- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - http://sunamganjerkhobor.com -

সংস্কৃতি চর্চার সুযোগগুলোকে অবারিত করে রাখা উচিৎ

জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবরটি নিতান্তই দুর্ভাগ্যজনক। এ হলো এক অনিন্দ্যসুন্দর প্রতিমা, প্রাণহীন। বিদ্যুৎ নাগরিক সভ্যতার প্রাণ। সবকিছু থাকলেও কেবল বিদ্যুতের অনুপস্থিতি ওই সবকিছু থাকাকে নিমিষে অর্থহীন করে তোলে। যেমন প্রায়শই অর্থহীন হয়ে উঠে শিল্পকলার নানা অনুষ্ঠান। আয়োজক সংগঠনগুলো বহু দিন ধরে প্রস্তুতি নিয়ে একটি অনুষ্ঠান মঞ্চে আনে চূড়ান্ত প্রদর্শনের জন্য। হলভর্তি দর্শকদের সামনে পারফর্ম করার জন্য উন্মুখ থাকেন শিল্পী কলা-কুশলীরা। কিন্তু বিদ্যুৎ নামক এক অশুভ খলনায়ক সবকিছু ভ-ুল করে দেয়। মঞ্চায়নের শুরুতে, মাঝখানে, শেষপ্রান্তে; যেকোনো সময় বিদ্যুৎকর্তা মিলনায়তন থেকে সটকে পড়েন আর অন্ধকার নেমে আসে পুরো মিলনায়তনে। বন্ধ হয়ে যায় শিল্পীদের পরিবেশনা, দর্শকরা হত-বিহ্বল হয়ে যান। এই কারণে কোন কোন সময় অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত সর্বনাশও ঘটে থাকে। যেকোনো সাংস্কৃতিক সংগঠনের একমাত্র উদ্দেশ্য থাকে দর্শকদের আনন্দ দান এবং বেলাশেষে দর্শকদের মুখে সন্তুষ্টি ফুটিয়ে তোলা। কিন্তু যখন কোন সংগঠন দর্শকদের সামনে পরীক্ষা দেয়া ছাড়াই মিলনায়তন ছাড়তে বাধ্য হয় তারা নিশ্চিতভাবেই দুর্ভাগা। বলাবাহুল্য সুনামগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এমন দুর্ভাগ্য বরণ করতে হয় প্রায়শই।
জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে বিদ্যুৎ দুর্দশার উপর গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। প্রতিবেদনে বিভিন্ন সংস্কৃতি সংগঠক ও শিল্পীরা এই কারণে হতাশা প্রকাশ করেছেন। প্রতিবেদনসূত্রে জানা যায়, শিল্পকলার অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে ত্রুটি রয়েছে। এছাড়া বিদ্যুতের ঐতিহ্যবাহী লোডশেডিং কিংবা যান্ত্রিক ত্রুটি তো রয়েছেই। শিল্পকলায় বিদ্যুৎবিভ্রাটের এই দুই প্রধান কারণ। সংস্কৃতি সংগঠকদের দাবি শিল্পকলায় একটি শক্তিশালী জেনারেটরের ব্যবস্থা করা হোক। এছাড়া বর্তমান ওয়ান ফেইজ বিদ্যুৎ সংযোগকে ডাবল ফেইজ সংযোগে পরিণত করা হোক। এছাড়া অভ্যন্তরীণ সঞ্চালন লাইন মেরামতের বিষয়টি তো অবশ্য করণীয়।
জাতি ও এলাকার সাংস্কৃতিক পরিচয়কে উদ্ভাসিত করা ও মান বাড়াতে তৈরি করা হয়েছে এই সুবিশাল ও দৃষ্টিনন্দন শিল্পকলা একাডেমি। এই নতুন ভবন তৈরির পর প্রায় পুরো বছরই নানা আয়োজনে মুখরিত থাকে একাডেমি। সংস্কৃতি চর্চার এই জায়গাটিকে কেন্দ্র করে উজ্জীবিত হয়েছে জেলার সাংস্কৃতিক কর্মকা-। নাটক, গান, আবৃত্তি ইত্যাদি অনুষ্ঠান এখন বছরব্যাপীই লেগে থাকে। এর বাইরেও রয়েছে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নানা অনুষ্ঠানমালা। বলাবাহুল্য জাতির পরিচয় ফুটে উঠে তার সংস্কৃতিতে। জাতি যখন নিজ সংস্কৃতি চর্চায় ব্যাপৃত থাকে তখন সেই জাতি ক্রমশ উন্নতির শিখরে আরোহণ করে। স্ব-সংস্কৃতি বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা জাতির অধঃপতন রোধ করার সাধ্যি কারও নেই। আজ বিশ্বব্যাপী যে সন্ত্রাস, অবিচার, বিভেদ, দুর্নীতি; তার পেছনে সংস্কৃতিবিচ্ছিন্নতার যোগসূত্র একেবারে প্রত্যক্ষ। তাই নিজের সংস্কৃতিতে প্রত্যাবর্তন ঘটানো এবং সুসংস্কৃতি বিশ্বনাগরিক রূপে পুরো পৃথিবীকে আলোকিত করার অভিপ্রায় প্রতিটি নাগরিকের। এই অভিপ্রায়ের জায়গায় সংস্কৃতি চর্চার সুযোগগুলোকে অবারিত করে রাখা হলো প্রধান শর্ত। সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি বিদ্যুৎবিভ্রাটের কারণে আজ যে স্থবিরতার বৃত্তে আটকে গেছে, নিঃসন্দেহে সেটি আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির প্রবাহকে রুদ্ধ করবে। তাই অনতিবিলম্বে এই সমস্যার সমাধান আবশ্যক।
যেখানে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সুরম্য ভবন তৈরি করা সম্ভব হয়েছে সেখানে সামান্য বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে এটি খর্বিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হোক তা আমরা চাই না। আমরা চাই শিল্পকলা সর্বতোভাবে সক্ষম প্রতিষ্ঠানে পরিণত হোক। তবেই না এই প্রতিষ্ঠান থেকে আলো ছড়াবে, সংস্কৃতিকর্মীরা আলো বিলোবেন।