সংগঠনকে চাঙ্গা করতে আসছে নানা নির্দেশনা

বিন্দু তালুকদার
ছাত্র আন্দোলনের সাথে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দলগুলোর অপপ্রচার ও অপতৎপরতা রোধে দলীয় নেতাকর্মীদের বিশেষ নির্দেশনা দিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ।
ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগকে নির্দেশনা প্রদান করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
সোমবার দুই দফা নির্দেশনা দিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেয়া হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মতিউর রহমানকে।
নির্দেশনা বাস্তবায়নে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিশেষ সভা আহবান করা হয়েছে। সভায় সংগঠনের জেলা ও উপজেলা কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও সকল অঙ্গ সংগঠনের জেলা ও উপজেলা কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। এদিকে এই সভার উপর একটি বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন তৈরি করতে যেয়ে জেলার কয়েকজন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতার সাথে আলোচনা করলে তাদের মুখে পরিষ্কার হতাশার চিহ্ন পাওয়া যায়। এই নেতারা মনে করেন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্যে বর্তমানে সমন্বয়ের তীব্র ঘাটতি রয়েছে। দলে তৃণমূলের প্রবীণ ও ত্যাগী নেতারা উপেক্ষিত থাকছেন। তাঁরা ঐতিহ্যবাহী এই দলটিকে জনগণের কাছে অধিকতর গ্রহণযোগ্য করতেও নানা পরামর্শ দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশজুড়ে ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনের নামে সরকারি বিরোধী অপপ্রচার প্রতিরোধের উদ্যোগ নিতে সার্বক্ষণিক মাঠে তৎপর থাকতে দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আজকের সভায় জেলা নেতৃবৃন্দ এ লক্ষ্যেই বিভিন্ন কমিটির নেতৃবৃন্দকে অনুপ্রাণিত করবেন বলে জানা গেছে।
আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি ও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি জামায়াতে ইসলামীর সরকার বিরোধী তৎপরতা ও নাশকতা রোধের নির্দেশনা তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের কাছে পৌঁছে দেয়ার কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। ছাত্রদের আন্দোলনে যাতে বিএনপি, ছাত্রদল, জামায়াতে ইসলাম ও ছাত্র শিবিরের কর্মীরা অংশ নিতে না পারে সে লক্ষ্যে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সক্রিয় থাকার জন্য বলা হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোন অপশক্তি যাতে উস্কানি দিয়ে সাধারণ মানুষ ও ছাত্রদের দিয়ে বিশৃংখলা সৃষ্টি না করতে পারে সেজন্য নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকা ও সরকারের সকল উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড সাধারণ মানুষের কাছে তোলে ধরার নির্দেশনা দেয়া হবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম বলেন,‘তৃণমূলের সাথে কেন্দ্রের সমন্বয় নেই, আবার কেন্দ্রের সাথে তৃণমূলের যোগাযোগ নেই। তৃণমূলের কর্মীদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে। আগের মত দলে এখন তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব নেই। দেশ ও সাধারণ জনগণের উন্নয়নে প্রকৃত রাজনীতির চর্চা হচ্ছে না। রাজনীািত এখন পোস্টার ও ব্যানার কেন্দ্রীক হয়ে পড়েছে। ত্যাগী নেতাকর্মীরা উপেক্ষিত ও অবহেলিত। তাদের ভাল কাজে ডাকা হয় না। বিরোধীদের অপপ্রচার ও অপতৎপরতা রোধে ও সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড তোলে ধরা সহ তৃণমূলের হতাশা দূর করতে জরুরিভিত্তিতে মাঠে নামতে হবে। ’
জামালগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আল আজাদ বলেন,‘আওয়ামী লীগকে ব্যক্তি ও পারিবারিক দলে সীমাবদ্ধ না রেখে এটিকে গণমানুষের দল করতে হবে। তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদেরকে দলের কাজে লাগাতে হবে। দলের মধ্যে তাদের গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি করতে হবে। কারণ আওয়ামী লীগের প্রতি এখনও সাধারণ মানুষের অনেক আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। এই দলের নেতৃত্বে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বার বার এই দল রাজপথে সফল হয়েছে। দলের সকল কর্মকান্ড গ্রাম ও পাড়া-মহল্লায় ছড়িয়ে দিতে হবে। কঠিন হস্তে স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের অপতৎপরতা রোধ করতে হবে। আগামী নির্বাচনের জন্য এখন থেকেই সেন্টার কমিটিগুলো গঠন করতে হবে, তাহলে দলের নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হবে। ’মধ্যনগর থানার আবিদনগর গ্রামের প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল করিম বলেন,‘ আগের আওয়ামী লীগ আর এখনের আওয়ামী লীগ এক নয়। এখন যারা উপার্জন করে দিতে পারে দলে তাদের মূল্যায়ন করা হয়। রাজনীতি এখন ব্যবসা-বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও সরকার বিরোধীরা অপপ্রচারে লিপ্ত। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতকমীরা তেমন সরব নয়। ’
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মতিউর রহমান বলেন,‘বিএনপি-জামায়াত-শিবির চক্র বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলনে ঢুকে এরা সারা দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ছাত্রদের দাবি মেনে নিয়েছেন। সরকার বিরোধী অপতৎপরতা রোধে তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগ ও সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সজাগ থাকতে হবে। সরকারের সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড জনগণের কাছে তোলে ধরার নির্দেশনা রয়েছে। ছাত্র আন্দোলন যেন কেউ ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি না করতে পারে সে লক্ষ্যে উস্কানিদাতাতের প্রতিরোধ করার ও মিথ্যা গুজব থেকে সবাইকে দূরে থাকার আহবান জানানোর নির্দেশনা রয়েছে। আজকের সভায় কেন্দ্রীয় নির্দেশনা জানিয়ে দেয়া হবে। ’