সতর্কতা ও স্বাস্থ্যবিধিই ভরসা

সীমিত পরিসরে বাস, ট্রেন ও লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সাধারণ ছুটির মেয়াদ না বাড়িয়ে শর্তসাপেক্ষে সীমিত আকারে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসগুলো নিজ ব্যবস্থায় খোলা রাখার কথা বলা হয়। সরকারের এ সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগসহ নানা মাধ্যমে অনেকে সমালোচনা করলেও অর্থনীতি সচল রাখার প্রয়োজনে এর বিকল্প কী?
ভাইরাসের সংক্রমণ ও বিস্তার থেকে সুরক্ষায় ২৬ মার্চ থেকে কয়েক দফায় সাধারণ ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। এখন প্রশাসনের তরফ থেকে শর্তসাপেক্ষে ও সীমিত পরিসরের কথা বলা হয়েছে সত্য, এসব শর্ত মানার দায়িত্ব সবার। মনে রাখা দরকার, করোনার ঝুঁকি এখনও শেষ হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসেবেই, এখনও প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই হাজার নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে। গতকাল চল্লিশজন করে মানুষ মারা যাচ্ছে। এ অবস্থায় সবকিছু খুলে দিলে করোনা আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়বে বলেই বিশেষজ্ঞদের ধারণা। ফলে করোনার এ ঝুঁকি কমাতে প্রত্যেককেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
করোনা থেকে সুরক্ষায় ব্যক্তির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানেরও করণীয় রয়েছে। যারা অফিস-আদালত, কল-কারখানায় যাবেন তাদের যাতায়াত ব্যবস্থা সর্বাগ্রে সুরক্ষিত হওয়া চাই। কাউকে গণপরিবহন ব্যবহার করতে হলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বনের নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে। প্রত্যেকে যাতে মাস্ক ব্যবহার করে ও যথাযথ শারীরিক দূরত্ব মেনে চলে, সেদিকে নজর রাখা চাই।
স্বস্তির বিষয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে না। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী এ সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকলে পরিস্থিতি আরও নাজুক হতে পারে। শিক্ষার্থীদের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংক্রমণ কমার পরই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
প্রশাসনের তরফ থেকে যেসব সতর্কতা ও শর্তের কথা বলা হয়েছে, তা বাস্তবে মানা হচ্ছে কি-না সেটি তদারকির ব্যবস্থাপনা থাকা চাই। কেউ অসুস্থ থাকলে কিংবা কর্মস্থলে অসুস্থ হয়ে পড়লে সেক্ষেত্রেও নির্দেশনা প্রয়োজন। তবে মূল দায়িত্ব পালন করতে হবে ব্যক্তি নিজেকেই। প্রত্যেকে সতর্ক হলে, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে নিজের সুরক্ষা যেমন হবে, তেমনি আরেকজনও নিরাপদ হবে।