সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন করতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুপুর ১২ টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমী চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত উপস্থিত ছিলেন।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নৃপেশ তালুকদার নানু’র সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জয়ন্ত সেন দিপু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আরো সক্রিয় ও দাবি আদায়ে সোচ্চার হতে হবে। নিজেদের কৃষ্টি-সংস্কৃতি রক্ষায় যুব সমাজকে জাগতে হবে, জাগিয়ে তুলতে হবে। মুক্তিযুদ্ধে চেতনা লালন করে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। আগামীর সুন্দর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সকলের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. তাপস কুমার পাল।
তিনি বলেন, ‘সংখ্যালঘুরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে বিশ্বাসী। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠনে তারা কাজ করছেন। কিন্তু স্বৈরাচারী এরশাদ বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। ভোটের সুবিধার্থে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম বানিয়েছে। হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি করেছে। হিন্দুদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সংখ্যালঘুতে পরিণত করেছে। প্রকৃত পহেলা বৈশাখকে বাদ দিয়ে ১৪ এপ্রিলকে নববর্ষ তৈরি করেছে। অথচ পার্শ¦বর্তী হিন্দু প্রধান ভারতে তাদের রাষ্ট্রধর্ম বলতে কিছু নেই। ধর্ম নিরপেক্ষ হিসেবে সবাই নিজেদের অধিকার নিয়ে চলছে। সেখানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয়, কমিশন ও সুরক্ষা আইন রয়েছে। ’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় করতে হবে। সংখ্যালঘু কমিশন ও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন তৈরি করতে হবে। নির্বাচনের আগে-পরে তাদের নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যালঘু নির্যাতনকারীদের মনোনয়ন প্রদান থেকে বিরত রাখতে হবে। নির্যাতনকারী ও জমি দখলকারী কাউকে মনোনয়ন দিলে তিনি যেই দলের প্রার্থীই হোন না কেন, তাকে বর্জন করা হবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত কুমার দেব, যুগ্ম সাধারণ সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা ও সাংগঠনিক সম্পাদক শংখ শুভ্র রায়, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি দ্বিপক ঘোষ, ফেনারবাঁক ইউপি চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু তালুকদার, সিনিয়র আইনজীবী ও কথা সাহিত্যিক স্বপন কুমার দেব, সুনামগঞ্জ রামকৃষ্ণ আশ্রম পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক যোগেশ্বর দাশ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাড. মলয় চক্রবর্তী রাজু, হবিগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অনুপ কুমার দেব, সুনামগঞ্জ জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব, সুনামগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর চঞ্চল কুমার লৌহ।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, সাবেক পৌর কাউন্সিলর আরতি তালুকদার কলি, আওয়ামী লীগ নেতা জিতেন্দ্র তালুকদার পিন্টু, সদর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. প্রনব কুমার দাস নিলু, ছাত্র যুব ঐক্য পরিষদের নেতা রিংকু চৌধুরী, দিরাই উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুরঞ্জন রায়, জগন্নাথপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সতীশ গোস্বামী, জামালগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শম্ভু আচার্য, দোয়ারাবাজার উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অজিত চন্দ্র দাস, ছাতক উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পিযুষ ভট্টাচার্য, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দিলীপ তালুকদার, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার বর্মন, মধ্যনগর থানা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিদ্যুৎ কান্তি সরকার, তাহিরপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহবায়ক সুভাস পূরকায়স্থ, শাল্লা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব তরুন কান্তি দাস, ধর্মপাশা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি যতীন্দ্র সরকার।
আলোচনা সভার শুরুতে বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমল বণিক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিমান রায় ও অনীশ তালুকদার বাপ্পু।
সম্মেলনে প্রথম পর্বের আলোচনা সভার পর জেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। নতুন কমিটি গঠনে সাধারণ সম্পাদক পদে বিমল বণিক ও বিমান রায়ের নাম নিয়ে আলোচনা হয়। তবে কোন সমঝোতা না হওয়ায় কমিটি ঘোষণা ছাড়াই কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সুনামগঞ্জ ত্যাগ করেন।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি নৃপেশ তালুকদার নানু বলেন, ‘বর্ণাঢ্য আয়োজনে জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ঢাকায় গিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন।