্য ধর্মীয় উস্কানি’
রিজভী অভিযোগ করেন, ‘জনবিচ্ছিন্ন’ সরকার ধর্মীয় উস্কানি দিয়ে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে।
‘ক্ষমতার মোহে মশগুল হয়ে আওয়ামী নেতারা মনের বিকারে প্রলাপ বকতে গিয়ে এখন সাম্প্রদায়িকতাকে সামনে নিয়ে আসছে। তারা ক্ষমতায় থাকার জন্য রাষ্ট্র সমাজের স্থিতিকে ভেঙে ফেলতে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।’
‘বর্তমান অবৈধ শাসকগোষ্ঠী ক্রমাগত জনবিচ্ছিন্ন হতে হতে ব্যর্থতার অন্ধগলিতে পথ হারিয়ে এখন চক্রান্তের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। সেই জন্য তারা সাম্প্রদায়িকতার ধ্বজাতুলে কোন খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাচ্ছে।’
‘তোফায়েলের পরিসংখ্যানের উৎস কী?’
বিএনপি ক্ষমতায় আসলে এক লাখ মানুষকে হত্যা করা হবে বলে আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদের বক্তব্যেরও জবাব দেন রিজভী। বলেন, ‘এ তথ্য কোন পরিসংখ্যান ব্যুরো থেকে সংগ্রহ করেছেন তোফায়েল আহমেদ-এটি জানতে জানতে চায়।’
‘এ তথ্যের উৎস কি হাসানুল হক ইনু, না সজীব ওয়াজেদ জয়? এক লাখ লোক মারা যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কেন তোফায়েল আহমেদ? আপনাদের কোন অপকর্মের কারণে আপনাদের এ আশঙ্কা করছেন?’
‘বিএনপিতো এর আগে অনেকবার ক্ষমতায় এসেছে কিন্তু কোথাও তো রক্তক্ষরণের কোন দৃষ্টান্ত নেই।
ৃবিএনপি প্রতিহিংসা প্রতিশোধের রাজনীতি করে না। বিএনপির সময়ই মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পেরেছে।’
‘নিজেদের অপকর্মের প্রতিশোধ হতে পারে এ আশঙ্কায় কি তোফায়েল আহমেদ সাহেবরা মানুষ হত্যার কাল্পনিক তথ্য দিচ্ছেন?’-প্রশ্ন রাখেন রিজভী।
সরকার আতঙ্কে ভুগছে দাবি করে রিজভী বলেন, ‘গুম, খুন, বিচারবর্হিভূত হত্যা, দুর্নীতি দুঃশাসনের কাদায় আটকে পড়ে এখন বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মরণ কামড় দিচ্ছে। পুরোনো মামলা চালু করা এবং নাশকতার অভিযোগ এনে দেশব্যাপী মামলা জড়ানো হয়েছে নেতা-কর্মীদের।’
সূত্র : ঢাকাটাইমস