সত্তরের নির্বাচনে অংশগ্রহণের কারণেই দেশ স্বাধীন হয়েছে

সু.খবর ডেস্ক
বঙ্গবন্ধু সত্তরের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কারনেই বাংলাদেশ স্বধীনতা লাভ করে বলে মন্তব্য করেছেন বানিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। শুক্রবার ৪৭ তম সংবিধান দিবস উপলক্ষে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আয়োজনে এক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।
বানিজ্যমন্ত্রী বলেন, যেসকল দল নির্বাচনে অংশগ্রহন করবে না তাদের পরিনতি মওলানা ভাষানীর দলের মতো হবে। ‘৭০ এর নির্বাচনে মওলানা ভাষানী বলেছিলেন, ‘ভোটের বাক্সে লাথি মারো, বাংলাদেশ স্বাধীন কর’। কিন্তু বঙ্গবন্ধু নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয় লাভ করেছিল। বঙ্গবন্ধুর নির্বাচনে অংশগ্রহনের ফলেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বাস্তবতার নিরিখে ৭২ এর সংবিধানের কয়েকটি ধারা বর্তমান সংবিধানে অন্তর্ভূক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে এই কয়েকটি ধারা বাদ দিলে বলা যায় আমরা ৭২ এর সংবিধানে ফিরে এসেছি।
জাতীয়ভাবে ৪ নভেম্বরকে সংবিধান দিবস ঘোষনা করার দাবির প্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, এবারের মতো আর সুযোগ নেই। কারণ সংসদ ইতোমধ্যে অকার্যকর হয়ে গেছে। তবে আগামীবার ক্ষমতায় আসলে বিষয়টি আমি সংসদে উত্থাপন করব। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টকে উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ভেতরে থেকে আপনাদের যেসকল দাবি মেনে নেওয়া সম্ভব প্রধানমন্ত্রী তা মেনে নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যাদের বিরুদ্ধে কোন মামলা ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই আইনশৃংক্ষলা বাহিনী তাদের গ্রেফতার করবে না। এসময় তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে একাদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহন করার আহবান জানান।
আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতে সূচনা বক্তব্যে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার অন্যতম কারণ ছিল ৭২ এর সংবিধান। কারন এ সংবিধান পাকিস্তানের দোষররা মেনে নিতে পারেনি।
তিনি বলেন, ৭২ এর সংবিধান কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন ড. কামাল হোসেন। তার প্রণীত সংবিধানে তিনি জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিলেন। আজ সেই ড. কামাল হোসেন ৭২ এর সংবিধান হত্যাকরী জামাত-বিএনপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এসময় শাহরিয়ার কবির ৭২ এর সংবিধানকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তভুক্ত করার আহবান জানান।
আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থান করতে গিয়ে খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ বলেন, সংবিধান জনগনের জন্য রক্ষা কবজ। সংবিধান জনগনকে নিরাপত্তা দেয়, মত প্রকাশের স্বাধীনতা দেয়, এমনকি সভা-সমাবেশ করার অনুমতিও দেয়। তবে সভা-সমাবেশের নামে ধংসাত্মক কার্যক্রম পরিচালনার কোন অধিকার সংবিধান দেয় না। যারা সভা সমাবেশের নামে ধংসাত্মক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে জনগনের জান-মালের ক্ষতি সাধন করে তাদের বিচার সংবিধানের অলোকেই করা হবে।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা বিচারপতি শামসুদ্দিন মানিকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অংশগ্রহন করেন, বিচারপতি শামসুল হুদা, শিল্পি হাসেম খান, বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক মুনতাসির মামুন, সাহাবুদ্দীন চুপ্পু ও শহীদ সন্তান শমী কায়ছার।
সূত্র : জনকন্ঠ