সংগ্রামী কিশোরী মাজেদাকে স্বাবলম্বী করার চেষ্টা

এনামুল হক এনি, ধর্মপাশা
ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের হলিদাকান্দা গ্রামের সংগ্রামী কিশোরী মাজেদা আক্তারকে স্বাবলম্বী করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি চেষ্টা চলছে তার পরিবারের লোকজনের খাদ্য নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টিও। নিজেকে স্বাবলম্বী করতে মাজেদাও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মাজেদা প্রতিদিন অংশগ্রহণ করছে সেলাই প্রশিক্ষণে। গত ২৭ জুন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অধীনে উপজেলা পর্যায়ে মহিলাদের জন্য আয়বর্ধন প্রকল্পের আওতায় সেলাই প্রশিক্ষণ ট্রেডে তাকে ভর্তি করে দেওয়া হয়েছে। বেশ মনযোগের সাথেই সেলাই কাজ শিখছে মাজেদা। গত ২৮ জুন ‘সমকাল’ ও ‘দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর’এ ‘ধর্মপাশার সংগ্রামী মাজেদা শিখবে সেলাই কাজ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে সংবাদটি ধর্মপাশা উপজেলার চামরদানি ইউনিয়নের আমজোড়া গ্রামের বাসিন্দা স্পেন প্রবাসী মো. ইমরুল ইসলাম খান পলাশের নজর কাড়ে। তিনি মাজেদার জন্য একটি সেলাই মেশিনের ব্যবস্থা করেছেন।
মো. ইমরুল ইসলাম খান পলাশ বলেন, ‘মা বাবা ভাই বোনদের খাদ্য যোগাতে যে কিশোরী রিকশা চালানোর মতো কঠিন কাজ বেছে নিতে পারে সে কিশোরী একদিন সফল হবে তা হলফ করে বলা যায়। তার অদম্য ইচ্ছা শক্তিকে শ্রদ্ধা জানাই।’
টিনের দু’চালা ছোট্ট একটি ঘরে মাজেদার পরিবারে সাত সদস্যের বসবাস। সেই ঘরে নেই কোনো খাট বা চৌকি। ফলে তাদেরকে ঘুমাতে হয় মাটিতে বিছানা করে। এতে করে মাজেদার তিন মাস বয়সী ছোট ভাইটিকে ঠান্ডাজনিত অসুখে ভোগতে হচ্ছে। এই কষ্ট লাঘবে এগিয়ে এসেছেন উপজেলা সদরের নাহিয়ান বিদ্যা নিকেতন কর্তৃপক্ষ। এ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একটি কাঠের চৌকির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও এ প্রতিষ্ঠান থেকে এককালীন ৫০ কেজি চালসহ প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নাহিয়ান বিদ্যা নিকেতনের পরিচালক শামীম আহমেদ বলেন, ‘মাজেদা তার অদম্য ইচ্ছা শক্তির জন্য একদিন ঘুরে দাঁড়াবে। তাকে স্বাবলম্বী করতে আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’
গত ২২ জুন ‘সমকাল’ ও ‘দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর’এ প্রকাশিত মাজেদার সংগ্রামী জীবনের খবর নজর কেড়েছে হাজার মাইল দূরে থাকা দুবাইস্থ ‘ধর্মপাশা দুবাই প্রবাসী জনকল্যাণ সমিতি’র সদস্যদের। সম্প্রতি এ সংগঠনের সহ-সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজন প্রবাসী দেশে এসেছেন। প্রবাসে থাকা এ সংগঠনের অন্য সদস্যরা যোগাযোগ করতে থাকেন তাদের সাথে। অবশেষে মাজেদাকে স্বাবলম্বী করতে ১০ হাজার টাকা অনুদানের ব্যবস্থা করেছেন তাঁরা।
‘ধর্মপাশা দুবাই প্রবাসী জনকল্যাণ সমিতি’র সহ- সাধারণ সম্পাদক মো. আশিক বলেন, ‘আমরা চাই মাজেদা স্বাবলম্বী হউক। নিজের পায়ে দাঁড়াক। সমাজের বিত্তবানদের উচিত মাজেদার পাশে দাঁড়ানো।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে সেলাই মেশিন, ১০ হাজার টাকা ও চৌকি এবং খাদ্য সামগ্রী মাজেদার কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল মোতালিব খান, ভাইস চেয়ারম্যান মোসাহিদ তালুকদার, ইউপি সদস্য আবুল কাশেম, নাহিয়ান বিদ্যা নিকেতনের পরিচালক শামীম আহমেদ, প্রধান শিক্ষক মালতী রাণী কর, সহকারি শিক্ষক জেসমিন আক্তার, আশিকুর রহমান রবি, মো. জালাল মিয়া, নীপা রাণী সরকার, শম্পা রাণী সরকার, মো. আবু বকর, প্রবাসী মো. আশিক, মো. আরফান, মো. মজিদ প্রমুখ।