সতর্কতাই পারে ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করতে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এরই মধ্যে কভিড ১৯ কে মহামারী বলে বর্ণনা করেছে এবং এর বিস্তৃতির প্রধান কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, বেশির ভাগ দেশই এটাকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়নি। ইতালি প্রথমে এটাকে চীনা ও এশীয় সমস্যা এবং তাদের দেশে মহামারী হতে পারে না এমন ধারণার বশবর্তী হয়ে সাধারণ ফ্লুর মতো কেটে যাবে বলে ভাবে। ফলে অরক্ষিত বন্দরগুলোর মাধ্যমে রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের আগমন বাড়তে থাকে এবং এটা সংক্রমিত হতে থাকে। এখন তাদের টনক নড়েছে। সর্বাত্মকভাবে তারা এখন পরিস্থিতির মোকাবেলা করছে। দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ব্যাপক উন্নত হওয়ার পরও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। আমাদের মতো দুর্বল স্বাস্থ্যসেবার দেশে করোনার মতো সর্বগ্রাসী এক রোগের চিকিৎসা কীভাবে প্রদান করা হবে, তার কোনো রূপরেখা এখনো স্পষ্ট নয়। ডাক্তারদের পর্যাপ্ত উপকরণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি এখনো। আক্রান্ত ও তারা যাদের সংস্পর্শে এসেছে, তাদের শনাক্ত করে চিকিৎসা প্রদান ও নজরবন্দি করতে হবে। আক্রান্তদের সেবা স্বাস্থ্যকর্মীরাই দেবেন, তাদের তৈরি করতে হবে। তাদের নিরাপত্তার কথা ভাবতে হবে। সব স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য পর্যাপ্ত পার্সোনাল সেফটি ইকুইপমেন্টের ব্যবস্থা করতে হবে। পর্যাপ্তসংখ্যক টেস্ট কিট সংগ্রহ করতে হবে। হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত করতে হবে। মহামারী ঠেকানোর একমাত্র পথ হলো এটা ও এর ব্যাপকতাকে স্বীকার করে নেয়া। যেহেতু কভিড ১৯ প্রবাসী যাত্রীদের মাধ্যমে ছড়ায়, তাই সুস্থ ও অসুস্থ যাত্রীদের আলাদা করে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিন করতে হয়। এদিকে বাজারে জিনিসপত্র না পাওয়া ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির আতংকে জেলার হাট বাজারে লোক সমাগম বৃদ্ধি পেয়েছে। অতিরিক্ত কেনাকাটা করতেও দেখা গেছে মানুষজনদের। সব ধরণের সমাবেশ নিষিদ্ধ হলেও বাজারে সবসময় তৈরি হচ্ছে কেনাকাটার জমায়েত। ভাইরাসের সংক্রামন রোধ করতে ওয়াজ মাহফিল, ধর্মীয় সভা-সমাবেশ, কীর্তন, প্রার্থনা অনুষ্ঠান, ওরশ মেলা, রাজনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিক আচার অনুষ্ঠানাদি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু নির্দেশনা না মানায় ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা। করোনাভাইরাসের কোনো টিকা বা ভ্যাকসিন এখনও তৈরি হয়নি। ফলে এমন কোনো চিকিৎসা এখনও মানুষের জানা নেই, যা এ রোগ ঠেকাতে পারে। আপাতত একমাত্র উপায় হলো আক্রান্তদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা। ঘরে এবং বাইরে ব্যক্তি পর্যায়ের সতর্কতাই এই ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এসব সাময়িক সতর্কতা মাত্র। ব্যক্তিবিশেষের সামান্য সতর্কতা সমাজ, দেশ ও জাতির জন্য অসামান্য অবদান রাখতে পারে।